০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

বেক্সিমকোর কর্মচারীদের বকেয়া মেটাতে ব্যাংক থেকে ৬’শ কোটি টাকা দেবে সরকার

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 192

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • বেক্সিমকো গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে মোট ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণী
  • শেয়ার বিক্রয়ের প্রচেষ্টা দ্রুত শেষ না হওয়ার কারণে সরাসরি ফান্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হবে
  • পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ছিল আজকের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করা, তবে সময়সীমা ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে
  • ৩২টি টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল সহযোগী প্রতিষ্ঠান ২৮,৫৪৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার ১৬টি কাগজে বিদ্যমান মাত্র
  • সরকারের এই পদক্ষেপটি বেক্সিমকো গ্রুপের চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও সেবাসুবিধা দ্রুত প্রদান নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বাংলাদেশের বেক্সিমকো গ্রুপের ১৬টি টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট ইউনিটে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও সেবাসুবিধা পরিশোধের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। পূর্বে শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে এই তহবিলের উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তা স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

প্রেক্ষাপট

  • চাকরিচ্যুত কর্মচারী সংখ্যা: ২৭,০০০ জন
  • প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য: চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও সেবাসুবিধা সময়মত প্রদান।
  • পূর্বের পরিকল্পনা: লাভজনক ইউনিটগুলির শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা, যা দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

সরকারের সিদ্ধান্ত

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের সচিব এএইচএম শফিকুজ্জামান জানিয়েছেন,

  • কার্যক্রমের সময়সীমা: পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ছিল আজকের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করা, তবে সময়সীমা ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
  • সরাসরি ফান্ড: শেয়ার বিক্রয়ের প্রচেষ্টা দ্রুত শেষ না হওয়ার কারণে সরাসরি ফান্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • ঋণের বিকল্প: প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণও বিবেচনায় আছে।

শেয়ার বিক্রির জটিলতা ও ব্যাংক ঋণ

  • শেয়ার বিক্রয়ের সমস্যা: বেক্সিমকো মালিকদের শেয়ার বিক্রয়ের বিষয়ে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই পথটি দ্রুত সফল করা কঠিন।
  • মোট ঋণের পরিমাণ: বেক্সিমকো গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে মোট ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণী।
  • অংশীদারী প্রতিষ্ঠান: ৩২টি টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল সহযোগী প্রতিষ্ঠান ২৮,৫৪৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার ১৬টি কাগজে বিদ্যমান মাত্র।

ব্যাংকের ঋণের অবস্থা

বেক্সিমকো গ্রুপের উল্লেখযোগ্য ব্যাংক ঋণের বিস্তারিত নিম্নে দেয়া হলো:

  • জনতা ব্যাংক: ২৩,২৮৫ কোটি টাকা
  • সোনালী ব্যাংক: ১,৪২৪ কোটি টাকা
  • আগ্রনী ব্যাংক: ৪২০ কোটি টাকা
  • রূপালী ব্যাংক: ৯৮৭ কোটি টাকা
  • ন্যাশনাল ব্যাংক: ৩১৫ কোটি টাকা

  • ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক: ৩৩৩ কোটি টাকা
  • এবি ব্যাংক: ৯৩৮ কোটি টাকা
  • এক্সিম ব্যাংক: ৪৯৭ কোটি টাকা
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ৬১ কোটি টাকা
  • ডাচ বাংলা ব্যাংক: ৯৪ কোটি টাকা
  • আইএফআইসি ব্যাংক: ৭৮ কোটি টাকা
  • বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড: প্রায় ৮৭ কোটি টাকা

উপসংহার

সরকারের এই পদক্ষেপটি বেক্সিমকো গ্রুপের চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও সেবাসুবিধা দ্রুত প্রদান নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। শেয়ার বিক্রয়ের প্রচেষ্টা চালু থাকলেও, স্বল্প সময়ে বকেয়া পরিশোধের জন্য সরাসরি ফান্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

বেক্সিমকোর কর্মচারীদের বকেয়া মেটাতে ব্যাংক থেকে ৬’শ কোটি টাকা দেবে সরকার

০৩:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • বেক্সিমকো গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে মোট ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণী
  • শেয়ার বিক্রয়ের প্রচেষ্টা দ্রুত শেষ না হওয়ার কারণে সরাসরি ফান্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হবে
  • পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ছিল আজকের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করা, তবে সময়সীমা ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে
  • ৩২টি টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল সহযোগী প্রতিষ্ঠান ২৮,৫৪৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার ১৬টি কাগজে বিদ্যমান মাত্র
  • সরকারের এই পদক্ষেপটি বেক্সিমকো গ্রুপের চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও সেবাসুবিধা দ্রুত প্রদান নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বাংলাদেশের বেক্সিমকো গ্রুপের ১৬টি টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট ইউনিটে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও সেবাসুবিধা পরিশোধের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। পূর্বে শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে এই তহবিলের উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তা স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

প্রেক্ষাপট

  • চাকরিচ্যুত কর্মচারী সংখ্যা: ২৭,০০০ জন
  • প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য: চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও সেবাসুবিধা সময়মত প্রদান।
  • পূর্বের পরিকল্পনা: লাভজনক ইউনিটগুলির শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা, যা দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

সরকারের সিদ্ধান্ত

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের সচিব এএইচএম শফিকুজ্জামান জানিয়েছেন,

  • কার্যক্রমের সময়সীমা: পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ছিল আজকের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করা, তবে সময়সীমা ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
  • সরাসরি ফান্ড: শেয়ার বিক্রয়ের প্রচেষ্টা দ্রুত শেষ না হওয়ার কারণে সরাসরি ফান্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • ঋণের বিকল্প: প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণও বিবেচনায় আছে।

শেয়ার বিক্রির জটিলতা ও ব্যাংক ঋণ

  • শেয়ার বিক্রয়ের সমস্যা: বেক্সিমকো মালিকদের শেয়ার বিক্রয়ের বিষয়ে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই পথটি দ্রুত সফল করা কঠিন।
  • মোট ঋণের পরিমাণ: বেক্সিমকো গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে মোট ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণী।
  • অংশীদারী প্রতিষ্ঠান: ৩২টি টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল সহযোগী প্রতিষ্ঠান ২৮,৫৪৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার ১৬টি কাগজে বিদ্যমান মাত্র।

ব্যাংকের ঋণের অবস্থা

বেক্সিমকো গ্রুপের উল্লেখযোগ্য ব্যাংক ঋণের বিস্তারিত নিম্নে দেয়া হলো:

  • জনতা ব্যাংক: ২৩,২৮৫ কোটি টাকা
  • সোনালী ব্যাংক: ১,৪২৪ কোটি টাকা
  • আগ্রনী ব্যাংক: ৪২০ কোটি টাকা
  • রূপালী ব্যাংক: ৯৮৭ কোটি টাকা
  • ন্যাশনাল ব্যাংক: ৩১৫ কোটি টাকা

  • ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক: ৩৩৩ কোটি টাকা
  • এবি ব্যাংক: ৯৩৮ কোটি টাকা
  • এক্সিম ব্যাংক: ৪৯৭ কোটি টাকা
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ৬১ কোটি টাকা
  • ডাচ বাংলা ব্যাংক: ৯৪ কোটি টাকা
  • আইএফআইসি ব্যাংক: ৭৮ কোটি টাকা
  • বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড: প্রায় ৮৭ কোটি টাকা

উপসংহার

সরকারের এই পদক্ষেপটি বেক্সিমকো গ্রুপের চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও সেবাসুবিধা দ্রুত প্রদান নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। শেয়ার বিক্রয়ের প্রচেষ্টা চালু থাকলেও, স্বল্প সময়ে বকেয়া পরিশোধের জন্য সরাসরি ফান্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।