ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক পণ্য বাণিজ্য ২০২৪ সালে ১ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০০৩ সালের তুলনায় এই বাণিজ্য বেড়েছে ১৩ গুণেরও বেশি। এখন ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখে এই বাণিজ্যকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বুধবার জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-আগস্ট সময়ে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশটির পণ্য রপ্তানি প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে তিনি ভারত ও অন্যান্য ব্রিকস দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। শনিবার শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের আগে তাঁর এই বক্তব্যকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাস্তব ফলাফল অর্জনের ভারতের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈশ্বিক বাণিজ্যে পরিবর্তন
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএনসিটিএডির তথ্য অনুযায়ী, ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ পণ্য বাণিজ্য গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে জোটের দেশগুলোর অর্থনীতি, শিল্প কাঠামো, সম্পদ এবং উন্নয়নের স্তরে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ফলে পারস্পরিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য সুরক্ষাবাদ বাড়ায় এই সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রচলিত পশ্চিমা বাজারে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবেশাধিকার সংকুচিত হলে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও শিল্প রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্লোবাল সাউথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।![]()
সেবা ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ
শুধু প্রচলিত পণ্য বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করে ব্রিকসের বাণিজ্যকে আরও বড় পর্যায়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সেবা বাণিজ্য, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সবুজ শিল্পকে নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্বে ডিজিটালভাবে সরবরাহ করা সেবার বাণিজ্য ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা মোট সেবা বাণিজ্যের ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ। ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যেও ডিজিটাল বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
চীনের শক্তিশালী উৎপাদনভিত্তি ও উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানির সক্ষমতা এবং ব্রাজিলের দ্রুত সম্প্রসারিত আন্তসীমান্ত ই-কমার্স খাত পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সবুজ শিল্পেও সম্ভাবনা
ব্রিকসের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সবুজ শিল্প আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। চীনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা, দক্ষিণ আফ্রিকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা এবং ভারতের সবুজ অবকাঠামো ও সৌর খাতের বড় বাজার—এই সক্ষমতাগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগসূত্র তৈরি করা সম্ভব।
নয়াদিল্লি সম্মেলনে শিল্প ও সরবরাহ চেইন সহযোগিতা আরও গভীর করার মাধ্যমে এসব সম্ভাবনাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর ভিন্নতা দূর করার বদলে পারস্পরিক সমন্বয় ও অভিন্ন স্বার্থ খোঁজার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্রিকসের ভূমিকা আরও জোরদার হতে পারে।
১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য অতিক্রমের পর ব্রিকসের পরবর্তী লক্ষ্য তাই শুধু বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানো নয়; বরং গ্লোবাল সাউথের জন্য বহুমুখী অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ঝুঁকি মোকাবিলা এবং উন্নয়নের সুযোগ ভাগ করে নেওয়ার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জোটকে আরও কার্যকর করে তোলা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















