০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা

বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

গত ছয় দিন ধরে উপকূলীয় এ জেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার সকালেও হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। একদিকে বৃষ্টি কৃষির জন্য উপকারী হলেও অন্যদিকে জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জলাবদ্ধতা ও চলাচলে দুর্ভোগ

অবিরাম বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গ্রামের অনেক কাঁচা সড়ক কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

এদিকে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের প্রভাবে আশপাশের নদ-নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। বাগেরহাট শহরের কিচেন মার্কেট, মেইন রোড, লঞ্চঘাট, সাধনা মোড়, রহাতের মোড়, হরিখালী, মুন্সীগঞ্জ ও গোটাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। কিচেন মার্কেটসংলগ্ন কয়েকটি গলিতে ভৈরব নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে এবং বিভিন্ন নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যায়।

জীবিকায় বড় ধাক্কা

টানা বৃষ্টির কারণে শহরের সড়কে মানুষের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। এতে পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপরও প্রভাব পড়েছে।

বাগেরহাট সদর এলাকার ইজিবাইকচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে যাত্রী অনেক কমে গেছে। ফলে প্রতিদিনের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

রিকশাচালক ইব্রাহিম হাওলাদার ও সোবাহান শেখ বলেন, বৃষ্টির মধ্যেও জীবিকার তাগিদে রাস্তায় বের হলেও ভারী বর্ষণের কারণে তেমন কোনো যাত্রী পাননি।

শহরের কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও জানান, গত কয়েক দিনে বৃষ্টির কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আরও দুই দিন বৃষ্টি থাকতে পারে

আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে মোংলা সমুদ্রবন্দরের জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রাখা হয়েছে।

মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং এটি আরও দুর্বল হতে পারে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্য এখনও প্রবল থাকায় আগামী দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকা ব্যাহত হয়েছে। আগামী দুই দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা

০৮:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

গত ছয় দিন ধরে উপকূলীয় এ জেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার সকালেও হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। একদিকে বৃষ্টি কৃষির জন্য উপকারী হলেও অন্যদিকে জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জলাবদ্ধতা ও চলাচলে দুর্ভোগ

অবিরাম বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গ্রামের অনেক কাঁচা সড়ক কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

এদিকে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের প্রভাবে আশপাশের নদ-নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। বাগেরহাট শহরের কিচেন মার্কেট, মেইন রোড, লঞ্চঘাট, সাধনা মোড়, রহাতের মোড়, হরিখালী, মুন্সীগঞ্জ ও গোটাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। কিচেন মার্কেটসংলগ্ন কয়েকটি গলিতে ভৈরব নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে এবং বিভিন্ন নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যায়।

জীবিকায় বড় ধাক্কা

টানা বৃষ্টির কারণে শহরের সড়কে মানুষের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। এতে পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপরও প্রভাব পড়েছে।

বাগেরহাট সদর এলাকার ইজিবাইকচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে যাত্রী অনেক কমে গেছে। ফলে প্রতিদিনের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

রিকশাচালক ইব্রাহিম হাওলাদার ও সোবাহান শেখ বলেন, বৃষ্টির মধ্যেও জীবিকার তাগিদে রাস্তায় বের হলেও ভারী বর্ষণের কারণে তেমন কোনো যাত্রী পাননি।

শহরের কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও জানান, গত কয়েক দিনে বৃষ্টির কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আরও দুই দিন বৃষ্টি থাকতে পারে

আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে মোংলা সমুদ্রবন্দরের জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রাখা হয়েছে।

মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং এটি আরও দুর্বল হতে পারে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্য এখনও প্রবল থাকায় আগামী দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকা ব্যাহত হয়েছে। আগামী দুই দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।