০৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ভারতের অগ্নিবীর প্রকল্পে অনিশ্চয়তায় হাজারো তরুণ সেনা

ভারতের নতুন সেনা নিয়োগ ব্যবস্থা অগ্নিবীর প্রকল্প ঘিরে দেশটির গ্রামীণ তরুণদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। চার বছর দায়িত্ব পালনের পর বিপুলসংখ্যক অগ্নিবীর সেনাকে অবসরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে অনিশ্চয়তা।

চার বছর পর বিদায়ের অপেক্ষায় অগ্নিবীররা

২০২২ সালে চালু হওয়া অগ্নিবীর প্রকল্পের আওতায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া অধিকাংশ সদস্য চার বছর পর নিয়মিত বাহিনীতে থাকার সুযোগ পাবেন না। প্রতি ব্যাচের মাত্র এক-চতুর্থাংশ সদস্যকে দীর্ঘমেয়াদে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। বাকিদের এককালীন অর্থ সহায়তা নিয়ে বেসামরিক জীবনে ফিরতে হবে।

আগের নিয়মে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া সদস্যরা দীর্ঘ চাকরির পর পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারের জন্য নানা সুবিধা পেতেন। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় চার বছর পর বিদায় নেওয়া অগ্নিবীররা সেই দীর্ঘমেয়াদি সুবিধাগুলো পাবেন না।

গ্রামীণ পরিবারে বাড়ছে উদ্বেগ

পাঞ্জাবের বহু পরিবার, যাদের সন্তানরা অগ্নিবীর হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, তারা এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। অনেক বাবা-মায়ের আশা, তাদের সন্তানরা সেই সীমিত সংখ্যক সদস্যের মধ্যে থাকবেন যারা সেনাবাহিনীতে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে কারা নির্বাচিত হবেন এবং কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় অনেক অগ্নিবীরের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। শারীরিক সক্ষমতা, অস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা ও অন্যান্য মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়নের কথা বলা হলেও পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

India's army cost cuts leave 'fire braveheart' recruits in limbo - Nikkei  Asia

সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগ্রহে পরিবর্তন

পাঞ্জাবের মতো যেসব রাজ্য থেকে ঐতিহ্যগতভাবে বেশি তরুণ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতেন, সেখানে অগ্নিবীর প্রকল্পের পর আগ্রহ কমার কথা জানিয়েছেন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত অনেকে।

অনেক তরুণ এখন স্থায়ী সরকারি চাকরির দিকে ঝুঁকছেন। কারণ সেনাবাহিনীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় কয়েক বছর পর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাদের পরিবারকে ভাবিয়ে তুলছে।

শহীদ ও পরিবারের সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন

অগ্নিবীরদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় সুবিধা নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, দায়িত্ব ও ঝুঁকি একই হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার ক্ষেত্রে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

পাঞ্জাবের এক অগ্নিবীর আজয় সিং ২০২৪ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে দায়িত্ব পালনকালে মারা যান। তার মৃত্যুর পর পরিবার ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

পুনর্বাসন হবে বড় পরীক্ষা

ভারত সরকার জানিয়েছে, অবসরে যাওয়া অগ্নিবীরদের জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি চাকরি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে। কয়েকটি রাজ্য সরকারও তাদের জন্য চাকরিতে সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তবে প্রথম বড় ব্যাচের অগ্নিবীরদের বেসামরিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়াই এই প্রকল্পের সফলতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ভারতের অগ্নিবীর প্রকল্পে অনিশ্চয়তায় হাজারো তরুণ সেনা

০৬:২০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ভারতের নতুন সেনা নিয়োগ ব্যবস্থা অগ্নিবীর প্রকল্প ঘিরে দেশটির গ্রামীণ তরুণদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। চার বছর দায়িত্ব পালনের পর বিপুলসংখ্যক অগ্নিবীর সেনাকে অবসরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে অনিশ্চয়তা।

চার বছর পর বিদায়ের অপেক্ষায় অগ্নিবীররা

২০২২ সালে চালু হওয়া অগ্নিবীর প্রকল্পের আওতায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া অধিকাংশ সদস্য চার বছর পর নিয়মিত বাহিনীতে থাকার সুযোগ পাবেন না। প্রতি ব্যাচের মাত্র এক-চতুর্থাংশ সদস্যকে দীর্ঘমেয়াদে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। বাকিদের এককালীন অর্থ সহায়তা নিয়ে বেসামরিক জীবনে ফিরতে হবে।

আগের নিয়মে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া সদস্যরা দীর্ঘ চাকরির পর পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারের জন্য নানা সুবিধা পেতেন। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় চার বছর পর বিদায় নেওয়া অগ্নিবীররা সেই দীর্ঘমেয়াদি সুবিধাগুলো পাবেন না।

গ্রামীণ পরিবারে বাড়ছে উদ্বেগ

পাঞ্জাবের বহু পরিবার, যাদের সন্তানরা অগ্নিবীর হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, তারা এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। অনেক বাবা-মায়ের আশা, তাদের সন্তানরা সেই সীমিত সংখ্যক সদস্যের মধ্যে থাকবেন যারা সেনাবাহিনীতে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে কারা নির্বাচিত হবেন এবং কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় অনেক অগ্নিবীরের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। শারীরিক সক্ষমতা, অস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা ও অন্যান্য মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়নের কথা বলা হলেও পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

India's army cost cuts leave 'fire braveheart' recruits in limbo - Nikkei  Asia

সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগ্রহে পরিবর্তন

পাঞ্জাবের মতো যেসব রাজ্য থেকে ঐতিহ্যগতভাবে বেশি তরুণ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতেন, সেখানে অগ্নিবীর প্রকল্পের পর আগ্রহ কমার কথা জানিয়েছেন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত অনেকে।

অনেক তরুণ এখন স্থায়ী সরকারি চাকরির দিকে ঝুঁকছেন। কারণ সেনাবাহিনীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় কয়েক বছর পর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাদের পরিবারকে ভাবিয়ে তুলছে।

শহীদ ও পরিবারের সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন

অগ্নিবীরদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় সুবিধা নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, দায়িত্ব ও ঝুঁকি একই হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার ক্ষেত্রে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

পাঞ্জাবের এক অগ্নিবীর আজয় সিং ২০২৪ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে দায়িত্ব পালনকালে মারা যান। তার মৃত্যুর পর পরিবার ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

পুনর্বাসন হবে বড় পরীক্ষা

ভারত সরকার জানিয়েছে, অবসরে যাওয়া অগ্নিবীরদের জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি চাকরি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে। কয়েকটি রাজ্য সরকারও তাদের জন্য চাকরিতে সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তবে প্রথম বড় ব্যাচের অগ্নিবীরদের বেসামরিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়াই এই প্রকল্পের সফলতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।