০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বার্তা: এখনই নির্বাচনে নয়, আগে যুবসমাজের আস্থা ফেরানোর লড়াই

ভারতের সাম্প্রতিক আলোচিত ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আপাতত নির্বাচনী রাজনীতিতে নামছে না। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে রয়টার্সকে বলেছেন, এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য রাজনৈতিক দল গঠন নয়; বরং তরুণদের মতামত নিয়ে এমন একটি জনআন্দোলন গড়ে তোলা, যা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ও জবাবদিহি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে নিজ বাড়িতে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিপকে জানান, বুধবার থেকে দুই দিনের বৈঠকে সিজেপির সমর্থকেরা ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন। সেখানে তরুণ প্রজন্ম কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, তা নির্ধারণের পাশাপাশি আন্দোলনকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচন নয়, জনআন্দোলনই এখন অগ্রাধিকার

দিপকের ভাষায়, বর্তমানে ভারতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনই সমস্যার সমাধান নয়। তিনি মনে করেন, দেশের প্রয়োজন এমন একটি জনআন্দোলন, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রাজনৈতিক দল গঠনের পক্ষে মত দেয়, তাহলে জনসমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের আন্দোলন থেকে জাতীয় আলোচনায়

চিকিৎসা শিক্ষার ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দিল্লিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তার নেতৃত্ব দেন অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে অংশ নেন হাজারো তরুণ।

৩৬ দিনব্যাপী আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ২৫ জুলাই পদত্যাগ করেন। বিক্ষোভ দমাতে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে ভারত সরকার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ ঘোষণা করে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে।

India's viral 'Cockroach' youth group plans street protest in challenge to  Modi | The Business Standard

তরুণদের আস্থা ফেরানোর আহ্বান

দিপকে বলেন, ভারতের অনেক তরুণ এখন রাজনীতিবিদ, বিচারব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমের ওপর আস্থা হারিয়েছে। তাই তাদের প্রকৃত চাহিদা ও উদ্বেগ বোঝা জরুরি।

তিনি জানান, দিল্লির অবস্থান কর্মসূচির সময় টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। বর্তমানে সুস্থ হয়ে নিজ শহরে ফিরেছেন এবং সেখানে শত শত সমর্থক তাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন।

রাজনৈতিক দল গঠনে সতর্ক অবস্থান

দিপকের আশঙ্কা, এখনই রাজনৈতিক দল গঠন করলে সরকার তদন্তসহ বিভিন্ন উপায়ে সংগঠনটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে তিনি আপাতত কোনো রাজনৈতিক দল গঠন বা বিদ্যমান কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থনের পথেও হাঁটতে চান না।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করলেও দিপকে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

আগামী নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরের উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও গুজরাটের রাজ্য নির্বাচন তরুণ ভোটারদের মনোভাব যাচাইয়ের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে পারে। তবে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যদি সিজেপি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলে রূপ নেয় এবং যুবসমাজের ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে জনসমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে দিপকের বিরুদ্ধে হুমকি বাড়ায় তার বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, নিজের চেয়ে বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিয়েই তার উদ্বেগ বেশি। তবে সরকার নিরাপত্তা দেওয়ায় তিনি আশাবাদী যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।

ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আপাতত নির্বাচনে না গিয়ে জনআন্দোলনে মনোযোগ দিচ্ছে। প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের পর তারা এখন তরুণদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঠিক করতে চায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বার্তা: এখনই নির্বাচনে নয়, আগে যুবসমাজের আস্থা ফেরানোর লড়াই

০৮:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের সাম্প্রতিক আলোচিত ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আপাতত নির্বাচনী রাজনীতিতে নামছে না। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে রয়টার্সকে বলেছেন, এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য রাজনৈতিক দল গঠন নয়; বরং তরুণদের মতামত নিয়ে এমন একটি জনআন্দোলন গড়ে তোলা, যা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা ও জবাবদিহি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে নিজ বাড়িতে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিপকে জানান, বুধবার থেকে দুই দিনের বৈঠকে সিজেপির সমর্থকেরা ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন। সেখানে তরুণ প্রজন্ম কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, তা নির্ধারণের পাশাপাশি আন্দোলনকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচন নয়, জনআন্দোলনই এখন অগ্রাধিকার

দিপকের ভাষায়, বর্তমানে ভারতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনই সমস্যার সমাধান নয়। তিনি মনে করেন, দেশের প্রয়োজন এমন একটি জনআন্দোলন, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রাজনৈতিক দল গঠনের পক্ষে মত দেয়, তাহলে জনসমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের আন্দোলন থেকে জাতীয় আলোচনায়

চিকিৎসা শিক্ষার ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দিল্লিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তার নেতৃত্ব দেন অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে অংশ নেন হাজারো তরুণ।

৩৬ দিনব্যাপী আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ২৫ জুলাই পদত্যাগ করেন। বিক্ষোভ দমাতে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে ভারত সরকার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ ঘোষণা করে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে।

India's viral 'Cockroach' youth group plans street protest in challenge to  Modi | The Business Standard

তরুণদের আস্থা ফেরানোর আহ্বান

দিপকে বলেন, ভারতের অনেক তরুণ এখন রাজনীতিবিদ, বিচারব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমের ওপর আস্থা হারিয়েছে। তাই তাদের প্রকৃত চাহিদা ও উদ্বেগ বোঝা জরুরি।

তিনি জানান, দিল্লির অবস্থান কর্মসূচির সময় টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। বর্তমানে সুস্থ হয়ে নিজ শহরে ফিরেছেন এবং সেখানে শত শত সমর্থক তাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন।

রাজনৈতিক দল গঠনে সতর্ক অবস্থান

দিপকের আশঙ্কা, এখনই রাজনৈতিক দল গঠন করলে সরকার তদন্তসহ বিভিন্ন উপায়ে সংগঠনটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে তিনি আপাতত কোনো রাজনৈতিক দল গঠন বা বিদ্যমান কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থনের পথেও হাঁটতে চান না।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করলেও দিপকে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

আগামী নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরের উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও গুজরাটের রাজ্য নির্বাচন তরুণ ভোটারদের মনোভাব যাচাইয়ের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে পারে। তবে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যদি সিজেপি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলে রূপ নেয় এবং যুবসমাজের ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে জনসমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে দিপকের বিরুদ্ধে হুমকি বাড়ায় তার বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, নিজের চেয়ে বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিয়েই তার উদ্বেগ বেশি। তবে সরকার নিরাপত্তা দেওয়ায় তিনি আশাবাদী যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।

ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আপাতত নির্বাচনে না গিয়ে জনআন্দোলনে মনোযোগ দিচ্ছে। প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের পর তারা এখন তরুণদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঠিক করতে চায়।