০৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বারবার শহর বদলানোর জীবন: গভীর শিকড় নয়, বিস্তৃত অভিজ্ঞতাই তার পরিচয়

মাত্র ৩০ বছর বয়সেই ক্লোয়ি গর্ডন কর্ডোভারের জীবনে এক জায়গায় সবচেয়ে বেশি থাকার সময় মাত্র পাঁচ বছর। শৈশব থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক জীবন পর্যন্ত বারবার শহর, রাজ্য ও বাড়ি বদলানোই যেন তার জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে গেছে। আর এই চলমান জীবন তাকে দিয়েছে যেমন অসংখ্য অভিজ্ঞতা, তেমনি কিছু অপূর্ণতাও।

ক্লোয়ি জানিয়েছেন, তিনি এখন পর্যন্ত ১০টি শহর, ৭টি রাজ্য এবং অসংখ্য বাড়িতে বসবাস করেছেন। কেউ যখন তাকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কোথাকার মানুষ?”—তখন সহজ উত্তর দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তার শিকড় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, বরং ছড়িয়ে আছে নানা অঞ্চলে।

বাবার চাকরি থেকে শুরু, পরে নিজের পছন্দে চলা

ক্লোয়ির জীবনে প্রথম স্থান পরিবর্তন হয় মাত্র তিন বছর বয়সে। এরপর ছয় বছর বয়সে আবারও নতুন জায়গায় যেতে হয়। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় আরেকবার এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে দুইবার স্থান বদল করেন তিনি।

এর পেছনে মূল কারণ ছিল তার বাবার চাকরি। ছোটবেলায় তিনি শুধু জানতেন, তার বাবা একজন আবাসন আইনজীবী। বাবার কাজের কারণে পরিবারকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হতো। তবে বড় হওয়ার পরও সেই চলার অভ্যাস থামেনি।

কলেজে যাওয়ার পর তিনি আবার জায়গা বদল করেন। পরে স্বামীর চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চাকরির কারণে চলে যান এক শহর থেকে আরেক শহরে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সাভানায় আছেন, তবে এটিও তার জীবনের স্থায়ী ঠিকানা নয়।

নতুন জায়গায় মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস

বারবার নতুন পরিবেশে যাওয়ার কারণে ক্লোয়ি মনে করেন, তিনি যেকোনো ঘরে বা নতুন মানুষের মাঝে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। অপরিচিত জায়গায় প্রবেশ করার ভয় তার কমে গেছে।

তিনি বলেন, তার শিকড় গভীর নয়, বরং বিস্তৃত। বিভিন্ন রাজ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে পরিচয় তাকে এমন এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে, যা এক জায়গায় দীর্ঘদিন থাকলে হয়তো পাওয়া সম্ভব হতো না।

নতুন জায়গায় গিয়ে মানুষের জীবনযাপন, কথাবার্তা ও ছোট ছোট পার্থক্য লক্ষ্য করার অভ্যাস তার মধ্যে তৈরি হয়েছে। কোথাও একই ভাষার ভিন্ন ব্যবহার, কোথাও খাবারের আলাদা সংস্কৃতি—এসব বিষয় তাকে প্রতিটি এলাকার নিজস্ব পরিচয় বুঝতে সাহায্য করেছে।

তবে হারিয়েছেন দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা

তবে এমন জীবনের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ক্লোয়ি মনে করেন, তার কোনো শৈশবের বন্ধু নেই যিনি তাকে ছোটবেলা থেকে চেনেন। পরিবারের বাইরে এমন কেউ নেই, যিনি তার জীবনের পুরো পরিবর্তনের সাক্ষী ছিলেন।

বারবার নতুন জায়গায় যাওয়ার কারণে তিনি শুরু এবং বিদায়ের সঙ্গে খুব পরিচিত হয়ে উঠেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সম্পর্কের মাঝের অংশটি গড়ে তোলার সুযোগ কম পেয়েছেন।

তিনি বলেন, যারা একটি জায়গায় দীর্ঘদিন থাকেন, তাদের যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়, সেটি তার জীবনে নেই। তবে এর বদলে তিনি পেয়েছেন অনেক জায়গার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ।

চলমান জীবনই তার পরিচয়ের অংশ

ক্লোয়ির কাছে বারবার স্থান পরিবর্তন কোনো বোঝা নয়, বরং এটি তার পরিচয়ের একটি অংশ। তিনি মনে করেন, যদি তিনি সারাজীবন একই শহর, একই বাড়ি ও একই বন্ধুদের সঙ্গে বড় হতেন, তাহলে হয়তো তার দৃষ্টিভঙ্গি এত বিস্তৃত হতো না।

বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের সংস্পর্শ তাকে আরও কৌতূহলী করেছে এবং পৃথিবীকে ভিন্নভাবে দেখতে শিখিয়েছে।

তার ভাষায়, তিনি গভীর শিকড়ের অভিজ্ঞতা না পেলেও পেয়েছেন বিস্তৃত শিকড়ের জীবন। আর সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আজকের মানুষে পরিণত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বারবার শহর বদলানোর জীবন: গভীর শিকড় নয়, বিস্তৃত অভিজ্ঞতাই তার পরিচয়

০৯:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মাত্র ৩০ বছর বয়সেই ক্লোয়ি গর্ডন কর্ডোভারের জীবনে এক জায়গায় সবচেয়ে বেশি থাকার সময় মাত্র পাঁচ বছর। শৈশব থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক জীবন পর্যন্ত বারবার শহর, রাজ্য ও বাড়ি বদলানোই যেন তার জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে গেছে। আর এই চলমান জীবন তাকে দিয়েছে যেমন অসংখ্য অভিজ্ঞতা, তেমনি কিছু অপূর্ণতাও।

ক্লোয়ি জানিয়েছেন, তিনি এখন পর্যন্ত ১০টি শহর, ৭টি রাজ্য এবং অসংখ্য বাড়িতে বসবাস করেছেন। কেউ যখন তাকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কোথাকার মানুষ?”—তখন সহজ উত্তর দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তার শিকড় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, বরং ছড়িয়ে আছে নানা অঞ্চলে।

বাবার চাকরি থেকে শুরু, পরে নিজের পছন্দে চলা

ক্লোয়ির জীবনে প্রথম স্থান পরিবর্তন হয় মাত্র তিন বছর বয়সে। এরপর ছয় বছর বয়সে আবারও নতুন জায়গায় যেতে হয়। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় আরেকবার এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে দুইবার স্থান বদল করেন তিনি।

এর পেছনে মূল কারণ ছিল তার বাবার চাকরি। ছোটবেলায় তিনি শুধু জানতেন, তার বাবা একজন আবাসন আইনজীবী। বাবার কাজের কারণে পরিবারকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হতো। তবে বড় হওয়ার পরও সেই চলার অভ্যাস থামেনি।

কলেজে যাওয়ার পর তিনি আবার জায়গা বদল করেন। পরে স্বামীর চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চাকরির কারণে চলে যান এক শহর থেকে আরেক শহরে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সাভানায় আছেন, তবে এটিও তার জীবনের স্থায়ী ঠিকানা নয়।

নতুন জায়গায় মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস

বারবার নতুন পরিবেশে যাওয়ার কারণে ক্লোয়ি মনে করেন, তিনি যেকোনো ঘরে বা নতুন মানুষের মাঝে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। অপরিচিত জায়গায় প্রবেশ করার ভয় তার কমে গেছে।

তিনি বলেন, তার শিকড় গভীর নয়, বরং বিস্তৃত। বিভিন্ন রাজ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে পরিচয় তাকে এমন এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে, যা এক জায়গায় দীর্ঘদিন থাকলে হয়তো পাওয়া সম্ভব হতো না।

নতুন জায়গায় গিয়ে মানুষের জীবনযাপন, কথাবার্তা ও ছোট ছোট পার্থক্য লক্ষ্য করার অভ্যাস তার মধ্যে তৈরি হয়েছে। কোথাও একই ভাষার ভিন্ন ব্যবহার, কোথাও খাবারের আলাদা সংস্কৃতি—এসব বিষয় তাকে প্রতিটি এলাকার নিজস্ব পরিচয় বুঝতে সাহায্য করেছে।

তবে হারিয়েছেন দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা

তবে এমন জীবনের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ক্লোয়ি মনে করেন, তার কোনো শৈশবের বন্ধু নেই যিনি তাকে ছোটবেলা থেকে চেনেন। পরিবারের বাইরে এমন কেউ নেই, যিনি তার জীবনের পুরো পরিবর্তনের সাক্ষী ছিলেন।

বারবার নতুন জায়গায় যাওয়ার কারণে তিনি শুরু এবং বিদায়ের সঙ্গে খুব পরিচিত হয়ে উঠেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সম্পর্কের মাঝের অংশটি গড়ে তোলার সুযোগ কম পেয়েছেন।

তিনি বলেন, যারা একটি জায়গায় দীর্ঘদিন থাকেন, তাদের যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়, সেটি তার জীবনে নেই। তবে এর বদলে তিনি পেয়েছেন অনেক জায়গার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ।

চলমান জীবনই তার পরিচয়ের অংশ

ক্লোয়ির কাছে বারবার স্থান পরিবর্তন কোনো বোঝা নয়, বরং এটি তার পরিচয়ের একটি অংশ। তিনি মনে করেন, যদি তিনি সারাজীবন একই শহর, একই বাড়ি ও একই বন্ধুদের সঙ্গে বড় হতেন, তাহলে হয়তো তার দৃষ্টিভঙ্গি এত বিস্তৃত হতো না।

বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের সংস্পর্শ তাকে আরও কৌতূহলী করেছে এবং পৃথিবীকে ভিন্নভাবে দেখতে শিখিয়েছে।

তার ভাষায়, তিনি গভীর শিকড়ের অভিজ্ঞতা না পেলেও পেয়েছেন বিস্তৃত শিকড়ের জীবন। আর সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আজকের মানুষে পরিণত করেছে।