০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ব্যাংক খাতে কড়াকড়ি: অর্থপাচারকারীদের পরিচালনা পর্ষদে ফেরার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য দেশের কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক ব্যাংক সংস্কার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে জনমনে তৈরি বিভ্রান্তি দূর করতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে অতীতে আর্থিক অনিয়ম বা ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবার ব্যাংক খাতে ফিরতে পারবেন কি না—এ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

অধ্যাদেশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি

মুখপাত্র জানান, নতুন অধ্যাদেশে কিছু ক্ষেত্রে সাবেক পরিচালক বা উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ থাকলেও তা কোনোভাবেই স্বয়ংক্রিয় বা নির্বিচার নয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিয়ন্ত্রক তদারকির আওতায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসতে চান, তবে প্রথমেই বিভিন্ন সংস্থা থেকে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বিশেষ করে অর্থপাচার বা সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে প্রতিবেদন নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

কঠোর যাচাই ছাড়া ফেরার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে তাকে আগে আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সেই অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে হবে। শুধু অভিযোগমুক্ত হলেই চলবে না, তার আর্থিক আচরণ—বিশেষ করে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধের ইতিহাসও খতিয়ে দেখা হবে।

যাদের বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী তা পরিশোধ বা সমন্বয় করতে হবে। সব ধরনের আর্থিক দায় পরিশোধ ও অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়ার পরই কেবল পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে ব্যাংকের বোর্ডে ফেরা যাবে না

বিশেষ সুবিধার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি আবেদন সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাত ঝুঁকিতে না পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিয়মগুলোর কঠোর বাস্তবায়নের ওপর, যাতে বিতর্কিত ব্যক্তিরা পুনরায় প্রবেশ করতে না পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ব্যাংক খাতে কড়াকড়ি: অর্থপাচারকারীদের পরিচালনা পর্ষদে ফেরার সুযোগ নেই

১১:২০:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য দেশের কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক ব্যাংক সংস্কার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে জনমনে তৈরি বিভ্রান্তি দূর করতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে অতীতে আর্থিক অনিয়ম বা ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবার ব্যাংক খাতে ফিরতে পারবেন কি না—এ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

অধ্যাদেশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি

মুখপাত্র জানান, নতুন অধ্যাদেশে কিছু ক্ষেত্রে সাবেক পরিচালক বা উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ থাকলেও তা কোনোভাবেই স্বয়ংক্রিয় বা নির্বিচার নয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিয়ন্ত্রক তদারকির আওতায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসতে চান, তবে প্রথমেই বিভিন্ন সংস্থা থেকে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বিশেষ করে অর্থপাচার বা সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে প্রতিবেদন নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

কঠোর যাচাই ছাড়া ফেরার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে তাকে আগে আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সেই অভিযোগ থেকে মুক্ত হতে হবে। শুধু অভিযোগমুক্ত হলেই চলবে না, তার আর্থিক আচরণ—বিশেষ করে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধের ইতিহাসও খতিয়ে দেখা হবে।

যাদের বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী তা পরিশোধ বা সমন্বয় করতে হবে। সব ধরনের আর্থিক দায় পরিশোধ ও অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়ার পরই কেবল পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে ব্যাংকের বোর্ডে ফেরা যাবে না

বিশেষ সুবিধার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি আবেদন সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাত ঝুঁকিতে না পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিয়মগুলোর কঠোর বাস্তবায়নের ওপর, যাতে বিতর্কিত ব্যক্তিরা পুনরায় প্রবেশ করতে না পারেন।