০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বাংলাদেশে সাংবাদিকতার বিবর্ণ চিত্র

গত বছরের আগস্টে হওয়া অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পরে সাংবাদিকদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে, ক্রমশ জোরালো হচ্ছে সেই দাবি। সদ্য় প্রয়াত বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যুর আগের শেষ চিঠি সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তার বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে সামনে এসেছে। বলা চলে, মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন এলেও সাংবাদিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।

বর্তমানে ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা অথবা হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে। কারাগারে আছেন ১৩ জন সাংবাদিক। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের তিন সাংবাদিক- সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপা। সম্প্রতি সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে নদী থেকে। যদিও এটা হত্যা না আত্মহত্যা, প্রশ্ন রয়েছে তা নিয়েও৷

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অবশ্য জানিয়েছেন, গত ৯ মাসে সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এদিকে সম্প্রচার সাংবাদিকদের সংগঠন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) এক জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শুধু টেলিভিশনগুলোতে কর্মরত ১৫০ জনের বেশি সাংবাদিকের চাকরি গেছে৷

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণমাধ্যমের নতুন আতঙ্ক ‘মব সন্ত্রাস’। মবের ভয়ে তিনটি টেলিভিশনের তিনজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দুই দিন আগেও রাস্তায় নিগ্রহ করা হয়েছে সাংবাদিকদের।

প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব আহমেদ ফয়েজ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গত ১৫-২০ বছরে সাংবাদিকতাকে দুর্বৃত্তায়নে পরিণত করা হয়েছে। এতে মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন,  সাধারণ মানুষের কাছে  শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। গণমাধ্যমের মালিক ও শীর্ষ কর্তারা নিজেদের স্বার্থে এটা ব্যবহার করেছে। ফলে মানুষের মধ্যে সাংবাদিকতা নিয়ে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। এই সরকারের আমলে কেউ বলতে পারবে না, কোনো সংবাদের কারণে কোনো সংস্থা থেকে ফোন করা হয়েছে। ফলে সাংবাদিকরা নিজেদের মতো করে কাজ করতে পারছেন।”

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সর্বশেষ হিসেবে অবশ্য দেখা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে দায়ের হওয়া ৩২টি ফৌজদারি মামলায় অন্তত ১৩৭ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনেও মামলা করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশে সাংবাদিকতার বিবর্ণ চিত্র

১২:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গত বছরের আগস্টে হওয়া অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পরে সাংবাদিকদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে, ক্রমশ জোরালো হচ্ছে সেই দাবি। সদ্য় প্রয়াত বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যুর আগের শেষ চিঠি সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তার বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে সামনে এসেছে। বলা চলে, মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন এলেও সাংবাদিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।

বর্তমানে ২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা অথবা হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে। কারাগারে আছেন ১৩ জন সাংবাদিক। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের তিন সাংবাদিক- সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপা। সম্প্রতি সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে নদী থেকে। যদিও এটা হত্যা না আত্মহত্যা, প্রশ্ন রয়েছে তা নিয়েও৷

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অবশ্য জানিয়েছেন, গত ৯ মাসে সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এদিকে সম্প্রচার সাংবাদিকদের সংগঠন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) এক জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শুধু টেলিভিশনগুলোতে কর্মরত ১৫০ জনের বেশি সাংবাদিকের চাকরি গেছে৷

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণমাধ্যমের নতুন আতঙ্ক ‘মব সন্ত্রাস’। মবের ভয়ে তিনটি টেলিভিশনের তিনজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দুই দিন আগেও রাস্তায় নিগ্রহ করা হয়েছে সাংবাদিকদের।

প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব আহমেদ ফয়েজ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গত ১৫-২০ বছরে সাংবাদিকতাকে দুর্বৃত্তায়নে পরিণত করা হয়েছে। এতে মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন,  সাধারণ মানুষের কাছে  শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। গণমাধ্যমের মালিক ও শীর্ষ কর্তারা নিজেদের স্বার্থে এটা ব্যবহার করেছে। ফলে মানুষের মধ্যে সাংবাদিকতা নিয়ে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। এই সরকারের আমলে কেউ বলতে পারবে না, কোনো সংবাদের কারণে কোনো সংস্থা থেকে ফোন করা হয়েছে। ফলে সাংবাদিকরা নিজেদের মতো করে কাজ করতে পারছেন।”

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সর্বশেষ হিসেবে অবশ্য দেখা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে দায়ের হওয়া ৩২টি ফৌজদারি মামলায় অন্তত ১৩৭ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। এমনকি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনেও মামলা করা হয়েছে।