১১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিম্নআয়ের মানুষের পকেট কাটার শামিল: রুহিন প্রিন্স

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবকে নিম্নআয়ের মানুষের পকেট কাটার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গণশুনানিতে বিদ্যুতের ০ থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য অভিন্ন বিল নির্ধারণের প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ০ থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী কতজন গ্রাহক এখন ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর পর্যায়ে গেছেন, সেটি জানা গেলে মানুষের আয় বাস্তবে বেড়েছে কি না তার একটি সূচক পাওয়া যেত।

নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ

রুহিন প্রিন্স বলেন, উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো মূলত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তার ভাষায়, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

তিনি বিদ্যুৎ খাতের সিস্টেম লস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সিস্টেম লস প্রায় ২ শতাংশের মধ্যে থাকার কথা হলেও বাংলাদেশে তা এখনো প্রায় ৮ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা বাড়ার কারণে কোম্পানিভিত্তিক সংকট তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে আরও সক্ষম করে তুলতে হবে, যাতে ধীরে ধীরে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

গ্রাম ও শহরের বাস্তবতা ভিন্ন

গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রুহিন প্রিন্স। তিনি বলেন, গ্রাম ও শহরের জীবনযাত্রাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। গ্রামের মানুষ মাসিক বিদ্যুৎ বিল কম রাখতে সবসময় সাশ্রয়ী হওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে প্রিপেইড ব্যবস্থার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন ভিন্ন।

চলছে গণশুনানি

খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার ছিল গণশুনানির দ্বিতীয় দিন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাবের ওপর এই শুনানির আয়োজন করেছে।

এর আগে চলতি মাসে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রথমে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। পরে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি খুচরা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে দাম বাড়ানোর আবেদন জমা দেয়।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাবি, পাইকারি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচ এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে পরিচালন ব্যয় রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেও তারা যুক্তি দেয়।

এর আগে বুধবার পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে রুহিন প্রিন্সের সমালোচনা

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবকে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স। গণশুনানিতে তিনি সিস্টেম লস, আমদানিনির্ভরতা ও গ্রামীণ বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিম্নআয়ের মানুষের পকেট কাটার শামিল: রুহিন প্রিন্স

০৮:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবকে নিম্নআয়ের মানুষের পকেট কাটার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গণশুনানিতে বিদ্যুতের ০ থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য অভিন্ন বিল নির্ধারণের প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ০ থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী কতজন গ্রাহক এখন ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর পর্যায়ে গেছেন, সেটি জানা গেলে মানুষের আয় বাস্তবে বেড়েছে কি না তার একটি সূচক পাওয়া যেত।

নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ

রুহিন প্রিন্স বলেন, উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো মূলত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তার ভাষায়, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

তিনি বিদ্যুৎ খাতের সিস্টেম লস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সিস্টেম লস প্রায় ২ শতাংশের মধ্যে থাকার কথা হলেও বাংলাদেশে তা এখনো প্রায় ৮ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা বাড়ার কারণে কোম্পানিভিত্তিক সংকট তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে আরও সক্ষম করে তুলতে হবে, যাতে ধীরে ধীরে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

গ্রাম ও শহরের বাস্তবতা ভিন্ন

গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রুহিন প্রিন্স। তিনি বলেন, গ্রাম ও শহরের জীবনযাত্রাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। গ্রামের মানুষ মাসিক বিদ্যুৎ বিল কম রাখতে সবসময় সাশ্রয়ী হওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে প্রিপেইড ব্যবস্থার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন ভিন্ন।

চলছে গণশুনানি

খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার ছিল গণশুনানির দ্বিতীয় দিন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাবের ওপর এই শুনানির আয়োজন করেছে।

এর আগে চলতি মাসে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রথমে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। পরে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি খুচরা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে দাম বাড়ানোর আবেদন জমা দেয়।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাবি, পাইকারি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচ এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে পরিচালন ব্যয় রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেও তারা যুক্তি দেয়।

এর আগে বুধবার পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে রুহিন প্রিন্সের সমালোচনা

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবকে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স। গণশুনানিতে তিনি সিস্টেম লস, আমদানিনির্ভরতা ও গ্রামীণ বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।