১২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৯)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 169

শশাঙ্ক মণ্ডল

দ্বিতীয় অধ্যায়

সুন্দরবনের মানুষের জীবনে নদী অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত; এককথায় বলা যেতে পারে নদীই তার জীবন- চাইল্ড অফ দ্য রিভার। নদী তার বৈষয়িক সাংস্কৃতিক জীবনকে জড়িয়ে ধরে আছে-সৌভাগ্য দুর্ভাগ্যের নিত্য সাক্ষী। সুন্দরবনের এই বিশাল এলাকায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে নদীর ভূমিকাই প্রধান। নদীতীরবর্তী বাঁধ হল তার সড়কপথ; এই পথ দিয়েই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে হয়। স্বাধীনতা পূর্ববর্তীকালে পাকা সড়ক দু-একটি তৈরি হয়েছিল প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য তবু তার পরিমাণ খুবই কম। বাখরগঞ্জ জেলায় রাস্তা ছিল না বলাই চলে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতেও সুন্দরবন এলাকায় কোন উল্লেখযোগ্য সড়ক গড়ে ওঠেনি। কিন্তু প্রাচীনকাল থেকে নৌপরিবহণের সুবিধা এলাকার মানুষ পেয়েছে এবং প্রাকৃতিক কারণে তাকে এই পরিবহণ- ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়েছে।

সে যুগে নানা ধরনের নৌকার প্রচলন ছিল। গ্রামীণ কুটিরশিল্প হিসাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় নৌকা তৈরির মিস্ত্রিরা বনের কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করত। সুন্দরবনে অনেক গঞ্জ ছিল সে যুগে যেখানে নানা মাপের নৌকা বিক্রয়ের জন্য মজুদ থাকত। ব্যাপারীরা দূর-দুরান্ত থেকে নৌকা কিনে নিয়ে এসে লাভের উদ্দেশ্যে আবার বিক্রয়ের ব্যবস্থা করত। নানা ধরনের নৌকার প্রচলন ছিল, মানও ছিল বিভিন্ন। কোন নৌকা যাত্রী বহনে নিয়োজিত হত আবার কোন নৌকা মাল পরিবহণে লাগান হত। এসব নৌকার ছিল ভিন্ন ভিন্ন নাম।

বালাম, গোধা, সুপ, সম্পান, কোঁদা, গুরাব বজরা, মাসুয়া পাতিলা জালিয়া, জেলে, ময়ূরপঙ্খী, বাওলিয়া, ডিঙ্গি প্রভৃতি নানা ধরনের নৌকার প্রচলন ছিল। প্রতিটি গ্রামবাসী তার নিজস্ব প্রয়োজনে ছোট নৌকা-ডিঙ্গি নৌকা রাখতে বাধ্য হত আর গরিব মানুষরা তাদের দৈনন্দিন প্রায়োজনে যোগাযোগ, হাট বাজার, প্রভৃতি কাজে এক ধরনের ছোট ডোঙা ব্যবহার করত। একজন মানুষ অল্প জিনিসপত্র নিয়ে ডোঙায় উঠে এক জায়গা থেকে অন্য যায়গায় যেতে পারত। সাধারণত খালে বিলে ডোঙা চলত। দুরন্ত স্রোতে ডোঙা ব্যবহার করা যায় না, তাল গাছের গোড়ার অংশ দিয়ে এই ডোঙা তৈরি হত। সুপারি গাছ থেকে নৌকা তৈরি করা হত বরিশাল খুলনার সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায়।

এসব নৌকা ৮/১০ হাতের ওপর করা যেত না। আর চওড়া হত ২.৫০/৩ হাত। সুপারি গাছ থেকে চটা তৈরি করে পেরেক দিয়ে কাঠের সাথে জোড়া হত। জল বন্ধ করার জন্য ধানের কুড়ো গাঁবের আঠা মিশিয়ে নৌকার গায়ে প্রলেপ লাগান হত। এ-সব নৌকা বেশ কয়েক বছর কাজে লাগত। সস্তায় নৌকা তৈরি করে গৃহস্থরা তাদের প্রয়োজন মেটাত। সুন্দরবনের বিভিন্ন হাটে সে যুগে বিভিন্ন ধরনের নৌকা বিক্রয়ের জন্য আসত। বড়দল, নবেকী, ঝালকাটী বরিশাল, মগরাহাট, নামখানা, ডায়মন্ডহারবার, হিঙ্গ লগঞ্জ, হাসনাবাদ প্রভৃতি গঞ্জে নৌকা তৈরি হত বিক্রয়ের জন্য। বরিশাল জেলার বাউফল থানার কালি শুড়ির মেলায় নৌকা বিক্রয়ের জন্য পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কারিগররা নৌকা নিয়ে আসত।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৯)

০৪:০০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

দ্বিতীয় অধ্যায়

সুন্দরবনের মানুষের জীবনে নদী অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত; এককথায় বলা যেতে পারে নদীই তার জীবন- চাইল্ড অফ দ্য রিভার। নদী তার বৈষয়িক সাংস্কৃতিক জীবনকে জড়িয়ে ধরে আছে-সৌভাগ্য দুর্ভাগ্যের নিত্য সাক্ষী। সুন্দরবনের এই বিশাল এলাকায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে নদীর ভূমিকাই প্রধান। নদীতীরবর্তী বাঁধ হল তার সড়কপথ; এই পথ দিয়েই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে হয়। স্বাধীনতা পূর্ববর্তীকালে পাকা সড়ক দু-একটি তৈরি হয়েছিল প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য তবু তার পরিমাণ খুবই কম। বাখরগঞ্জ জেলায় রাস্তা ছিল না বলাই চলে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতেও সুন্দরবন এলাকায় কোন উল্লেখযোগ্য সড়ক গড়ে ওঠেনি। কিন্তু প্রাচীনকাল থেকে নৌপরিবহণের সুবিধা এলাকার মানুষ পেয়েছে এবং প্রাকৃতিক কারণে তাকে এই পরিবহণ- ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়েছে।

সে যুগে নানা ধরনের নৌকার প্রচলন ছিল। গ্রামীণ কুটিরশিল্প হিসাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় নৌকা তৈরির মিস্ত্রিরা বনের কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করত। সুন্দরবনে অনেক গঞ্জ ছিল সে যুগে যেখানে নানা মাপের নৌকা বিক্রয়ের জন্য মজুদ থাকত। ব্যাপারীরা দূর-দুরান্ত থেকে নৌকা কিনে নিয়ে এসে লাভের উদ্দেশ্যে আবার বিক্রয়ের ব্যবস্থা করত। নানা ধরনের নৌকার প্রচলন ছিল, মানও ছিল বিভিন্ন। কোন নৌকা যাত্রী বহনে নিয়োজিত হত আবার কোন নৌকা মাল পরিবহণে লাগান হত। এসব নৌকার ছিল ভিন্ন ভিন্ন নাম।

বালাম, গোধা, সুপ, সম্পান, কোঁদা, গুরাব বজরা, মাসুয়া পাতিলা জালিয়া, জেলে, ময়ূরপঙ্খী, বাওলিয়া, ডিঙ্গি প্রভৃতি নানা ধরনের নৌকার প্রচলন ছিল। প্রতিটি গ্রামবাসী তার নিজস্ব প্রয়োজনে ছোট নৌকা-ডিঙ্গি নৌকা রাখতে বাধ্য হত আর গরিব মানুষরা তাদের দৈনন্দিন প্রায়োজনে যোগাযোগ, হাট বাজার, প্রভৃতি কাজে এক ধরনের ছোট ডোঙা ব্যবহার করত। একজন মানুষ অল্প জিনিসপত্র নিয়ে ডোঙায় উঠে এক জায়গা থেকে অন্য যায়গায় যেতে পারত। সাধারণত খালে বিলে ডোঙা চলত। দুরন্ত স্রোতে ডোঙা ব্যবহার করা যায় না, তাল গাছের গোড়ার অংশ দিয়ে এই ডোঙা তৈরি হত। সুপারি গাছ থেকে নৌকা তৈরি করা হত বরিশাল খুলনার সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায়।

এসব নৌকা ৮/১০ হাতের ওপর করা যেত না। আর চওড়া হত ২.৫০/৩ হাত। সুপারি গাছ থেকে চটা তৈরি করে পেরেক দিয়ে কাঠের সাথে জোড়া হত। জল বন্ধ করার জন্য ধানের কুড়ো গাঁবের আঠা মিশিয়ে নৌকার গায়ে প্রলেপ লাগান হত। এ-সব নৌকা বেশ কয়েক বছর কাজে লাগত। সস্তায় নৌকা তৈরি করে গৃহস্থরা তাদের প্রয়োজন মেটাত। সুন্দরবনের বিভিন্ন হাটে সে যুগে বিভিন্ন ধরনের নৌকা বিক্রয়ের জন্য আসত। বড়দল, নবেকী, ঝালকাটী বরিশাল, মগরাহাট, নামখানা, ডায়মন্ডহারবার, হিঙ্গ লগঞ্জ, হাসনাবাদ প্রভৃতি গঞ্জে নৌকা তৈরি হত বিক্রয়ের জন্য। বরিশাল জেলার বাউফল থানার কালি শুড়ির মেলায় নৌকা বিক্রয়ের জন্য পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কারিগররা নৌকা নিয়ে আসত।