০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ভারতের উন্নয়নের গল্পে যে প্রশ্নগুলো অনুত্তরিতই থেকে গেল

ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দীর্ঘ পথচলার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এক বিশাল গ্রন্থ রচনা করেছেন দেবেশ কাপুর ও অরবিন্দ সুব্রামানিয়ান। তাঁদের লেখা ‘এ সিক্সথ অব হিউম্যানিটি’ বইটি ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী উন্নয়নের ইতিহাস নতুন করে বিশ্লেষণের দাবি করে। তবে বইটির এই উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টার মধ্যেই রয়ে গেছে বড় কিছু ফাঁক, যা ভারতের প্রকৃত বৃদ্ধির গল্প বোঝার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলছে।

বইয়ের কেন্দ্রীয় দাবি ও প্রবৃদ্ধির বিতর্ক
বইটির মূল আলোচনায় রয়েছে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কাঠামোগত রূপান্তর। লেখকেরা দাবি করেছেন, সমাজতান্ত্রিক সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল দুর্বল এবং উদারনৈতিক পর্বে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও কাঙ্ক্ষিত কাঠামোগত পরিবর্তন ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু এই বিশ্লেষণে ভারতের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়েছে। নেহরু আমলে ভারতের মাথাপিছু আয় যে গতিতে বেড়েছিল, তা ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ সময়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি। এমনকি সে সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি চীনের চেয়েও এগিয়ে ছিল, যা বইটির বক্তব্যের সঙ্গে খাপ খায় না।

Image

রাষ্ট্র, বাজার ও শিল্পায়নের প্রশ্ন
লেখকেরা রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, পরিকল্পিত অর্থনীতি বেসরকারি খাতকে দমিয়ে রেখেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পঞ্চাশ থেকে চৌষট্টি সালের মধ্যে বেসরকারি করপোরেট বিনিয়োগ সরকারি খাতের তুলনায় দ্রুত বেড়েছিল। রাষ্ট্রের বড় পরিসরের বিনিয়োগই আসলে বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছিল। একই সঙ্গে শিল্প খাতের অংশও বেড়েছে পরিকল্পনার লক্ষ্য অনুযায়ী, যা পরবর্তী উদারনৈতিক সংস্কারের পর আর তেমন বাড়েনি।

মোদি আমলের মূল্যায়নে নীরবতা
বইটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো সাম্প্রতিক সময়ের অর্থনৈতিক নীতির যথাযথ মূল্যায়নের অভাব। দুই হাজার চৌদ্দ সালের পর গৃহীত নীতির ফলে ভারতের প্রবৃদ্ধি আদৌ বেড়েছে কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তথ্যের সাধারণ বিশ্লেষণেই দেখা যায়, দুই হাজার সতেরো সালের পর অর্থনীতি শ্লথ হয়েছে এবং নোট বাতিলের প্রভাব ও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ায় বইটির সামগ্রিক যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Image

গল্পের ভেতরে তথ্যের বিচ্ছিন্নতা
ভারতের রাজনীতি ও অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিত্র বইটি তুলে ধরলেও তথ্য ও বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। বিচ্ছিন্ন তথ্যের সমাহার একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কাহিনি তৈরি করতে পারে না। ফলে ভারতের উন্নয়নের দীর্ঘ যাত্রাপথ বোঝাতে বইটি আংশিক সত্য তুলে ধরেছেন সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি থেকেই গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ভারতের উন্নয়নের গল্পে যে প্রশ্নগুলো অনুত্তরিতই থেকে গেল

০২:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দীর্ঘ পথচলার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এক বিশাল গ্রন্থ রচনা করেছেন দেবেশ কাপুর ও অরবিন্দ সুব্রামানিয়ান। তাঁদের লেখা ‘এ সিক্সথ অব হিউম্যানিটি’ বইটি ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী উন্নয়নের ইতিহাস নতুন করে বিশ্লেষণের দাবি করে। তবে বইটির এই উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টার মধ্যেই রয়ে গেছে বড় কিছু ফাঁক, যা ভারতের প্রকৃত বৃদ্ধির গল্প বোঝার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলছে।

বইয়ের কেন্দ্রীয় দাবি ও প্রবৃদ্ধির বিতর্ক
বইটির মূল আলোচনায় রয়েছে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কাঠামোগত রূপান্তর। লেখকেরা দাবি করেছেন, সমাজতান্ত্রিক সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল দুর্বল এবং উদারনৈতিক পর্বে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও কাঙ্ক্ষিত কাঠামোগত পরিবর্তন ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু এই বিশ্লেষণে ভারতের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়েছে। নেহরু আমলে ভারতের মাথাপিছু আয় যে গতিতে বেড়েছিল, তা ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ সময়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি। এমনকি সে সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি চীনের চেয়েও এগিয়ে ছিল, যা বইটির বক্তব্যের সঙ্গে খাপ খায় না।

Image

রাষ্ট্র, বাজার ও শিল্পায়নের প্রশ্ন
লেখকেরা রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, পরিকল্পিত অর্থনীতি বেসরকারি খাতকে দমিয়ে রেখেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পঞ্চাশ থেকে চৌষট্টি সালের মধ্যে বেসরকারি করপোরেট বিনিয়োগ সরকারি খাতের তুলনায় দ্রুত বেড়েছিল। রাষ্ট্রের বড় পরিসরের বিনিয়োগই আসলে বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছিল। একই সঙ্গে শিল্প খাতের অংশও বেড়েছে পরিকল্পনার লক্ষ্য অনুযায়ী, যা পরবর্তী উদারনৈতিক সংস্কারের পর আর তেমন বাড়েনি।

মোদি আমলের মূল্যায়নে নীরবতা
বইটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো সাম্প্রতিক সময়ের অর্থনৈতিক নীতির যথাযথ মূল্যায়নের অভাব। দুই হাজার চৌদ্দ সালের পর গৃহীত নীতির ফলে ভারতের প্রবৃদ্ধি আদৌ বেড়েছে কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তথ্যের সাধারণ বিশ্লেষণেই দেখা যায়, দুই হাজার সতেরো সালের পর অর্থনীতি শ্লথ হয়েছে এবং নোট বাতিলের প্রভাব ও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ায় বইটির সামগ্রিক যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Image

গল্পের ভেতরে তথ্যের বিচ্ছিন্নতা
ভারতের রাজনীতি ও অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিত্র বইটি তুলে ধরলেও তথ্য ও বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। বিচ্ছিন্ন তথ্যের সমাহার একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কাহিনি তৈরি করতে পারে না। ফলে ভারতের উন্নয়নের দীর্ঘ যাত্রাপথ বোঝাতে বইটি আংশিক সত্য তুলে ধরেছেন সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি থেকেই গেছে।