০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ধবলধোলাই, তাইজুলের ঘূর্ণিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারাল টাইগাররা

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছে টাইগাররা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিল বাংলাদেশ।

পঞ্চম দিনের সকালে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে। জয়ের জন্য তাদের দরকার ছিল আরও ১২১ রান। উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান তখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বৃষ্টির কারণে ভেজা মাঠে খেলা দেরিতে শুরু হলেও পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ৩৫০ রান পার করে ম্যাচে টিকে থাকার চেষ্টা করে।

তাইজুলের ঘূর্ণিতে ভাঙল প্রতিরোধ

বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম। তিনি চতুর স্পিনে সাজিদ খানকে ২৮ রানে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। এই উইকেটের মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৮তম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই স্পিনার।

তাইজুলের ঘূর্ণি, ৩ উইকেটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

এরপর শরিফুল ইসলাম আঘাত হানেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ভরসা মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপর। অফস্টাম্পের বাইরে করা লেংথ বল কাট করতে গিয়ে গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন রিজওয়ান। ৯৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি।

রিজওয়ানের বিদায়ের পর খুব দ্রুত ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশ। তাইজুলের বলে খুররম শাহজাদ লং-অনে ক্যাচ দিলে ৩৫৮ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান। শেষ তিন উইকেট হারায় মাত্র ২৫ রানে।

লিটন-মুশফিকে গড়া জয়ের ভিত

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে ১২৬ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। সিরিজসেরা হন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। দুই ম্যাচে ২৫৩ রান করার পাশাপাশি তিনি একটি সেঞ্চুরিও করেন।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান তোলে বাংলাদেশ। শুরুতে ধাক্কা সামলেও লিটনের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। পরে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে আটকে দিয়ে ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে বাবর আজম ৬৮ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন।

ধবলধোলাই হলো পাকিস্তান, টানা ৪ টেস্টে বাবর-রিজওয়ানদের হারালো বাংলাদেশ -  NewsNow24

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। ৩৯০ রান তুলে পাকিস্তানের সামনে বিশাল ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় তারা। সেই ইনিংসে মুশফিকুর রহিম ২৩৩ বলে ১৩৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি, যা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক বানায়।

পাকিস্তানের লড়াইও থামাতে পারেনি বাংলাদেশ

চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। রিজওয়ান ও সালমান আগার মধ্যে ১৩৪ রানের জুটি ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। সালমান ৭১ রান করেন। তবে তাইজুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ধারাবাহিক ভ্যারিয়েশন পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে দেয়।

এর আগে তিনি বাবর আজমকে ৪৭ এবং অধিনায়ক শান মাসুদকে ৭১ রানে ফেরান। শেষ পর্যন্ত তার ৬ উইকেটই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পূর্ণ পয়েন্টও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ধবলধোলাই, তাইজুলের ঘূর্ণিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারাল টাইগাররা

০১:২১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছে টাইগাররা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিল বাংলাদেশ।

পঞ্চম দিনের সকালে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে। জয়ের জন্য তাদের দরকার ছিল আরও ১২১ রান। উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান তখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বৃষ্টির কারণে ভেজা মাঠে খেলা দেরিতে শুরু হলেও পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ৩৫০ রান পার করে ম্যাচে টিকে থাকার চেষ্টা করে।

তাইজুলের ঘূর্ণিতে ভাঙল প্রতিরোধ

বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম। তিনি চতুর স্পিনে সাজিদ খানকে ২৮ রানে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। এই উইকেটের মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৮তম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই স্পিনার।

তাইজুলের ঘূর্ণি, ৩ উইকেটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

এরপর শরিফুল ইসলাম আঘাত হানেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ভরসা মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপর। অফস্টাম্পের বাইরে করা লেংথ বল কাট করতে গিয়ে গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন রিজওয়ান। ৯৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি।

রিজওয়ানের বিদায়ের পর খুব দ্রুত ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশ। তাইজুলের বলে খুররম শাহজাদ লং-অনে ক্যাচ দিলে ৩৫৮ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান। শেষ তিন উইকেট হারায় মাত্র ২৫ রানে।

লিটন-মুশফিকে গড়া জয়ের ভিত

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে ১২৬ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। সিরিজসেরা হন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। দুই ম্যাচে ২৫৩ রান করার পাশাপাশি তিনি একটি সেঞ্চুরিও করেন।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান তোলে বাংলাদেশ। শুরুতে ধাক্কা সামলেও লিটনের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। পরে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে আটকে দিয়ে ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে বাবর আজম ৬৮ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন।

ধবলধোলাই হলো পাকিস্তান, টানা ৪ টেস্টে বাবর-রিজওয়ানদের হারালো বাংলাদেশ -  NewsNow24

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। ৩৯০ রান তুলে পাকিস্তানের সামনে বিশাল ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় তারা। সেই ইনিংসে মুশফিকুর রহিম ২৩৩ বলে ১৩৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি, যা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক বানায়।

পাকিস্তানের লড়াইও থামাতে পারেনি বাংলাদেশ

চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। রিজওয়ান ও সালমান আগার মধ্যে ১৩৪ রানের জুটি ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। সালমান ৭১ রান করেন। তবে তাইজুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ধারাবাহিক ভ্যারিয়েশন পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে দেয়।

এর আগে তিনি বাবর আজমকে ৪৭ এবং অধিনায়ক শান মাসুদকে ৭১ রানে ফেরান। শেষ পর্যন্ত তার ৬ উইকেটই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পূর্ণ পয়েন্টও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।