০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্ত করতে সম্পর্ক গভীর করছে ভারত ও ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লামের ভারত সফরকে দুই দেশের মধ্যে নতুন কৌশলগত সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে হ্যানয়ের জন্য দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছান ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লাম। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। একই সঙ্গে ভারত-ভিয়েতনাম সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের ১০ বছর পূর্তির সময়েও এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে মোদি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত ও ভিয়েতনামের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে “এনহ্যান্সড কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ”-এ উন্নীত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের বাড়তি প্রভাব এবং সামুদ্রিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে ভিয়েতনাম দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে। সেই জায়গায় ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে হ্যানয়।

অন্যদিকে, ভারতও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজের উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়াতে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দিল্লি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্ত করতে চায়।

সম্পর্কে নতুন গতি

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, এই উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের “দৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন গতি” দেবে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করবে। দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে যোগাযোগ বাড়ছে।

গত ৭ এপ্রিল তো লাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই মধ্যম শক্তিগুলো নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতা ধরে রাখতে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে ঝুঁকছে। ভারত ও ভিয়েতনামের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

ভারত-ভিয়েতনাম কৌশলগত সম্পর্ক

ভারত ও ভিয়েতনাম সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমাতে সম্পর্ক জোরদার করছে। বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতায় নতুন গতি এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা

০৮:৩১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্ত করতে সম্পর্ক গভীর করছে ভারত ও ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লামের ভারত সফরকে দুই দেশের মধ্যে নতুন কৌশলগত সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে হ্যানয়ের জন্য দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছান ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লাম। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। একই সঙ্গে ভারত-ভিয়েতনাম সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের ১০ বছর পূর্তির সময়েও এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে মোদি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত ও ভিয়েতনামের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে “এনহ্যান্সড কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ”-এ উন্নীত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের বাড়তি প্রভাব এবং সামুদ্রিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে ভিয়েতনাম দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে। সেই জায়গায় ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে হ্যানয়।

অন্যদিকে, ভারতও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজের উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়াতে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দিল্লি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্ত করতে চায়।

সম্পর্কে নতুন গতি

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, এই উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের “দৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন গতি” দেবে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করবে। দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে যোগাযোগ বাড়ছে।

গত ৭ এপ্রিল তো লাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই মধ্যম শক্তিগুলো নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতা ধরে রাখতে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে ঝুঁকছে। ভারত ও ভিয়েতনামের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

ভারত-ভিয়েতনাম কৌশলগত সম্পর্ক

ভারত ও ভিয়েতনাম সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমাতে সম্পর্ক জোরদার করছে। বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতায় নতুন গতি এসেছে।