০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৪৮)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 156

শশাঙ্ক মণ্ডল

কবিগান

অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে উনিশ শতক জুড়ে এর ব্যাপকতা লক্ষ করা গেল – সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এমনকী বিশ শতকের তৃতীয় দশক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য কবিওয়ালা জনচিত্তকে আলোড়িত করে তুলেছিল। ঝুমুর যাত্রা পাচালীর সাথে কবিগানের অনেক ক্ষেত্রে মিল লক্ষ করা যায়। আসরে দাঁড়িয়ে মুখে মুখে তাৎক্ষণিক গান রচয়িতাদের কবি বা কবিয়ালের সম্মান দেয় জনসাধারণ, তাদের অসাধারণ এই ক্ষমতার জন্য। চাপান উতোর এর মধ্য দিয়ে মাঝে মাঝে ভীষণ ঝগড়া এমনকী মোটা দাগের অশ্লীলতা, গালি গালাজও চলত। এজন্য গৃহস্থের বাড়িতে কবির আসর না বসে হাটেবাজারে বারোয়ারি তলায় পূজামণ্ডপে এর আসর বসানো হত।

কবিগানের বিষয়বস্তুর মধ্যে পৌরাণিক কাহিনী থেকে সমকালীন ঘটনাও স্থান পেত। দেবদেবীর লীলারস থেকে মানবীয় কামনা বাসনার প্রীতিরসে পূর্ণ হয়ে উঠত।

কবিয়ালরা সে যুগে জনশিক্ষার কিছুটা দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ধর্ম সমাজ নীতি বিদ্যা বিষয়ক জ্ঞানদান ছিল কবিগানের লক্ষ্য। বিতর্কের মাধ্যমে যুক্তিপ্রয়োগে সত্যের উদঘাটন ছিল তাদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। গ্রামের অজ্ঞ অশিক্ষিত মানুষের মনে সমাজ সচেতনতা ধর্মবোধ জাগানোর লক্ষ্যে অবিচল থেকে কবিয়ালরা সে যুগে লোক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কলকাতা সহ অন্যান্য শহরগুলিতে কবিগানের প্রভাব কমতে থাকে কিন্তু এ সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকাতে তার বিস্তৃতি লক্ষ করা গিয়েছিল।

দুর্গা পূজা উপলক্ষে বা অন্য কোন উৎসব উপলক্ষে সে দিন গ্রামে গঞ্জে অনেক জমিদার কাছারি বাড়িতে কবিগানের আসর বসানো হত। খুলনা বরিশালের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পাঁচু দত্ত, রূপা পাঠা, হরমোহন মথুর সরকারদের কবিয়াল হিসাবে নাম ছড়িয়ে পড়ে। এরা সকলে যশোর খুলনার অধিবাসী ছিল। পরবর্তী কালে নিশিকান্ত সরকাব, রামবিলাস সরকাব, মহেন্দ্র সরকার, নকুল দত্ত, প্রমুখ কবিয়ালদের নামও উল্লেখযোগ্য। রামরূপের কবিখ্যাতি বরিশাল ফরিদপুর এবং পূর্ববঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রাম রূপ ঠাকুরের কবিগানের নমুনা-

চিতেন:

শ্যাম আসার আশা পেয়ে সখীগণ সঙ্গে

নিয়ে বিনোদিনী

-যেমন চাতকিনী পিপাসায়, তৃষিতা জল

আশায় কুঞ্জ সাজায় কমলিনী ইত্যাদি।

ধুয়া-

ফিরে যাও হে নাগর, প্যারী বিচ্ছেদে হয়ে কাতর

আছে ঘুমাইয়ে

ফিরে যাও হে শ্যাম তোমার সম্মান নিয়ে।

খুলনা জেলায় জপসা গ্রামের কবিয়াল কামিনী ও তার আত্মীয় তারাচাঁদ অসংখ্য কবিগান রচনা করেছিল এবং তার বংশ ‘কবেল’ বংশ নামে পরিচিত ও সম্মানিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৪৮)

১২:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

শশাঙ্ক মণ্ডল

কবিগান

অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে উনিশ শতক জুড়ে এর ব্যাপকতা লক্ষ করা গেল – সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এমনকী বিশ শতকের তৃতীয় দশক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য কবিওয়ালা জনচিত্তকে আলোড়িত করে তুলেছিল। ঝুমুর যাত্রা পাচালীর সাথে কবিগানের অনেক ক্ষেত্রে মিল লক্ষ করা যায়। আসরে দাঁড়িয়ে মুখে মুখে তাৎক্ষণিক গান রচয়িতাদের কবি বা কবিয়ালের সম্মান দেয় জনসাধারণ, তাদের অসাধারণ এই ক্ষমতার জন্য। চাপান উতোর এর মধ্য দিয়ে মাঝে মাঝে ভীষণ ঝগড়া এমনকী মোটা দাগের অশ্লীলতা, গালি গালাজও চলত। এজন্য গৃহস্থের বাড়িতে কবির আসর না বসে হাটেবাজারে বারোয়ারি তলায় পূজামণ্ডপে এর আসর বসানো হত।

কবিগানের বিষয়বস্তুর মধ্যে পৌরাণিক কাহিনী থেকে সমকালীন ঘটনাও স্থান পেত। দেবদেবীর লীলারস থেকে মানবীয় কামনা বাসনার প্রীতিরসে পূর্ণ হয়ে উঠত।

কবিয়ালরা সে যুগে জনশিক্ষার কিছুটা দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ধর্ম সমাজ নীতি বিদ্যা বিষয়ক জ্ঞানদান ছিল কবিগানের লক্ষ্য। বিতর্কের মাধ্যমে যুক্তিপ্রয়োগে সত্যের উদঘাটন ছিল তাদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। গ্রামের অজ্ঞ অশিক্ষিত মানুষের মনে সমাজ সচেতনতা ধর্মবোধ জাগানোর লক্ষ্যে অবিচল থেকে কবিয়ালরা সে যুগে লোক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কলকাতা সহ অন্যান্য শহরগুলিতে কবিগানের প্রভাব কমতে থাকে কিন্তু এ সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকাতে তার বিস্তৃতি লক্ষ করা গিয়েছিল।

দুর্গা পূজা উপলক্ষে বা অন্য কোন উৎসব উপলক্ষে সে দিন গ্রামে গঞ্জে অনেক জমিদার কাছারি বাড়িতে কবিগানের আসর বসানো হত। খুলনা বরিশালের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পাঁচু দত্ত, রূপা পাঠা, হরমোহন মথুর সরকারদের কবিয়াল হিসাবে নাম ছড়িয়ে পড়ে। এরা সকলে যশোর খুলনার অধিবাসী ছিল। পরবর্তী কালে নিশিকান্ত সরকাব, রামবিলাস সরকাব, মহেন্দ্র সরকার, নকুল দত্ত, প্রমুখ কবিয়ালদের নামও উল্লেখযোগ্য। রামরূপের কবিখ্যাতি বরিশাল ফরিদপুর এবং পূর্ববঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রাম রূপ ঠাকুরের কবিগানের নমুনা-

চিতেন:

শ্যাম আসার আশা পেয়ে সখীগণ সঙ্গে

নিয়ে বিনোদিনী

-যেমন চাতকিনী পিপাসায়, তৃষিতা জল

আশায় কুঞ্জ সাজায় কমলিনী ইত্যাদি।

ধুয়া-

ফিরে যাও হে নাগর, প্যারী বিচ্ছেদে হয়ে কাতর

আছে ঘুমাইয়ে

ফিরে যাও হে শ্যাম তোমার সম্মান নিয়ে।

খুলনা জেলায় জপসা গ্রামের কবিয়াল কামিনী ও তার আত্মীয় তারাচাঁদ অসংখ্য কবিগান রচনা করেছিল এবং তার বংশ ‘কবেল’ বংশ নামে পরিচিত ও সম্মানিত হয়েছে।