০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ভারতের খাদ্যপণ্যে সতর্কবার্তার প্রস্তাব ঘিরে দুই দিক থেকেই তীব্র আপত্তি

ভারতে প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে সতর্কবার্তা দেওয়ার নতুন প্রস্তাব নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—দুই পক্ষের মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত নিয়মে অনেক বেশি লবণ, চিনি বা চর্বিযুক্ত পণ্য সতর্কবার্তার আওতার বাইরে থেকে যেতে পারে। অন্যদিকে খাদ্যশিল্পের দাবি, নির্ধারিত সীমা এতটাই কঠোর যে বাজারের বিপুলসংখ্যক পণ্যের গায়ে সতর্কবার্তা বসাতে হবে।

দুই পুষ্টি উপাদান না বাড়লে সতর্কবার্তা নয়

ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রস্তাব করেছে, কোনো প্যাকেটজাত খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা সম্পৃক্ত চর্বির মধ্যে অন্তত দুটি নির্ধারিত সীমার বেশি হলেই প্যাকেটের সামনে লাল রঙের ষড়ভুজ সতর্কচিহ্ন বসাতে হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মূল আপত্তি এখানেই। তাদের মতে, কোনো পণ্যে শুধু চিনি বা শুধু লবণের মাত্রা বেশি হলেও সেটি যদি অন্য দুটি উপাদানের সীমা অতিক্রম না করে, তাহলে সতর্কবার্তা থেকে মুক্তি পাবে। এতে ভোক্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য নাও পেতে পারেন।

পুষ্টিবিদ ব্যারি পপকিনের মতে, বিশ্বের যেসব দেশে এ ধরনের সতর্কচিহ্ন চালু রয়েছে, সেখানে সাধারণত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের জন্য আলাদা সতর্কবার্তা ব্যবহার করা হয়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ভারতে স্থূলতা ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের খুচরা বিক্রি প্রায় ৪০ গুণ বেড়ে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২১ সালে ভারতে প্রায় ১৮ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যায় ছিলেন। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যের প্যাকেটের সামনে সহজে চোখে পড়ার মতো সতর্কবার্তা থাকলে মানুষ কেনাকাটার সময় তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিলিতে ২০১৬ সালে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির জন্য আলাদা কালো অষ্টভুজ সতর্কচিহ্ন চালুর পর ১৮ মাসে মিষ্টি পানীয় কেনার পরিমাণ ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

কর্মীদের অভিযোগ, নিয়মে রয়েছে ফাঁক

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীদের একটি সংগঠন ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত নিয়মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য নথি প্রস্তুত করেছে।

তাদের অন্যতম অভিযোগ হলো, মধু, গুড় এবং স্বাভাবিকভাবেই বেশি চিনি বা চর্বিযুক্ত কিছু খাদ্যকে প্রস্তাবিত নিয়মের বাইরে রাখার সুযোগ রয়েছে।

এর ফলে একটি বহুল পরিচিত ভুট্টাভিত্তিক প্রাতরাশের খাবারে ওজনের ২৭ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করা চিনি থাকার পরও সেটি সতর্কবার্তা এড়িয়ে যেতে পারে, কারণ এতে লবণ ও চর্বির মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে।

খাদ্যশিল্পের আশঙ্কা, ‘সব প্যাকেটই লাল হয়ে যাবে’

অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, প্রস্তাবিত নিয়ম বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি শিল্পের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে।

শিল্পখাতের সাতজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের বড় আপত্তি হলো, পণ্যের প্রতি একশ গ্রাম পরিমাণ ধরে পুষ্টি উপাদানের হিসাব করার প্রস্তাব। তাদের যুক্তি, একজন মানুষ সাধারণত একসঙ্গে একশ গ্রাম আচার বা টমেটোর সস খান না। তাই একবারে যতটুকু খাবার গ্রহণ করা হয়, সেই পরিবেশন পরিমাণের ভিত্তিতে হিসাব করা উচিত।

চিনি ও চর্বির ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত সীমা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। কঠিন খাদ্যে যোগ করা চিনি ওজনের ৩ শতাংশের বেশি এবং চর্বি ৪ দশমিক ২ শতাংশের বেশি হলে সতর্কচিহ্ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্পপতিদের মতে, অন্যান্য দেশের তুলনায় এসব সীমা অনেক বেশি কঠোর।

এক ভারতীয় খাদ্যপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর ভাষায়, নিয়মটি কার্যকর হলে ‘সবকিছুই লাল’ হয়ে যেতে পারে।

ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও নোনতা খাবার নিয়েও উদ্বেগ

ভারতের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও নোনতা খাবার প্রস্তুতকারকরাও প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশটির মিষ্টি ও নোনতা খাবার প্রস্তুতকারকদের সংগঠনের প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য রয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, চিনি, লবণ ও চর্বি এসব ঐতিহ্যবাহী খাবারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একজন ভোক্তা হয়তো একবারে খুব অল্প পরিমাণ মিষ্টি খান, কিন্তু একশ গ্রাম খাদ্যের ভিত্তিতে হিসাব করলে অনেক পণ্যের গায়েই সতর্কবার্তা চলে আসতে পারে।

সংগঠনটির আশঙ্কা, এতে ভোক্তাদের মনে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও নোনতা খাবার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে এবং বাজারে চাহিদাও কমে যেতে পারে।

ফলে ভারতের নতুন খাদ্য সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে একদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মকে আরও কার্যকর ও কঠোর করার দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে খাদ্যশিল্প বলছে প্রস্তাবিত সীমা বাস্তবতা ও ভোক্তার খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের আদালতের শুনানিতে এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আরও স্পষ্ট হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ভারতের খাদ্যপণ্যে সতর্কবার্তার প্রস্তাব ঘিরে দুই দিক থেকেই তীব্র আপত্তি

০৩:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে সতর্কবার্তা দেওয়ার নতুন প্রস্তাব নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—দুই পক্ষের মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত নিয়মে অনেক বেশি লবণ, চিনি বা চর্বিযুক্ত পণ্য সতর্কবার্তার আওতার বাইরে থেকে যেতে পারে। অন্যদিকে খাদ্যশিল্পের দাবি, নির্ধারিত সীমা এতটাই কঠোর যে বাজারের বিপুলসংখ্যক পণ্যের গায়ে সতর্কবার্তা বসাতে হবে।

দুই পুষ্টি উপাদান না বাড়লে সতর্কবার্তা নয়

ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রস্তাব করেছে, কোনো প্যাকেটজাত খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা সম্পৃক্ত চর্বির মধ্যে অন্তত দুটি নির্ধারিত সীমার বেশি হলেই প্যাকেটের সামনে লাল রঙের ষড়ভুজ সতর্কচিহ্ন বসাতে হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মূল আপত্তি এখানেই। তাদের মতে, কোনো পণ্যে শুধু চিনি বা শুধু লবণের মাত্রা বেশি হলেও সেটি যদি অন্য দুটি উপাদানের সীমা অতিক্রম না করে, তাহলে সতর্কবার্তা থেকে মুক্তি পাবে। এতে ভোক্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য নাও পেতে পারেন।

পুষ্টিবিদ ব্যারি পপকিনের মতে, বিশ্বের যেসব দেশে এ ধরনের সতর্কচিহ্ন চালু রয়েছে, সেখানে সাধারণত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের জন্য আলাদা সতর্কবার্তা ব্যবহার করা হয়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ভারতে স্থূলতা ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের খুচরা বিক্রি প্রায় ৪০ গুণ বেড়ে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২১ সালে ভারতে প্রায় ১৮ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যায় ছিলেন। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যের প্যাকেটের সামনে সহজে চোখে পড়ার মতো সতর্কবার্তা থাকলে মানুষ কেনাকাটার সময় তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চিলিতে ২০১৬ সালে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির জন্য আলাদা কালো অষ্টভুজ সতর্কচিহ্ন চালুর পর ১৮ মাসে মিষ্টি পানীয় কেনার পরিমাণ ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

কর্মীদের অভিযোগ, নিয়মে রয়েছে ফাঁক

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীদের একটি সংগঠন ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত নিয়মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য নথি প্রস্তুত করেছে।

তাদের অন্যতম অভিযোগ হলো, মধু, গুড় এবং স্বাভাবিকভাবেই বেশি চিনি বা চর্বিযুক্ত কিছু খাদ্যকে প্রস্তাবিত নিয়মের বাইরে রাখার সুযোগ রয়েছে।

এর ফলে একটি বহুল পরিচিত ভুট্টাভিত্তিক প্রাতরাশের খাবারে ওজনের ২৭ শতাংশ পর্যন্ত যোগ করা চিনি থাকার পরও সেটি সতর্কবার্তা এড়িয়ে যেতে পারে, কারণ এতে লবণ ও চর্বির মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে।

খাদ্যশিল্পের আশঙ্কা, ‘সব প্যাকেটই লাল হয়ে যাবে’

অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, প্রস্তাবিত নিয়ম বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি শিল্পের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে।

শিল্পখাতের সাতজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের বড় আপত্তি হলো, পণ্যের প্রতি একশ গ্রাম পরিমাণ ধরে পুষ্টি উপাদানের হিসাব করার প্রস্তাব। তাদের যুক্তি, একজন মানুষ সাধারণত একসঙ্গে একশ গ্রাম আচার বা টমেটোর সস খান না। তাই একবারে যতটুকু খাবার গ্রহণ করা হয়, সেই পরিবেশন পরিমাণের ভিত্তিতে হিসাব করা উচিত।

চিনি ও চর্বির ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত সীমা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। কঠিন খাদ্যে যোগ করা চিনি ওজনের ৩ শতাংশের বেশি এবং চর্বি ৪ দশমিক ২ শতাংশের বেশি হলে সতর্কচিহ্ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্পপতিদের মতে, অন্যান্য দেশের তুলনায় এসব সীমা অনেক বেশি কঠোর।

এক ভারতীয় খাদ্যপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর ভাষায়, নিয়মটি কার্যকর হলে ‘সবকিছুই লাল’ হয়ে যেতে পারে।

ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও নোনতা খাবার নিয়েও উদ্বেগ

ভারতের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও নোনতা খাবার প্রস্তুতকারকরাও প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশটির মিষ্টি ও নোনতা খাবার প্রস্তুতকারকদের সংগঠনের প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য রয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, চিনি, লবণ ও চর্বি এসব ঐতিহ্যবাহী খাবারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একজন ভোক্তা হয়তো একবারে খুব অল্প পরিমাণ মিষ্টি খান, কিন্তু একশ গ্রাম খাদ্যের ভিত্তিতে হিসাব করলে অনেক পণ্যের গায়েই সতর্কবার্তা চলে আসতে পারে।

সংগঠনটির আশঙ্কা, এতে ভোক্তাদের মনে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও নোনতা খাবার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে এবং বাজারে চাহিদাও কমে যেতে পারে।

ফলে ভারতের নতুন খাদ্য সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে একদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মকে আরও কার্যকর ও কঠোর করার দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে খাদ্যশিল্প বলছে প্রস্তাবিত সীমা বাস্তবতা ও ভোক্তার খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের আদালতের শুনানিতে এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আরও স্পষ্ট হতে পারে।