০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৪৬)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫
  • 159

শশাঙ্ক মণ্ডল

কর্মানুসারে এ সব গানের নানা রকম নামকরণ করা হয়েছে। ধান কাটার গান, পাট নিড়ানো ও পাট কাটার গান, ধান ভানার গান, ছাদ পেটানো গান, সাঁওতাল আদিবাসীদের মাটি কাটার সময় সমবেত ভাবে গান গাওয়া দশই গান বলা হয়। কর্মসঙ্গীত শ্রমজীবী মানুষের শ্রম লাঘব করে মনে স্ফূর্তি এনে দেয় এবং কাজের একঘেয়েমি থেকে মানুষকে মুক্ত করে। নদীবহুল দেশে পরিবহণের একমাত্র বাহন নৌকা। সুন্দরবনের নদীতীরবর্তী প্রতিটি গৃহস্থের নৌকার প্রয়োজন হয়। প্রতাপাদিত্য চাঁদ রায় ঈশা খাঁর বিশাল নৌবহর ছিল।

\৫০/৬০ হাত লম্বা নৌকায় ৩০/৪০ জন সশস্ত্র মাঝি দ্রুত গতিতে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই এ যোগ দিত। আবার এরাই শান্তির সময়ে উৎসব আনন্দের দিনে এসব নৌকা নিয়ে নৌকা বাইচে অংশ গ্রহণ করত। সাধারণ মানুষের মুখের সারিগানের অনেক লাইন অশ্লীল মনে হতে পারে, গ্রামের মানুষ নির্বিবাদে এসব গান গেয়ে যেত; শ্লীল অশ্লীল কাল ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে তা মনে রাখতে হবে। সারিগানের বিষয়বস্তু অনেকক্ষেত্রে রাধাকৃষ্ণের কাহিনী তা বৈষ্ণবতত্ত্বের খোলস পালটিয়ে সাধারণ নরনারী হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে।

তুমিতো সুন্দর কানাই তোমার ভাঙা না

কোথায় রাখব দইয়ের পশরা কোথায় রাখব পা

শুনে কানাই বলে তখন শুন রসবতী ভ

রা কালে ভরাগাঙে কেন এলে যুবতী।

নৌকা বাইচে জয়লাভ করে উপহার দ্রব্যাদি সঙ্গে নিয়ে বীরের বেশে নৌকা নিয়ে গ্রামে ফিরত, সে সময়ে তারা গেয়ে উঠত ‘জয়দে লো, রামের মা তোর গোপাল আইল ঘরে।’ এ ধরনের অনেক গান খুলনা, বরিশাল ২৪ পরগণার মানুষের মুখে মুখে সে যুগে ব্যাপকভাবে চলত।

ছাদপেটানো গান –

নাগরিক পরিবেশের গান; নদীর উন্মুক্ত জলরাশির উল্লাস এখানে নেই। মাথার ওপর খরসূর্য, কখনও বা বৃষ্টি কাজের গতিকে মন্থর করে তোলে। একঘেয়েমি কাজের ক্লান্তিতে মন নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ঘুম ঘুম একটা ভাব মনের ওপর চেপে বসে, দেহ এলিয়ে পড়তে চায়। একে সজীব ও সচল করে তোলার জন্য গান গেয়ে ওঠে কোন শ্রমিক সঙ্গে সঙ্গে অন্য শ্রমিকেরা গলা মেলায়। স্বাভাবিক ভাবে গানের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, অনেক সময় এটা করার জন্য শ্লীল অশ্লীল পরিবেশের মধ্যে লুকোচুরি খেলা চলে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৪৬)

১২:০০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫

শশাঙ্ক মণ্ডল

কর্মানুসারে এ সব গানের নানা রকম নামকরণ করা হয়েছে। ধান কাটার গান, পাট নিড়ানো ও পাট কাটার গান, ধান ভানার গান, ছাদ পেটানো গান, সাঁওতাল আদিবাসীদের মাটি কাটার সময় সমবেত ভাবে গান গাওয়া দশই গান বলা হয়। কর্মসঙ্গীত শ্রমজীবী মানুষের শ্রম লাঘব করে মনে স্ফূর্তি এনে দেয় এবং কাজের একঘেয়েমি থেকে মানুষকে মুক্ত করে। নদীবহুল দেশে পরিবহণের একমাত্র বাহন নৌকা। সুন্দরবনের নদীতীরবর্তী প্রতিটি গৃহস্থের নৌকার প্রয়োজন হয়। প্রতাপাদিত্য চাঁদ রায় ঈশা খাঁর বিশাল নৌবহর ছিল।

\৫০/৬০ হাত লম্বা নৌকায় ৩০/৪০ জন সশস্ত্র মাঝি দ্রুত গতিতে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই এ যোগ দিত। আবার এরাই শান্তির সময়ে উৎসব আনন্দের দিনে এসব নৌকা নিয়ে নৌকা বাইচে অংশ গ্রহণ করত। সাধারণ মানুষের মুখের সারিগানের অনেক লাইন অশ্লীল মনে হতে পারে, গ্রামের মানুষ নির্বিবাদে এসব গান গেয়ে যেত; শ্লীল অশ্লীল কাল ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে তা মনে রাখতে হবে। সারিগানের বিষয়বস্তু অনেকক্ষেত্রে রাধাকৃষ্ণের কাহিনী তা বৈষ্ণবতত্ত্বের খোলস পালটিয়ে সাধারণ নরনারী হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে।

তুমিতো সুন্দর কানাই তোমার ভাঙা না

কোথায় রাখব দইয়ের পশরা কোথায় রাখব পা

শুনে কানাই বলে তখন শুন রসবতী ভ

রা কালে ভরাগাঙে কেন এলে যুবতী।

নৌকা বাইচে জয়লাভ করে উপহার দ্রব্যাদি সঙ্গে নিয়ে বীরের বেশে নৌকা নিয়ে গ্রামে ফিরত, সে সময়ে তারা গেয়ে উঠত ‘জয়দে লো, রামের মা তোর গোপাল আইল ঘরে।’ এ ধরনের অনেক গান খুলনা, বরিশাল ২৪ পরগণার মানুষের মুখে মুখে সে যুগে ব্যাপকভাবে চলত।

ছাদপেটানো গান –

নাগরিক পরিবেশের গান; নদীর উন্মুক্ত জলরাশির উল্লাস এখানে নেই। মাথার ওপর খরসূর্য, কখনও বা বৃষ্টি কাজের গতিকে মন্থর করে তোলে। একঘেয়েমি কাজের ক্লান্তিতে মন নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ঘুম ঘুম একটা ভাব মনের ওপর চেপে বসে, দেহ এলিয়ে পড়তে চায়। একে সজীব ও সচল করে তোলার জন্য গান গেয়ে ওঠে কোন শ্রমিক সঙ্গে সঙ্গে অন্য শ্রমিকেরা গলা মেলায়। স্বাভাবিক ভাবে গানের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, অনেক সময় এটা করার জন্য শ্লীল অশ্লীল পরিবেশের মধ্যে লুকোচুরি খেলা চলে।