০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বাংলাদেশে এবার বর্ষাকালে বৃষ্টি কম হবে, বাড়বে তাপমাত্রা, এল নিনোর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ায়

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এল নিনো পরিস্থিতির কারণে। আঞ্চলিক আবহাওয়া বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই প্রভাব বাংলাদেশের আবহাওয়া ও কৃষিতে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করতে পারে।

এল নিনো কী এবং এর প্রভাব
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, যা প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। এল নিনো সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে দুর্বল করে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সাল ছিল রেকর্ডের অন্যতম উষ্ণ বছর এবং ২০২৪ সালে তাপমাত্রা আরও বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

২০২৬ বর্ষার পূর্বাভাস
জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যভাগে বৃষ্টিপাত কম হতে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও পড়তে পারে।
তবে উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বাভাবিক বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

একই সঙ্গে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ উভয় তাপমাত্রাই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকবে। ফলে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়বে।

তীব্র তাপ প্রবাহে রূপ নিতে যাচ্ছে তাপ প্রবাহ দাবানল ১ - BWOT Weather

জলবায়ু প্রভাবের কারণ
এই পূর্বাভাস তৈরিতে এল নিনো সাউদার্ন অসিলেশন, ভারত মহাসাগরের ডাইপোল, উত্তর গোলার্ধের তুষার আচ্ছাদন এবং ভূমির তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা—এমন বিভিন্ন জলবায়ু উপাদান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরপেক্ষ অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে এল নিনো পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে এখন নিরপেক্ষ অবস্থা থাকলেও মৌসুমের শেষ দিকে ইতিবাচক ডাইপোল তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বিশ্বের বিভিন্ন জলবায়ু মডেলের পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে, ২০২৬ সালের বর্ষায় এল নিনো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। তবে মৌসুমী পূর্বাভাসে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন উপাদান এতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, যদি এই এল নিনো শক্তিশালী হয়ে ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নেয়, তাহলে ২০২৭ সাল হতে পারে রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ বছরগুলোর একটি। এল নিনো সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয়, যা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কৃষি, পানি সরবরাহ এবং খাদ্য নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা ও মূল্যায়ন
এই জলবায়ু মূল্যায়নে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক মডেল ও আঞ্চলিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস তৈরি করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশে এবার বর্ষাকালে বৃষ্টি কম হবে, বাড়বে তাপমাত্রা, এল নিনোর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ায়

০৫:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এল নিনো পরিস্থিতির কারণে। আঞ্চলিক আবহাওয়া বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই প্রভাব বাংলাদেশের আবহাওয়া ও কৃষিতে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করতে পারে।

এল নিনো কী এবং এর প্রভাব
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, যা প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। এল নিনো সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে দুর্বল করে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সাল ছিল রেকর্ডের অন্যতম উষ্ণ বছর এবং ২০২৪ সালে তাপমাত্রা আরও বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

২০২৬ বর্ষার পূর্বাভাস
জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যভাগে বৃষ্টিপাত কম হতে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও পড়তে পারে।
তবে উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বাভাবিক বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

একই সঙ্গে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ উভয় তাপমাত্রাই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকবে। ফলে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়বে।

তীব্র তাপ প্রবাহে রূপ নিতে যাচ্ছে তাপ প্রবাহ দাবানল ১ - BWOT Weather

জলবায়ু প্রভাবের কারণ
এই পূর্বাভাস তৈরিতে এল নিনো সাউদার্ন অসিলেশন, ভারত মহাসাগরের ডাইপোল, উত্তর গোলার্ধের তুষার আচ্ছাদন এবং ভূমির তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা—এমন বিভিন্ন জলবায়ু উপাদান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরপেক্ষ অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে এল নিনো পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে এখন নিরপেক্ষ অবস্থা থাকলেও মৌসুমের শেষ দিকে ইতিবাচক ডাইপোল তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বিশ্বের বিভিন্ন জলবায়ু মডেলের পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে, ২০২৬ সালের বর্ষায় এল নিনো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। তবে মৌসুমী পূর্বাভাসে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন উপাদান এতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, যদি এই এল নিনো শক্তিশালী হয়ে ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নেয়, তাহলে ২০২৭ সাল হতে পারে রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ বছরগুলোর একটি। এল নিনো সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয়, যা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কৃষি, পানি সরবরাহ এবং খাদ্য নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা ও মূল্যায়ন
এই জলবায়ু মূল্যায়নে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক মডেল ও আঞ্চলিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস তৈরি করেন।