০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ভিশন ২০৩০-এর স্বপ্নে ধাক্কা, তেলের দামে চাপ ও যুদ্ধের প্রভাবে সৌদির বড় প্রকল্পে কাটছাঁট

দশ বছর আগে তেলনির্ভর অর্থনীতি বদলে ফেলার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই সৌদি আরব এখন বাস্তবতার মুখোমুখি। রাজপুত্র মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচি দেশজুড়ে বড় পরিবর্তন আনলেও, আর্থিক চাপ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় অনেক বড় প্রকল্প এখন থেমে যাচ্ছে বা পুনর্বিবেচনায় পড়ছে।

পরিবর্তনের দশ বছর
এই সময়ের মধ্যে সৌদি সমাজে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। নারীদের গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ—অনেক নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। বেকারত্ব কমেছে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, ধর্মীয় পুলিশ কার্যত অদৃশ্য হয়ে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে—তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো।

তেলের দামের উত্থান-পতন ও অর্থনৈতিক চাপ
২০২১ ও ২০২২ সালে তেলের দাম বাড়ায় সরকার বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ায়। মরুভূমিতে স্কি শহর, বিশালাকৃতির আকাশচুম্বী ভবন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উদ্যোগ—সব মিলিয়ে ছিল উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। কিন্তু পরে তেলের দাম কমে গেলে সরকারি আয়ে চাপ পড়ে। তখনই শুরু হয় খরচ কমানোর চিন্তা, প্রকল্প বাতিল বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত।

যুদ্ধের প্রভাব ও নতুন বাস্তবতা
ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। এসব কারণে অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছে সৌদি নেতৃত্ব।

বড় প্রকল্পে কাটছাঁট
সরকারি তহবিলের নতুন কৌশলে এখন ‘প্রয়োজনীয়’ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রকল্প স্থগিত বা পুনর্মূল্যায়নের আওতায় এসেছে। মরুভূমির স্কি শহর প্রকল্প, বিশাল কিউব আকৃতির ভবন নির্মাণ, এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উদ্যোগেও অর্থায়ন কমানোর চিন্তা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্মাণ কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে।

অর্থনীতির সীমাবদ্ধতা
গত এক দশকে তেলের বাইরে আয় বাড়ানোর চেষ্টা হলেও, ব্যয় বেড়েছে দ্রুতগতিতে। প্রায় প্রতি বছর বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে দেশটি। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম কিছুটা বাড়লেও রপ্তানি কমে যাওয়ায় সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগেনি।

নীতিতে পরিবর্তন ও বাস্তববাদ
প্রথম দিকে দ্রুত পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকে থাকলেও এখন নেতৃত্ব আরও বাস্তববাদী অবস্থান নিচ্ছে। প্রয়োজন হলে প্রকল্প বাতিল বা বড় পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়েছে। সরকারের মতে, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সমালোচনা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন
তবে এই পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, শুরুতেই এত বড় ও ব্যয়বহুল পরিকল্পনা কেন নেওয়া হয়েছিল। কিছু প্রকল্পের জন্য জনগণকে স্থানচ্যুত করা হলেও সেগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ভিশন ২০৩০-এর স্বপ্নে ধাক্কা, তেলের দামে চাপ ও যুদ্ধের প্রভাবে সৌদির বড় প্রকল্পে কাটছাঁট

০৮:১৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দশ বছর আগে তেলনির্ভর অর্থনীতি বদলে ফেলার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই সৌদি আরব এখন বাস্তবতার মুখোমুখি। রাজপুত্র মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচি দেশজুড়ে বড় পরিবর্তন আনলেও, আর্থিক চাপ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় অনেক বড় প্রকল্প এখন থেমে যাচ্ছে বা পুনর্বিবেচনায় পড়ছে।

পরিবর্তনের দশ বছর
এই সময়ের মধ্যে সৌদি সমাজে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। নারীদের গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ—অনেক নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। বেকারত্ব কমেছে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, ধর্মীয় পুলিশ কার্যত অদৃশ্য হয়ে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে—তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো।

তেলের দামের উত্থান-পতন ও অর্থনৈতিক চাপ
২০২১ ও ২০২২ সালে তেলের দাম বাড়ায় সরকার বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ায়। মরুভূমিতে স্কি শহর, বিশালাকৃতির আকাশচুম্বী ভবন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উদ্যোগ—সব মিলিয়ে ছিল উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। কিন্তু পরে তেলের দাম কমে গেলে সরকারি আয়ে চাপ পড়ে। তখনই শুরু হয় খরচ কমানোর চিন্তা, প্রকল্প বাতিল বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত।

যুদ্ধের প্রভাব ও নতুন বাস্তবতা
ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা তেল রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। এসব কারণে অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছে সৌদি নেতৃত্ব।

বড় প্রকল্পে কাটছাঁট
সরকারি তহবিলের নতুন কৌশলে এখন ‘প্রয়োজনীয়’ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রকল্প স্থগিত বা পুনর্মূল্যায়নের আওতায় এসেছে। মরুভূমির স্কি শহর প্রকল্প, বিশাল কিউব আকৃতির ভবন নির্মাণ, এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উদ্যোগেও অর্থায়ন কমানোর চিন্তা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্মাণ কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে।

অর্থনীতির সীমাবদ্ধতা
গত এক দশকে তেলের বাইরে আয় বাড়ানোর চেষ্টা হলেও, ব্যয় বেড়েছে দ্রুতগতিতে। প্রায় প্রতি বছর বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে দেশটি। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম কিছুটা বাড়লেও রপ্তানি কমে যাওয়ায় সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগেনি।

নীতিতে পরিবর্তন ও বাস্তববাদ
প্রথম দিকে দ্রুত পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকে থাকলেও এখন নেতৃত্ব আরও বাস্তববাদী অবস্থান নিচ্ছে। প্রয়োজন হলে প্রকল্প বাতিল বা বড় পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়েছে। সরকারের মতে, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সমালোচনা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন
তবে এই পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, শুরুতেই এত বড় ও ব্যয়বহুল পরিকল্পনা কেন নেওয়া হয়েছিল। কিছু প্রকল্পের জন্য জনগণকে স্থানচ্যুত করা হলেও সেগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।