০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১২৭)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • 144

শশাঙ্ক মণ্ডল

সুন্দরবনের অনেক গৃহস্থ আছে যারা তাদের বাস্তু সাপকে আঘাত করে না; কোন কারণে ঐ সাপ মারা গেলে তার জন্য তারা অশুচি পালন করে থাকে। অনেক মনসার মন্দির বা থান আছে যেখানে জীবন্ত সাপেরা থাকে এবং তাদের জন্য নৈবেদ্য দেওয়া হয়।

মনসা প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় মেলা, নৌকা বাইচ এবং নানা ধরণের আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২৪ পরগনার মিনাখাঁ থানার চৈতল গ্রামে মনসা প্রতিমার বিসর্জনকে কেন্দ্র করে বিদ্যাধরী নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন হয়। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির দিনে দূর দূরান্ত থেকে মনসা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য এখানে নিয়ে আসা হয়।

অসংখ্য নৌকায় প্রচুর মানুষ এই ভাসান দৃশ্য দেখার জন্য উপস্থিত হয়। বিসর্জন উপলক্ষে ডোবাই নাচ এর অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। নৌকার ওপর বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে নাচ দেখানো হয়; নানা গান ও ছড়ার সাহায্যে এই নাচ অনুষ্ঠিত হয়। এখানকার এই অনুষ্ঠান শতাব্দীপূর্ব বলে মনে করার সঙ্গত কারণ আছে।

শীতলা

সুন্দরবনবাসীর জীবনে ব্রিটিশ রাজত্বের শেষ যুগেও পাণীয় জলের কোন ব্যবস্থা ছিল না। জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিচু, স্বাস্থ্য, শিক্ষার সুযোগ ছিল না বললেই চলে- এ রকম অবস্থায় বসন্ত কলেরার আক্রমণ ছিল নিত্যসহচর, প্রতি বছর মহামারী আকারে বসন্ত কলেরা দেখা দিত, গ্রামের পর গ্রামে এদের তাণ্ডব সমান বেগে চলত।

দলে দলে মানুষ এর কবলে পড়ে প্রাণ হারাত। বসন্ত, কলেরা, সে যুগে এক ভয়ঙ্কর রোগ – এর হাত থেকে রেহাই পাবার জন্য মানুষ রোগ প্রতিষেধক দেবতার সৃষ্টি করেছে- রোগমুক্তির কামনায় শীতলার পূজা করা হত। অনেক গ্রামের গাছতলায় নানা দেবতার থানের পাশে শীতলার থান লক্ষ করা যায়। দেবীর প্রতি ভয়ে তার নাম উচ্চারণ করে না দেবীর পূজা করার জন্য ভিক্ষা প্রার্থনা করার সময় বলে ‘মায়ের দয়া হয়েছে’।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১২৭)

১২:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫

শশাঙ্ক মণ্ডল

সুন্দরবনের অনেক গৃহস্থ আছে যারা তাদের বাস্তু সাপকে আঘাত করে না; কোন কারণে ঐ সাপ মারা গেলে তার জন্য তারা অশুচি পালন করে থাকে। অনেক মনসার মন্দির বা থান আছে যেখানে জীবন্ত সাপেরা থাকে এবং তাদের জন্য নৈবেদ্য দেওয়া হয়।

মনসা প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় মেলা, নৌকা বাইচ এবং নানা ধরণের আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২৪ পরগনার মিনাখাঁ থানার চৈতল গ্রামে মনসা প্রতিমার বিসর্জনকে কেন্দ্র করে বিদ্যাধরী নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন হয়। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির দিনে দূর দূরান্ত থেকে মনসা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য এখানে নিয়ে আসা হয়।

অসংখ্য নৌকায় প্রচুর মানুষ এই ভাসান দৃশ্য দেখার জন্য উপস্থিত হয়। বিসর্জন উপলক্ষে ডোবাই নাচ এর অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। নৌকার ওপর বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে নাচ দেখানো হয়; নানা গান ও ছড়ার সাহায্যে এই নাচ অনুষ্ঠিত হয়। এখানকার এই অনুষ্ঠান শতাব্দীপূর্ব বলে মনে করার সঙ্গত কারণ আছে।

শীতলা

সুন্দরবনবাসীর জীবনে ব্রিটিশ রাজত্বের শেষ যুগেও পাণীয় জলের কোন ব্যবস্থা ছিল না। জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিচু, স্বাস্থ্য, শিক্ষার সুযোগ ছিল না বললেই চলে- এ রকম অবস্থায় বসন্ত কলেরার আক্রমণ ছিল নিত্যসহচর, প্রতি বছর মহামারী আকারে বসন্ত কলেরা দেখা দিত, গ্রামের পর গ্রামে এদের তাণ্ডব সমান বেগে চলত।

দলে দলে মানুষ এর কবলে পড়ে প্রাণ হারাত। বসন্ত, কলেরা, সে যুগে এক ভয়ঙ্কর রোগ – এর হাত থেকে রেহাই পাবার জন্য মানুষ রোগ প্রতিষেধক দেবতার সৃষ্টি করেছে- রোগমুক্তির কামনায় শীতলার পূজা করা হত। অনেক গ্রামের গাছতলায় নানা দেবতার থানের পাশে শীতলার থান লক্ষ করা যায়। দেবীর প্রতি ভয়ে তার নাম উচ্চারণ করে না দেবীর পূজা করার জন্য ভিক্ষা প্রার্থনা করার সময় বলে ‘মায়ের দয়া হয়েছে’।