০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থায় আস্থার সংকট, নির্বাচনের আগে বাড়ছে বিতর্ক

বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে ব্রাজিল দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও তিন দশকের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও দেশটির ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমেই কমছে। নির্বাচনের আগে এই অনাস্থা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আস্থা কমছে ভোটিং ব্যবস্থার ওপর

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলের ভোটারদের একটি বড় অংশ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এক সময় দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে বিশ্বাস করলেও এখন সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে ভোটিং মেশিনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক নাগরিক।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য এই অবিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর সমর্থকদের একটি অংশ এখনো ভোটিং মেশিনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

Brazilian voting machine and its two terminals. The election official... |  Download Scientific Diagram

কীভাবে কাজ করে এই ভোটিং ব্যবস্থা

ব্রাজিলের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এরপর পছন্দের প্রার্থীর নম্বর দিয়ে ভোট দেন। ভোটগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করা হয় যাতে ভোটারের পরিচয় গোপন থাকে।

ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল মুদ্রিত আকারে প্রকাশ করা হয়। পরে এনক্রিপ্ট করা তথ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পুরো ব্যবস্থায় একাধিক নিরাপত্তা স্তর রয়েছে এবং ভোটিং মেশিনগুলো সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত নয়।

নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আস্থা

সাইবার নিরাপত্তা ও ক্রিপ্টোগ্রাফি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতগুলো নিরাপত্তা স্তর থাকার কারণে কারও পক্ষে এককভাবে ফলাফল বদলে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত ৩০ বছরে এই ব্যবস্থায় সুসংগঠিত ভোট জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও তারা উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে হ্যাকিং পরীক্ষা ও উন্মুক্ত প্রযুক্তিগত পর্যালোচনার আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ভোটিং মেশিনের সফটওয়্যার পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হয়।

Brazil polarised as Bolsonaro seeks re-election and Lula aims for comeback  - BBC News

বিতর্কের কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন

সমালোচকদের একটি অংশের মতে, ব্রাজিলের নির্বাচন পরিচালনাকারী আদালত একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন, ফলাফল অনুমোদন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব পালন করে। ফলে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

কিছু বিশেষজ্ঞ ভারতের মতো ভোটের সঙ্গে কাগুজে রসিদ যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ মনে করে, এতে ভোটের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।

নির্বাচনের আগে বড় পরীক্ষা

আগামী নির্বাচনের আগে ব্রাজিলের ভোটিং ব্যবস্থা আবারও জনআস্থার পরীক্ষার মুখে পড়েছে। প্রযুক্তিগতভাবে নিরাপদ বলে দাবি করা হলেও রাজনৈতিক বিভাজন ও অনলাইনে ছড়ানো সন্দেহ ভোটারদের একাংশকে এখনো আশ্বস্ত করতে পারেনি। ফলে নির্বাচনের ফলাফল যতই নির্ভুল হোক, তা গ্রহণযোগ্য করে তোলাই এখন নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থায় আস্থার সংকট, নির্বাচনের আগে বাড়ছে বিতর্ক

০১:১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে ব্রাজিল দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও তিন দশকের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও দেশটির ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমেই কমছে। নির্বাচনের আগে এই অনাস্থা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আস্থা কমছে ভোটিং ব্যবস্থার ওপর

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলের ভোটারদের একটি বড় অংশ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এক সময় দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলে বিশ্বাস করলেও এখন সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে ভোটিং মেশিনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক নাগরিক।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য এই অবিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর সমর্থকদের একটি অংশ এখনো ভোটিং মেশিনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

Brazilian voting machine and its two terminals. The election official... |  Download Scientific Diagram

কীভাবে কাজ করে এই ভোটিং ব্যবস্থা

ব্রাজিলের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এরপর পছন্দের প্রার্থীর নম্বর দিয়ে ভোট দেন। ভোটগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করা হয় যাতে ভোটারের পরিচয় গোপন থাকে।

ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল মুদ্রিত আকারে প্রকাশ করা হয়। পরে এনক্রিপ্ট করা তথ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পুরো ব্যবস্থায় একাধিক নিরাপত্তা স্তর রয়েছে এবং ভোটিং মেশিনগুলো সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত নয়।

নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আস্থা

সাইবার নিরাপত্তা ও ক্রিপ্টোগ্রাফি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতগুলো নিরাপত্তা স্তর থাকার কারণে কারও পক্ষে এককভাবে ফলাফল বদলে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত ৩০ বছরে এই ব্যবস্থায় সুসংগঠিত ভোট জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও তারা উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে হ্যাকিং পরীক্ষা ও উন্মুক্ত প্রযুক্তিগত পর্যালোচনার আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ভোটিং মেশিনের সফটওয়্যার পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হয়।

Brazil polarised as Bolsonaro seeks re-election and Lula aims for comeback  - BBC News

বিতর্কের কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন

সমালোচকদের একটি অংশের মতে, ব্রাজিলের নির্বাচন পরিচালনাকারী আদালত একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন, ফলাফল অনুমোদন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব পালন করে। ফলে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

কিছু বিশেষজ্ঞ ভারতের মতো ভোটের সঙ্গে কাগুজে রসিদ যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ মনে করে, এতে ভোটের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।

নির্বাচনের আগে বড় পরীক্ষা

আগামী নির্বাচনের আগে ব্রাজিলের ভোটিং ব্যবস্থা আবারও জনআস্থার পরীক্ষার মুখে পড়েছে। প্রযুক্তিগতভাবে নিরাপদ বলে দাবি করা হলেও রাজনৈতিক বিভাজন ও অনলাইনে ছড়ানো সন্দেহ ভোটারদের একাংশকে এখনো আশ্বস্ত করতে পারেনি। ফলে নির্বাচনের ফলাফল যতই নির্ভুল হোক, তা গ্রহণযোগ্য করে তোলাই এখন নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।