১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ব্যাটারি চালিত রিকশা : ফাঁকা রাজধানী

  • Sarakhon Report
  • ০৩:২৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪
  • 104

সারাক্ষণ রিপোর্ট

তুহিন তার ইস্কাটনের বাসা থেকে বের হয়ে দ্রুতই চলে আসে ঢাকা মেডিকেলের আউট ডোরে। রবিবারে এত ফাঁকা রাস্তা দেখে তার মনে কোন চিন্তা আসেনি।

 অন্যদিকে তেজগাঁও থেকে মোশতাক আহমেদের গাড়িতে বারিধারা অফিস যেতে সময় লাগে মাত্র নয় মিনিট।  তিনি কিছুটা আশ্চর্য হয়ে যান। সপ্তাহের প্রথম দিনে রাস্তা এত ফাঁকা কেন।

মোশতাক আহমেদ তার ড্রাইভারের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, স্যার ব্যাটারি চালিত রিকসাওয়ালাদের আন্দোলন চলছে। ঢাকায় কোন গাড়ি ঢুকতে পারছে না মনে হয়- তাই এত ফাঁকা।

তুহিন ঢাকা মেডিকেলের সামনে পৌঁছেই ফোন করে মাতুইয়ালে তার ভাই শামসুদ্দিনকে। তারা কত দূর?

শামসুদ্দিন উত্তর দেয়, “ আসার কোন উপায় নেই। বাস, অটো রিকসা কোন কিছুইই ঢুকতে পারছে না। রাস্তা বন্ধ। ব্যাটারি চালিত রিকসাওয়ালারা পথ বন্ধ করে দিয়েছে। রোগি নিয়ে তো আর পাঠাওতে আসা যাবে না। দেখি একটু দেরি করি কী হয়” ?

তুহিন উপায় না দেখে আউট ডোরের বাইরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ইউটিউবে ভিডিও কিলিপস দেখার চেষ্টা করে। সেখানে সে জানতে পারে, ঢাকা চট্টগ্রাম রোডের ঢাকার প্রবেশ পথ বন্ধ। গাবতলীর ভেড়িবাধের ওখান থেকে শুরু করে গাবতলী হয়ে ঢাকার সব প্রবেশ পথ সব আন্দোলনকারীরা বন্ধ করে দিয়েছে।

একটা ভিডিও ক্লিপে সে দেখে ২২ থেকে ২৪ বছরের একটি ছেলে কাঁদছে। সে এক লাখ টাকা সুদে নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকসা কিনেছিলো। ঘরে তার এক বছরের একটা বাচ্চা আছে। স্ত্রী আছে। তার কাছে কোন টাকা নেই। সে এখন বাড়িতে কীভাবে খাবার নিয়ে যাবে? আবার সুদের কিস্তিও তাকে দিতে হবে। সে বলে বাংলাদেশে সব কিছুতে মাফ আছে কিন্তু গরীরের সুদের কিস্তিতে কোন মাফ নেই। এখন সে কীভাবে কিস্তি দেবে আর কীভাবে বাড়িতে খাবার নিয়ে যাবে।

তুহিন সকালে যা নাস্তা করেছিলো তা আর তার পেটে নেই। তাই রোদের সঙ্গে সঙ্গে তারও মেজাজ খারাপ হতে থাকে। এই দুঃখের ভিডিও দেখেও তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সে শামসুদ্দিনকে ফোন করে জানিয়ে দেয়, আজ তাহলে সে মেডিকেলের সামনে থেকে চলে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ব্যাটারি চালিত রিকশা : ফাঁকা রাজধানী

০৩:২৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪

সারাক্ষণ রিপোর্ট

তুহিন তার ইস্কাটনের বাসা থেকে বের হয়ে দ্রুতই চলে আসে ঢাকা মেডিকেলের আউট ডোরে। রবিবারে এত ফাঁকা রাস্তা দেখে তার মনে কোন চিন্তা আসেনি।

 অন্যদিকে তেজগাঁও থেকে মোশতাক আহমেদের গাড়িতে বারিধারা অফিস যেতে সময় লাগে মাত্র নয় মিনিট।  তিনি কিছুটা আশ্চর্য হয়ে যান। সপ্তাহের প্রথম দিনে রাস্তা এত ফাঁকা কেন।

মোশতাক আহমেদ তার ড্রাইভারের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, স্যার ব্যাটারি চালিত রিকসাওয়ালাদের আন্দোলন চলছে। ঢাকায় কোন গাড়ি ঢুকতে পারছে না মনে হয়- তাই এত ফাঁকা।

তুহিন ঢাকা মেডিকেলের সামনে পৌঁছেই ফোন করে মাতুইয়ালে তার ভাই শামসুদ্দিনকে। তারা কত দূর?

শামসুদ্দিন উত্তর দেয়, “ আসার কোন উপায় নেই। বাস, অটো রিকসা কোন কিছুইই ঢুকতে পারছে না। রাস্তা বন্ধ। ব্যাটারি চালিত রিকসাওয়ালারা পথ বন্ধ করে দিয়েছে। রোগি নিয়ে তো আর পাঠাওতে আসা যাবে না। দেখি একটু দেরি করি কী হয়” ?

তুহিন উপায় না দেখে আউট ডোরের বাইরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ইউটিউবে ভিডিও কিলিপস দেখার চেষ্টা করে। সেখানে সে জানতে পারে, ঢাকা চট্টগ্রাম রোডের ঢাকার প্রবেশ পথ বন্ধ। গাবতলীর ভেড়িবাধের ওখান থেকে শুরু করে গাবতলী হয়ে ঢাকার সব প্রবেশ পথ সব আন্দোলনকারীরা বন্ধ করে দিয়েছে।

একটা ভিডিও ক্লিপে সে দেখে ২২ থেকে ২৪ বছরের একটি ছেলে কাঁদছে। সে এক লাখ টাকা সুদে নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকসা কিনেছিলো। ঘরে তার এক বছরের একটা বাচ্চা আছে। স্ত্রী আছে। তার কাছে কোন টাকা নেই। সে এখন বাড়িতে কীভাবে খাবার নিয়ে যাবে? আবার সুদের কিস্তিও তাকে দিতে হবে। সে বলে বাংলাদেশে সব কিছুতে মাফ আছে কিন্তু গরীরের সুদের কিস্তিতে কোন মাফ নেই। এখন সে কীভাবে কিস্তি দেবে আর কীভাবে বাড়িতে খাবার নিয়ে যাবে।

তুহিন সকালে যা নাস্তা করেছিলো তা আর তার পেটে নেই। তাই রোদের সঙ্গে সঙ্গে তারও মেজাজ খারাপ হতে থাকে। এই দুঃখের ভিডিও দেখেও তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সে শামসুদ্দিনকে ফোন করে জানিয়ে দেয়, আজ তাহলে সে মেডিকেলের সামনে থেকে চলে যাচ্ছে।