০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জরুরি: চীনের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, জটিল বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, একক শিল্পনির্ভর অর্থনীতির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা এবং আরও অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘২০২৬ কমপ্যারেটিভ গভর্ন্যান্স ফোরাম’ শীর্ষক যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শাসনব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনকেন্দ্রিক, বাস্তববাদী ও দক্ষ নেতৃত্ব দেশের শাসনব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উন্নয়নমুখী নীতি অনুসরণ করে জনগণের জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সেরা পর্যায়ে: চীনের রাষ্ট্রদূত

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের উপযোগী পথ খুঁজে বের করতে এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিনিময় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি বেইজিংয়ের অঙ্গীকার অটুট থাকবে। চীন সব সময় বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু, প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গঠনের লক্ষ্যে আরও কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন স্বার্থ ও সংহতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন অগ্রগতি

ইয়াও ওয়েন জানান, দুই দেশ উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একমত হয়েছে।

তিনি বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর এগিয়ে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি ও মান আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-চীন বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এখন আরও সুসংগঠিত কাঠামো, বিস্তৃত ক্ষেত্র এবং উচ্চতর পর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশকে কাছে টানার চেষ্টা করছে চীন

শাসনব্যবস্থায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব

রাষ্ট্রদূত বলেন, শাসনব্যবস্থা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় নতুন যুগের বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।

তিনি জানান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে চীনের আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা, জাতীয় শাসনব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, চারটি প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগ এবং গ্লোবাল সাউথ-সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন চীনের আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতার অন্তর্নিহিত ধারণাগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করেন, দারিদ্র্য বিমোচন, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ও রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর নীতি ও পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেন এবং সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজে লাগান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক চেন ঝিমিন। এছাড়া বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রিদওয়ানুর রহমানও বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বক্তব্য।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জরুরি: চীনের রাষ্ট্রদূত

০২:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, জটিল বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, একক শিল্পনির্ভর অর্থনীতির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা এবং আরও অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘২০২৬ কমপ্যারেটিভ গভর্ন্যান্স ফোরাম’ শীর্ষক যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শাসনব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনকেন্দ্রিক, বাস্তববাদী ও দক্ষ নেতৃত্ব দেশের শাসনব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উন্নয়নমুখী নীতি অনুসরণ করে জনগণের জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সেরা পর্যায়ে: চীনের রাষ্ট্রদূত

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের উপযোগী পথ খুঁজে বের করতে এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিনিময় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি বেইজিংয়ের অঙ্গীকার অটুট থাকবে। চীন সব সময় বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু, প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন ‘নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গঠনের লক্ষ্যে আরও কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন স্বার্থ ও সংহতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন অগ্রগতি

ইয়াও ওয়েন জানান, দুই দেশ উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একমত হয়েছে।

তিনি বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর এগিয়ে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি ও মান আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-চীন বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এখন আরও সুসংগঠিত কাঠামো, বিস্তৃত ক্ষেত্র এবং উচ্চতর পর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশকে কাছে টানার চেষ্টা করছে চীন

শাসনব্যবস্থায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব

রাষ্ট্রদূত বলেন, শাসনব্যবস্থা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় নতুন যুগের বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।

তিনি জানান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে চীনের আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা, জাতীয় শাসনব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, চারটি প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগ এবং গ্লোবাল সাউথ-সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন চীনের আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতার অন্তর্নিহিত ধারণাগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করেন, দারিদ্র্য বিমোচন, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ও রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর নীতি ও পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেন এবং সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজে লাগান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক চেন ঝিমিন। এছাড়া বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রিদওয়ানুর রহমানও বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বক্তব্য।