১১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৪২)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • 112

শশাঙ্ক মণ্ডল

পূজা উপলক্ষে পাঁচালী গান করা হয়। বনবিবির জহুরীনামা জাতীয় পাঁচালী গান। বনবিবিকে বাঘের দেবতা হিসাবে কখনও বনের সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষাকারী দেবতা হিসাবে কল্পনা করা হয়। বনে প্রবেশের পূর্বে অনেক বাউলিয়া বনবিবির পূজা করে বাঘের মুখ বন্ধ করার মন্ত্র উচ্চারণ করে নির্ভয়ে বনে প্রবেশ করে; এ সময়ে দেবীর উদ্দেশ্যে মুরগি ছেড়ে দেওয়া হয়। সুন্দরবনের আরণ্যক সমাজের মানুষ হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে বনবিবির পূজার প্রচলন করেছে এবং এর উৎপত্তি ৪/৫ শত বছরের বেশি নয়। আদিতে বনবিবি বনদেবী হিসাবে পূজিত হতেন।

ইসলাম ধর্ম বিজয়ের যুগে পীর গাজীদের সঙ্গে সহাবস্থানের সূত্রে হিন্দু মুসলমানের সম্মিলিত দেবী হিসাবে বনবিবির আবির্ভাব ঘটেছে। অর্থনৈতিক কারণে বনে এলে ভাই ভাই-শাস্ত্র কোরান তাদের মিলনে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।

বনবিবির সঙ্গে দক্ষিণ রায়ের বিরোধ এবং মিলনের কাহিনী রচনা করেছেন মুনসি বায়নন্দী বনবিবির জশ্বরী নামা। ধনা মনা মৌলের কাহিনী অবলম্বনে সুন্দরবনের দক্ষিণাংশে পল্লীবাসীদের মধ্যে সে যুগে দুখে যাত্রা পালা অভিনীত হত। এ সব কাহিনীতে দক্ষিণ রায়ের সঙ্গে বনবিবির বিরোধ বড় খাঁ গাজীর মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়ে যায়। দক্ষিণ রায় বনবিবির সামনে প্রতিজ্ঞা করেন বনবিবির ভক্তদের তিনি বাধা দেবেন না-

আঠারো ভাটির মাঝে আমি সবার মা

মা বলি ডাকিলে কার বিপদ থাকে না।

বিপদে পড়ি যেবা মা বলি ডাকিবে

কভু তারে হিংসা না করিবে।

হাসনাবাদ থানায় ভুরকুন্ডা গ্রামের বনবিবি থানকে খুব প্রাচীন বলে অনেকে মনে করেন। এখনও বৎসরের নির্দিষ্ট সময়ে অসংখ্য ভক্তের উপস্থিতিতে বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হয়, সেই উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকার বনবিবির পাঁচালী গায়কেরা এখানে সমবেত হয়। বনবিবির সাথে দক্ষিণ রায় অত্যন্ত গভীর ভাবে সম্পৃক্ত, দক্ষিণ রায় সম্পর্কে বহু অনুসন্ধান হয়েছে; অনেক গবেষক এ ব্যাপারে তাদের উল্লেখযোগ্য মতামত প্রকাশ করেছেন প্রাক্ ঐতিহাসিক যুগে মিশরের শাসকরা বাংলাদেশ শাসন করতেন। তাদের প্রতিনিধি হিসাবে বাংলার দক্ষিণ এলাকার শাসক বলে দক্ষিণ রায় এই মত থেকে শুরু করে নানাভাবে দক্ষিণ রায়কে বোঝার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু নানা মুনির নানা মতে বিষয়টা কুহেলি কুয়াশায় আজও আবৃত।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৪২)

১২:০০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫

শশাঙ্ক মণ্ডল

পূজা উপলক্ষে পাঁচালী গান করা হয়। বনবিবির জহুরীনামা জাতীয় পাঁচালী গান। বনবিবিকে বাঘের দেবতা হিসাবে কখনও বনের সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষাকারী দেবতা হিসাবে কল্পনা করা হয়। বনে প্রবেশের পূর্বে অনেক বাউলিয়া বনবিবির পূজা করে বাঘের মুখ বন্ধ করার মন্ত্র উচ্চারণ করে নির্ভয়ে বনে প্রবেশ করে; এ সময়ে দেবীর উদ্দেশ্যে মুরগি ছেড়ে দেওয়া হয়। সুন্দরবনের আরণ্যক সমাজের মানুষ হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে বনবিবির পূজার প্রচলন করেছে এবং এর উৎপত্তি ৪/৫ শত বছরের বেশি নয়। আদিতে বনবিবি বনদেবী হিসাবে পূজিত হতেন।

ইসলাম ধর্ম বিজয়ের যুগে পীর গাজীদের সঙ্গে সহাবস্থানের সূত্রে হিন্দু মুসলমানের সম্মিলিত দেবী হিসাবে বনবিবির আবির্ভাব ঘটেছে। অর্থনৈতিক কারণে বনে এলে ভাই ভাই-শাস্ত্র কোরান তাদের মিলনে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।

বনবিবির সঙ্গে দক্ষিণ রায়ের বিরোধ এবং মিলনের কাহিনী রচনা করেছেন মুনসি বায়নন্দী বনবিবির জশ্বরী নামা। ধনা মনা মৌলের কাহিনী অবলম্বনে সুন্দরবনের দক্ষিণাংশে পল্লীবাসীদের মধ্যে সে যুগে দুখে যাত্রা পালা অভিনীত হত। এ সব কাহিনীতে দক্ষিণ রায়ের সঙ্গে বনবিবির বিরোধ বড় খাঁ গাজীর মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়ে যায়। দক্ষিণ রায় বনবিবির সামনে প্রতিজ্ঞা করেন বনবিবির ভক্তদের তিনি বাধা দেবেন না-

আঠারো ভাটির মাঝে আমি সবার মা

মা বলি ডাকিলে কার বিপদ থাকে না।

বিপদে পড়ি যেবা মা বলি ডাকিবে

কভু তারে হিংসা না করিবে।

হাসনাবাদ থানায় ভুরকুন্ডা গ্রামের বনবিবি থানকে খুব প্রাচীন বলে অনেকে মনে করেন। এখনও বৎসরের নির্দিষ্ট সময়ে অসংখ্য ভক্তের উপস্থিতিতে বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হয়, সেই উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকার বনবিবির পাঁচালী গায়কেরা এখানে সমবেত হয়। বনবিবির সাথে দক্ষিণ রায় অত্যন্ত গভীর ভাবে সম্পৃক্ত, দক্ষিণ রায় সম্পর্কে বহু অনুসন্ধান হয়েছে; অনেক গবেষক এ ব্যাপারে তাদের উল্লেখযোগ্য মতামত প্রকাশ করেছেন প্রাক্ ঐতিহাসিক যুগে মিশরের শাসকরা বাংলাদেশ শাসন করতেন। তাদের প্রতিনিধি হিসাবে বাংলার দক্ষিণ এলাকার শাসক বলে দক্ষিণ রায় এই মত থেকে শুরু করে নানাভাবে দক্ষিণ রায়কে বোঝার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু নানা মুনির নানা মতে বিষয়টা কুহেলি কুয়াশায় আজও আবৃত।