০১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬৬)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪
  • 152
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

সুন্দরবন এলাকার উত্তরাংশে ব্রিটিশ রাজত্বে চিনি ও গুড় শিল্প এক উল্লেখযোগ্য শিল্প হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। কৃষকরা বেশি করে এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে তা উনিশ শতকের শুরুতে লক্ষ করা যাচ্ছিল। চিনি শিল্পে কাঁচামাল সংগ্রহ করা হত প্রধানত খেজুর গাছ থেকে। অবশ্য অনেক জমিতে সে যুগে আখ চাষ করা হত।

১৭৯১ এর পরে এই এলাকায় আখের চাষ কমেছে। ৭৬ মন্বন্তর এর পরবর্তী বছরগুলিতে বিশেষ করে ১৭৮৬-৮৮ এর বন্যার পরবর্তীকালে চাষিরা ধান চাষের দিকে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছিল। আখের চাষ কম হলেও খেজুর গাছকে কেন্দ্র করে এই বিরাট এলাকায় উনিশ শতকের শেষ দশক পর্যন্ত এই শিল্পের বিশেষ অগ্রগতি লক্ষ করা যায়।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন যশোর জেলায় বেশ কয়েকজন সাহেব কয়েকটি চিনিকল প্রতিষ্ঠা করেন। কোটচাঁদপুরে ‘দি ধোবা সুগার ফ্যাকটরিতে’ ইউরোপীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয় এবং পাশ্চাত্য দেশীয় পদ্ধতিতে চিনি উৎপাদনের চেষ্টা হয়। ১৮৪২ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে এই কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।

মিঃ মিডহাউস কোটচাঁদপুরের এই কারখানা কিনে নেন। Westland-এর রিপোর্টে জানা যাচ্ছে ১৮৭১ খ্রীষ্টাব্দেও ঐ কারখানা চলছে। Glatstone Wylee Co. ১৮৪২ খ্রীষ্টাব্দে চৌগাছাতে চিনির কারখানা খোলে এবং মালকেনার জন্য কেশবপুর ক্রিমোহিনী, ঝিঙ্গেগাছা, নারকেলবেড়িয়া, কোটচাদপুর, চাঁদুড়িয়া, সাড়াপুল, বাদুড়িয়াতে আড়ত খোলে। ১৮৫০-এর দিকে এই কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, তাহেরপুরে খেজুরের গুড় থেকে মদ তৈরির জন্য একটা কারখানা সাহেবরা প্রতিষ্ঠা করে।

কিন্তু ব্রিটিশ কোম্পানিগুলি চিনি শিল্পের ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। দেশীয় বণিকরা এই শিল্পে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। দেশীয় শিল্পীরা ছোট ছোট কারখানার মাধ্যমে চিনি শিল্পের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬৬)

১২:০০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

সুন্দরবন এলাকার উত্তরাংশে ব্রিটিশ রাজত্বে চিনি ও গুড় শিল্প এক উল্লেখযোগ্য শিল্প হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। কৃষকরা বেশি করে এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে তা উনিশ শতকের শুরুতে লক্ষ করা যাচ্ছিল। চিনি শিল্পে কাঁচামাল সংগ্রহ করা হত প্রধানত খেজুর গাছ থেকে। অবশ্য অনেক জমিতে সে যুগে আখ চাষ করা হত।

১৭৯১ এর পরে এই এলাকায় আখের চাষ কমেছে। ৭৬ মন্বন্তর এর পরবর্তী বছরগুলিতে বিশেষ করে ১৭৮৬-৮৮ এর বন্যার পরবর্তীকালে চাষিরা ধান চাষের দিকে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছিল। আখের চাষ কম হলেও খেজুর গাছকে কেন্দ্র করে এই বিরাট এলাকায় উনিশ শতকের শেষ দশক পর্যন্ত এই শিল্পের বিশেষ অগ্রগতি লক্ষ করা যায়।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন যশোর জেলায় বেশ কয়েকজন সাহেব কয়েকটি চিনিকল প্রতিষ্ঠা করেন। কোটচাঁদপুরে ‘দি ধোবা সুগার ফ্যাকটরিতে’ ইউরোপীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয় এবং পাশ্চাত্য দেশীয় পদ্ধতিতে চিনি উৎপাদনের চেষ্টা হয়। ১৮৪২ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে এই কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।

মিঃ মিডহাউস কোটচাঁদপুরের এই কারখানা কিনে নেন। Westland-এর রিপোর্টে জানা যাচ্ছে ১৮৭১ খ্রীষ্টাব্দেও ঐ কারখানা চলছে। Glatstone Wylee Co. ১৮৪২ খ্রীষ্টাব্দে চৌগাছাতে চিনির কারখানা খোলে এবং মালকেনার জন্য কেশবপুর ক্রিমোহিনী, ঝিঙ্গেগাছা, নারকেলবেড়িয়া, কোটচাদপুর, চাঁদুড়িয়া, সাড়াপুল, বাদুড়িয়াতে আড়ত খোলে। ১৮৫০-এর দিকে এই কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, তাহেরপুরে খেজুরের গুড় থেকে মদ তৈরির জন্য একটা কারখানা সাহেবরা প্রতিষ্ঠা করে।

কিন্তু ব্রিটিশ কোম্পানিগুলি চিনি শিল্পের ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। দেশীয় বণিকরা এই শিল্পে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। দেশীয় শিল্পীরা ছোট ছোট কারখানার মাধ্যমে চিনি শিল্পের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করে।