০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের চার কবর ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির তীব্র রাজনৈতিক লড়াই

উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা চারটি কবর এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এই কবরগুলিকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি বারবার সামনে আসছে।

ঘটনার পটভূমি

কালিয়াগঞ্জের সাহেবঘাটা এলাকায় এক কিশোরী রাজবংশী মেয়ের মৃতদেহ ২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল একটি খালে উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়দের বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং কালিয়াগঞ্জ থানায় আগুন লাগানো হয়।

এর কয়েকদিন পর, ২৬ এপ্রিল, পুলিশি অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হন রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মন। তার কবরও সেই এলাকায় রয়েছে।

অন্যদিকে, ইসলামপুরের দরিভিট গ্রামে ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুই যুবক—রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মন—পুলিশের গুলিতে নিহত হন বলে অভিযোগ। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভের সময় এই ঘটনা ঘটে। তাদের কবরও এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

কেন দাহ না করে কবর দেওয়া হয়েছে

নিহতদের পরিবারগুলো তাদের দাহ না করে কবর দিয়েছে একটি বিশেষ কারণে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা দিয়ে তদন্ত হলে প্রয়োজনে আবার ময়নাতদন্তের জন্য দেহ তোলা হতে পারে। তাই তারা কবর দিয়েই দেহ সংরক্ষণ করেছেন।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন

প্রতিটি নির্বাচনের সময় এই কবরগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচার শুরু হয়। বিশেষ করে বিজেপি এখানে এসে প্রচার শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহত রাজেশ সরকারের বাবা বলেন, পরিবর্তন না হলে তারা বিচার পাবেন না বলেই তারা বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে কিছু সহায়তাও দেওয়া হয়েছে, যেমন চাকরির ব্যবস্থা।

অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে যে তারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

তদন্ত ও আইনি লড়াই

নিহতদের পরিবার কলকাতা হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানায়। আদালত ২০২৩ সালে একটি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তবে পরিবারগুলোর অভিযোগ, এখনও তেমন অগ্রগতি হয়নি।

মৃত্যুঞ্জয়ের মা জানান, তিনি রাজ্য পুলিশের তদন্তে আস্থা হারিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত চান। একইসঙ্গে, বিজেপির কিছু নেতা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনী প্রভাব

উত্তর দিনাজপুরে মুসলিম অধ্যুষিত নয়টি আসনের মধ্যে ২০২১ সালে তৃণমূল ছয়টি এবং বিজেপি তিনটি আসন জিতেছিল। পরে একটি আসন উপনির্বাচনে তৃণমূলের দখলে যায়।

গত লোকসভা নির্বাচনেও রায়গঞ্জে তৃণমূল বিজেপির কাছে হেরে যায়। এবারের নির্বাচনে রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ ও ইসলামপুরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও আলোচনা

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে কিছু এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। যেসব আসনে তৃণমূল জিতেছিল, সেসব জায়গায় এই পরিবর্তন বেশি দেখা গেছে।

তবে তৃণমূলের দাবি, এই সংশোধনের কোনও প্রভাব তাদের জয়ের সম্ভাবনায় পড়বে না।

চারটি কবর শুধু শোকের প্রতীক নয়, এখন তা রাজনৈতিক লড়াইয়ের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিচারহীনতার অভিযোগ, রাজনৈতিক সমর্থন এবং নির্বাচনী কৌশল—সব মিলিয়ে উত্তর দিনাজপুরের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।-

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের চার কবর ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির তীব্র রাজনৈতিক লড়াই

০৭:২৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা চারটি কবর এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এই কবরগুলিকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি বারবার সামনে আসছে।

ঘটনার পটভূমি

কালিয়াগঞ্জের সাহেবঘাটা এলাকায় এক কিশোরী রাজবংশী মেয়ের মৃতদেহ ২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল একটি খালে উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়দের বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং কালিয়াগঞ্জ থানায় আগুন লাগানো হয়।

এর কয়েকদিন পর, ২৬ এপ্রিল, পুলিশি অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হন রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মন। তার কবরও সেই এলাকায় রয়েছে।

অন্যদিকে, ইসলামপুরের দরিভিট গ্রামে ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুই যুবক—রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মন—পুলিশের গুলিতে নিহত হন বলে অভিযোগ। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভের সময় এই ঘটনা ঘটে। তাদের কবরও এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

কেন দাহ না করে কবর দেওয়া হয়েছে

নিহতদের পরিবারগুলো তাদের দাহ না করে কবর দিয়েছে একটি বিশেষ কারণে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা দিয়ে তদন্ত হলে প্রয়োজনে আবার ময়নাতদন্তের জন্য দেহ তোলা হতে পারে। তাই তারা কবর দিয়েই দেহ সংরক্ষণ করেছেন।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন

প্রতিটি নির্বাচনের সময় এই কবরগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচার শুরু হয়। বিশেষ করে বিজেপি এখানে এসে প্রচার শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহত রাজেশ সরকারের বাবা বলেন, পরিবর্তন না হলে তারা বিচার পাবেন না বলেই তারা বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে কিছু সহায়তাও দেওয়া হয়েছে, যেমন চাকরির ব্যবস্থা।

অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে যে তারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

তদন্ত ও আইনি লড়াই

নিহতদের পরিবার কলকাতা হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানায়। আদালত ২০২৩ সালে একটি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তবে পরিবারগুলোর অভিযোগ, এখনও তেমন অগ্রগতি হয়নি।

মৃত্যুঞ্জয়ের মা জানান, তিনি রাজ্য পুলিশের তদন্তে আস্থা হারিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত চান। একইসঙ্গে, বিজেপির কিছু নেতা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনী প্রভাব

উত্তর দিনাজপুরে মুসলিম অধ্যুষিত নয়টি আসনের মধ্যে ২০২১ সালে তৃণমূল ছয়টি এবং বিজেপি তিনটি আসন জিতেছিল। পরে একটি আসন উপনির্বাচনে তৃণমূলের দখলে যায়।

গত লোকসভা নির্বাচনেও রায়গঞ্জে তৃণমূল বিজেপির কাছে হেরে যায়। এবারের নির্বাচনে রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ ও ইসলামপুরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও আলোচনা

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে কিছু এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। যেসব আসনে তৃণমূল জিতেছিল, সেসব জায়গায় এই পরিবর্তন বেশি দেখা গেছে।

তবে তৃণমূলের দাবি, এই সংশোধনের কোনও প্রভাব তাদের জয়ের সম্ভাবনায় পড়বে না।

চারটি কবর শুধু শোকের প্রতীক নয়, এখন তা রাজনৈতিক লড়াইয়ের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিচারহীনতার অভিযোগ, রাজনৈতিক সমর্থন এবং নির্বাচনী কৌশল—সব মিলিয়ে উত্তর দিনাজপুরের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।-