০২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ভারতের কুস্তি মহলে আলোচিত মামলায় সাবেক ডব্লিউএফআই প্রধান বেকসুর খালাস

ভারতের কুস্তি অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত যৌন হয়রানির মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এবং ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের (ডব্লিউএফআই) সাবেক সভাপতি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে বেকসুর খালাস দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। একই সঙ্গে মামলার অপর অভিযুক্ত, ডব্লিউএফআইয়ের সাবেক সহকারী সম্পাদক বিনোদ তোমারও খালাস পেয়েছেন।

সোমবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের অতিরিক্ত প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

আদালতের রায়ে স্বস্তি ব্রিজ ভূষণের

রায়ের পর ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং বলেন, শুরু থেকেই তিনি দাবি করে আসছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আদালতের রায়ে সেই দাবি প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তিনি নিজেই কঠোর শাস্তি মেনে নিতেন। আদালতের বেকসুর খালাসের রায়ে তিনি, তাঁর পরিবার এবং সমর্থকেরা আনন্দিত বলেও জানান।

উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা কুস্তিগীরদের

অন্যদিকে, ভারতের সাবেক অলিম্পিয়ান ও বর্তমান কংগ্রেস বিধায়ক ভিনেশ ফোগাট জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মামলা করা এবং দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া নারী কুস্তিগীরদের জন্য অত্যন্ত সাহসিকতার বিষয় ছিল। তাঁদের লড়াই এখানেই শেষ নয়, বরং আইনি পথেই তা চলবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তের প্রভাবের কারণে কয়েকজন অভিযোগকারী তাঁদের অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে অন্যরা শেষ পর্যন্ত আদালতে মামলা চালিয়ে গেছেন।

কী ছিল অভিযোগ

২০২৩ সালে অলিম্পিক পদকজয়ী সাক্ষী মালিক, ভিনেশ ফোগাট, বজরং পুনিয়া, সঙ্গীতা ফোগাটসহ একাধিক কুস্তিগীর দিল্লিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেন। তাঁদের দাবি ছিল, নারী কুস্তিগীরদের যৌন হয়রানির অভিযোগে ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের কার্যালয়, অভিযুক্তের সরকারি বাসভবন এবং বিদেশ সফরের সময় একাধিকবার যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে।

তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপের পর ২০২৩ সালের মে মাসে দিল্লি পুলিশ এ মামলায় প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) দায়ের করে। পরে এক হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের মে মাসে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস দেন।

এদিকে, একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কুস্তিগীরের অভিযোগের ভিত্তিতে শিশু সুরক্ষা আইনে পৃথক একটি মামলাও হয়েছিল। পরে ওই অভিযোগকারী তাঁর অভিযোগ প্রত্যাহার করে আগের বক্তব্য পরিবর্তন করেন।

ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে বহুল আলোচিত এই মামলার রায় নিয়ে ইতোমধ্যেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে অভিযুক্ত পক্ষ আদালতের সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে অভিযোগকারী কুস্তিগীরেরা উচ্চ আদালতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ভারতের কুস্তি মহলে আলোচিত মামলায় সাবেক ডব্লিউএফআই প্রধান বেকসুর খালাস

০৫:১৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের কুস্তি অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত যৌন হয়রানির মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এবং ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের (ডব্লিউএফআই) সাবেক সভাপতি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে বেকসুর খালাস দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। একই সঙ্গে মামলার অপর অভিযুক্ত, ডব্লিউএফআইয়ের সাবেক সহকারী সম্পাদক বিনোদ তোমারও খালাস পেয়েছেন।

সোমবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের অতিরিক্ত প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

আদালতের রায়ে স্বস্তি ব্রিজ ভূষণের

রায়ের পর ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং বলেন, শুরু থেকেই তিনি দাবি করে আসছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আদালতের রায়ে সেই দাবি প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তিনি নিজেই কঠোর শাস্তি মেনে নিতেন। আদালতের বেকসুর খালাসের রায়ে তিনি, তাঁর পরিবার এবং সমর্থকেরা আনন্দিত বলেও জানান।

উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা কুস্তিগীরদের

অন্যদিকে, ভারতের সাবেক অলিম্পিয়ান ও বর্তমান কংগ্রেস বিধায়ক ভিনেশ ফোগাট জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মামলা করা এবং দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া নারী কুস্তিগীরদের জন্য অত্যন্ত সাহসিকতার বিষয় ছিল। তাঁদের লড়াই এখানেই শেষ নয়, বরং আইনি পথেই তা চলবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তের প্রভাবের কারণে কয়েকজন অভিযোগকারী তাঁদের অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে অন্যরা শেষ পর্যন্ত আদালতে মামলা চালিয়ে গেছেন।

কী ছিল অভিযোগ

২০২৩ সালে অলিম্পিক পদকজয়ী সাক্ষী মালিক, ভিনেশ ফোগাট, বজরং পুনিয়া, সঙ্গীতা ফোগাটসহ একাধিক কুস্তিগীর দিল্লিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেন। তাঁদের দাবি ছিল, নারী কুস্তিগীরদের যৌন হয়রানির অভিযোগে ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের কার্যালয়, অভিযুক্তের সরকারি বাসভবন এবং বিদেশ সফরের সময় একাধিকবার যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে।

তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপের পর ২০২৩ সালের মে মাসে দিল্লি পুলিশ এ মামলায় প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) দায়ের করে। পরে এক হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের মে মাসে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস দেন।

এদিকে, একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কুস্তিগীরের অভিযোগের ভিত্তিতে শিশু সুরক্ষা আইনে পৃথক একটি মামলাও হয়েছিল। পরে ওই অভিযোগকারী তাঁর অভিযোগ প্রত্যাহার করে আগের বক্তব্য পরিবর্তন করেন।

ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে বহুল আলোচিত এই মামলার রায় নিয়ে ইতোমধ্যেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে অভিযুক্ত পক্ষ আদালতের সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে অভিযোগকারী কুস্তিগীরেরা উচ্চ আদালতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।