০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বাজেটে স্বপ্ন, বাস্তবে ঘাটতির বোঝা—সংসদে রুমিন ফারহানার সমালোচনা

প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার ভাষ্য, প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় জনগণকে নানা স্বপ্ন দেখানো হলেও বছরের শেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ না হয়ে উল্টো তার প্রভাব সাধারণ মানুষকে বহন করতে হয়।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেন।

বাজেট ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, বিপরীতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

তার মতে, এই ঘোষিত ঘাটতির বাইরেও আরও একটি বাস্তবতা রয়েছে। প্রতি বছর রাজস্ব আদায়ের জন্য উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা অর্জিত হয় না। ফলে প্রকৃত বাজেট ঘাটতি আরও বেড়ে যায় এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়।

চীন সফর নিয়ে ব্যাখ্যা চাইলেন

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা জানতে চান, ওই সফরে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না। পেয়ে থাকলে তার পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না—সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি কোনো তথ্য দেননি। বরং তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “আমরা কি শুধু ভিক্ষার ঝুলি হাতে চাইতে গেছি?” রুমিন ফারহানার মতে, এমন বক্তব্যের পাশাপাশি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

অর্থনীতির বিদ্যমান সংকটের চিত্র

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত চার বছর ধরে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা।

তার দাবি, এসব সংকটের মধ্যে ঘোষিত বাজেট ঘাটতিও দেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন

সরকারের বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেট ঘোষণার সময় জনগণের সামনে যে প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরা হয়, বছর শেষে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার বড় ধরনের অমিল দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানের প্রভাব সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়।

বাজেট বাস্তবায়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, কার্যকর রাজস্ব আহরণ এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সুস্পষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বাজেটে স্বপ্ন, বাস্তবে ঘাটতির বোঝা—সংসদে রুমিন ফারহানার সমালোচনা

০৯:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার ভাষ্য, প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় জনগণকে নানা স্বপ্ন দেখানো হলেও বছরের শেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ না হয়ে উল্টো তার প্রভাব সাধারণ মানুষকে বহন করতে হয়।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেন।

বাজেট ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, বিপরীতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

তার মতে, এই ঘোষিত ঘাটতির বাইরেও আরও একটি বাস্তবতা রয়েছে। প্রতি বছর রাজস্ব আদায়ের জন্য উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা অর্জিত হয় না। ফলে প্রকৃত বাজেট ঘাটতি আরও বেড়ে যায় এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়।

চীন সফর নিয়ে ব্যাখ্যা চাইলেন

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা জানতে চান, ওই সফরে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না। পেয়ে থাকলে তার পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না—সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি কোনো তথ্য দেননি। বরং তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “আমরা কি শুধু ভিক্ষার ঝুলি হাতে চাইতে গেছি?” রুমিন ফারহানার মতে, এমন বক্তব্যের পাশাপাশি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

অর্থনীতির বিদ্যমান সংকটের চিত্র

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত চার বছর ধরে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা।

তার দাবি, এসব সংকটের মধ্যে ঘোষিত বাজেট ঘাটতিও দেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন

সরকারের বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেট ঘোষণার সময় জনগণের সামনে যে প্রত্যাশার চিত্র তুলে ধরা হয়, বছর শেষে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার বড় ধরনের অমিল দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানের প্রভাব সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়।

বাজেট বাস্তবায়নে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, কার্যকর রাজস্ব আহরণ এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সুস্পষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।