১১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, এ সংকট কাটাতে সর্বনিম্ন দুই বছর সময় লাগতে পারে।

রোববার রাজধানীর শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট দীর্ঘমেয়াদি

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট বর্তমান সরকারের এককভাবে তৈরি করা সমস্যা নয়; এটি অতীত থেকে পাওয়া। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এমনকি এক বছরেও পুরোপুরি সমাধান করা যাবে না। এজন্য অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ছাড়া অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই সংকট সমাধানে সরকার দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সময় নষ্ট করা হচ্ছে না।

গ্যাসে এলএনজি ও স্থলভাগের মজুত সুবিধা

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করতে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল এবং স্থলভাগে গ্যাস মজুতের সুবিধা তৈরির বিষয়গুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব উদ্যোগের বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিস্তারিত জানা যাবে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত সক্ষমতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উৎপাদনের চেয়ে বড় সমস্যা সঞ্চালন

বিদ্যুৎ খাতে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হলেও সঞ্চালন ব্যবস্থা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান আমীর খসরু। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন পরিসংখ্যানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের তথ্য পাওয়া যায়, বাস্তবে কার্যকর সরবরাহ তার চেয়েও কম।

বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং জ্বালানি ব্যবহারের সামগ্রিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সরকারের নীতিগত পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

সমন্বিত জ্বালানি মিশ্রণের পরিকল্পনা

অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যৎ জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের পাশাপাশি দেশের কয়লাসম্পদ ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎসের সমন্বয়ে একটি জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই জ্বালানি মিশ্রণের কাঠামো মোটামুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। যথাসময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে এর মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থমন্ত্রী

০৯:২০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, এ সংকট কাটাতে সর্বনিম্ন দুই বছর সময় লাগতে পারে।

রোববার রাজধানীর শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট দীর্ঘমেয়াদি

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট বর্তমান সরকারের এককভাবে তৈরি করা সমস্যা নয়; এটি অতীত থেকে পাওয়া। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এমনকি এক বছরেও পুরোপুরি সমাধান করা যাবে না। এজন্য অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ছাড়া অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই সংকট সমাধানে সরকার দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সময় নষ্ট করা হচ্ছে না।

গ্যাসে এলএনজি ও স্থলভাগের মজুত সুবিধা

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করতে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল এবং স্থলভাগে গ্যাস মজুতের সুবিধা তৈরির বিষয়গুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব উদ্যোগের বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিস্তারিত জানা যাবে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত সক্ষমতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উৎপাদনের চেয়ে বড় সমস্যা সঞ্চালন

বিদ্যুৎ খাতে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হলেও সঞ্চালন ব্যবস্থা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান আমীর খসরু। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন পরিসংখ্যানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের তথ্য পাওয়া যায়, বাস্তবে কার্যকর সরবরাহ তার চেয়েও কম।

বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং জ্বালানি ব্যবহারের সামগ্রিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সরকারের নীতিগত পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

সমন্বিত জ্বালানি মিশ্রণের পরিকল্পনা

অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যৎ জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের পাশাপাশি দেশের কয়লাসম্পদ ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎসের সমন্বয়ে একটি জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই জ্বালানি মিশ্রণের কাঠামো মোটামুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। যথাসময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে এর মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।