১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১০৮)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 156
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

চ) শিক্ষা স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা ছিল আদিম স্তরের। লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য মুষ্টিমেয় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনেক থানায় কোন মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়ও ছিল না। স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি দাতব্য চিকিৎসালয় যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। এক ব্যাপক অংশের মানুষ প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিল্পপতি কর্মবীর রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জি মন্তব্য করেছিলেন- For want of elementary education the artisan and craftsman classes even if they had the necessary capital, can not appreciate the advantage of introducing machinery to cheapen the cost of production. (১৯) বিষয়টা কুটির শিল্পীদের ক্ষেত্রে শুধু নয় এমনকী কৃষকরাও প্রাথমিক শিক্ষার অভাবে উন্নত প্রথায় চাষাবাদও গ্রহণ করতে পারে না।

ছ) সুন্দরবনের অসংখ্য নদীতে এত জল থাকতে তা চাষের কাজে লাগানো অসম্ভব। বর্ষাকালে প্রচুর জল নদীতে চলে গিয়ে তা লোনা জলে পরিণত হয়- ফসলের কাজে এ বিপুল জলধারাকে ব্যবহার করা যায় না। ১৯৪১ সালে লক্ষ করা যাচ্ছে সুন্দরবনের সবটাই প্রায় একফসলি জমি। বর্ষাকালে আমন ধান ছাড়া অন্য কোন ফসল করা যায় না।

দুটো ফসল হয় এমন কোন জমির সন্ধান এ সময় সন্দেশখালি, ক্যানিং, জয়নগরে পাওয়া যাচ্ছে না। কেবলমাত্র মথুরাপুর থানার কৃষিযোগ্য জমির শতকরা ৬ শতাংশ জমিতে দু ফসল হয়। শীতকালে সেচের জল না পাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকাতে শীতকালীন কোন ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে সুন্দরবনের কৃষক সভ্যতার সমস্ত আশীর্বাদ থেকে সে ছিল বঞ্চিত। এমন এক সময়ে ১৯৪৭ এর ১৫ই আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে সে দু দেশে ভাগ হয়ে গেল এবং নতুন এক অবস্থার মধ্যে সে প্রবেশ করল। কিন্তু কৃষকের জীবনের এই সমস্যাগুলি তার সামনে আশু সমাধানের বিষয় হয়ে দাঁড়াল। অনেক কান্না ঘাম রক্তের মধ্য দিয়ে বহু আকাক্ষিত স্বাধীনতা এল।

সুন্দরবনের মানুষ স্বপ্ন দেখল নতুন এক জীবনের যেখানে তার দীর্ঘকালের অমীমাংসিত প্রশ্নের সমাধান খুঁজে পাবে। দেশের সামনে কৃষিসমস্যা বর্শা ফলকের মতো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। স্বাধীনতা মানে বাঁশ দড়ি ও একটা কাপড়ের পতাকা উত্তোলন নয়। জীবনের অনেক কিছু মৌল পরিবর্তন এর সাথে জড়িয়ে আছে। নতুন নতুন প্রত্যাশা জাগল সুন্দরবনের কৃষকের জীবনে যেখানে বর্শা হবে বাঁশি, কান্না হবে আলো, নোনা জলে সাঁতার কেটে একদিন মিষ্টি জলের মোহনায় পৌঁছে যাবে সবাই।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১০৮)

১২:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

চ) শিক্ষা স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা ছিল আদিম স্তরের। লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য মুষ্টিমেয় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনেক থানায় কোন মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়ও ছিল না। স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি দাতব্য চিকিৎসালয় যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। এক ব্যাপক অংশের মানুষ প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিল্পপতি কর্মবীর রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জি মন্তব্য করেছিলেন- For want of elementary education the artisan and craftsman classes even if they had the necessary capital, can not appreciate the advantage of introducing machinery to cheapen the cost of production. (১৯) বিষয়টা কুটির শিল্পীদের ক্ষেত্রে শুধু নয় এমনকী কৃষকরাও প্রাথমিক শিক্ষার অভাবে উন্নত প্রথায় চাষাবাদও গ্রহণ করতে পারে না।

ছ) সুন্দরবনের অসংখ্য নদীতে এত জল থাকতে তা চাষের কাজে লাগানো অসম্ভব। বর্ষাকালে প্রচুর জল নদীতে চলে গিয়ে তা লোনা জলে পরিণত হয়- ফসলের কাজে এ বিপুল জলধারাকে ব্যবহার করা যায় না। ১৯৪১ সালে লক্ষ করা যাচ্ছে সুন্দরবনের সবটাই প্রায় একফসলি জমি। বর্ষাকালে আমন ধান ছাড়া অন্য কোন ফসল করা যায় না।

দুটো ফসল হয় এমন কোন জমির সন্ধান এ সময় সন্দেশখালি, ক্যানিং, জয়নগরে পাওয়া যাচ্ছে না। কেবলমাত্র মথুরাপুর থানার কৃষিযোগ্য জমির শতকরা ৬ শতাংশ জমিতে দু ফসল হয়। শীতকালে সেচের জল না পাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকাতে শীতকালীন কোন ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে সুন্দরবনের কৃষক সভ্যতার সমস্ত আশীর্বাদ থেকে সে ছিল বঞ্চিত। এমন এক সময়ে ১৯৪৭ এর ১৫ই আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে সে দু দেশে ভাগ হয়ে গেল এবং নতুন এক অবস্থার মধ্যে সে প্রবেশ করল। কিন্তু কৃষকের জীবনের এই সমস্যাগুলি তার সামনে আশু সমাধানের বিষয় হয়ে দাঁড়াল। অনেক কান্না ঘাম রক্তের মধ্য দিয়ে বহু আকাক্ষিত স্বাধীনতা এল।

সুন্দরবনের মানুষ স্বপ্ন দেখল নতুন এক জীবনের যেখানে তার দীর্ঘকালের অমীমাংসিত প্রশ্নের সমাধান খুঁজে পাবে। দেশের সামনে কৃষিসমস্যা বর্শা ফলকের মতো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। স্বাধীনতা মানে বাঁশ দড়ি ও একটা কাপড়ের পতাকা উত্তোলন নয়। জীবনের অনেক কিছু মৌল পরিবর্তন এর সাথে জড়িয়ে আছে। নতুন নতুন প্রত্যাশা জাগল সুন্দরবনের কৃষকের জীবনে যেখানে বর্শা হবে বাঁশি, কান্না হবে আলো, নোনা জলে সাঁতার কেটে একদিন মিষ্টি জলের মোহনায় পৌঁছে যাবে সবাই।