০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক মৃত্যু: সুনামগঞ্জের ১২ তরুণসহ ১৮ বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভয়াবহ সমুদ্রযাত্রায় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন তরুণ রয়েছেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।


মৃত্যুর সংখ্যা ও পরিচয়

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় মোট ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১২ জন ছিলেন।

উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী—দিরাই থেকে ৬ জন, জগন্নাথপুর থেকে ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার থেকে ১ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নুরুজ্জামান সরদার মইনা (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), সুহানুর রহমান, তায়েফ মিয়া; আমিনুর রহমান (৩৫), মোহাম্মদ আলী (২৭), শায়েখ আহমেদ (২২), নাঈম আহমেদ (২৫), ইজাজুল হক সজিব (২৭) এবং আবু ফাহিম মুন্না (২২)।


কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানান, মানবপাচারকারীরা তাদের একটি ছোট ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় তুলে দেয়, যেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা ছিল না।

দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় অনেকেই ক্ষুধা, পানিশূন্যতা এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে এসব কারণে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

ভূমধ্যসাগরে মৃত ব্যক্তিদের ১২ জন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, লাশ ফেলা হয় সাগরে |  প্রথম আলো

প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো

পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিটি অভিবাসী নিরাপদে গ্রিসে পৌঁছানোর আশায় স্থানীয় দালালদের প্রায় ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও অযোগ্য নৌকায় তুলে দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।


শোকের ছায়া ও দাবি

এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

একই সঙ্গে, সম্ভব হলে মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


কেন বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন

স্থানীয়দের মতে, বেকারত্ব এবং উন্নত জীবনের আশাই তরুণদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে বিদেশে যেতে বাধ্য করছে। এ পরিস্থিতি ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক মৃত্যু: সুনামগঞ্জের ১২ তরুণসহ ১৮ বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন

০৭:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভয়াবহ সমুদ্রযাত্রায় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন তরুণ রয়েছেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।


মৃত্যুর সংখ্যা ও পরিচয়

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় মোট ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১২ জন ছিলেন।

উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী—দিরাই থেকে ৬ জন, জগন্নাথপুর থেকে ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার থেকে ১ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নুরুজ্জামান সরদার মইনা (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), সুহানুর রহমান, তায়েফ মিয়া; আমিনুর রহমান (৩৫), মোহাম্মদ আলী (২৭), শায়েখ আহমেদ (২২), নাঈম আহমেদ (২৫), ইজাজুল হক সজিব (২৭) এবং আবু ফাহিম মুন্না (২২)।


কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানান, মানবপাচারকারীরা তাদের একটি ছোট ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় তুলে দেয়, যেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা ছিল না।

দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় অনেকেই ক্ষুধা, পানিশূন্যতা এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে এসব কারণে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

ভূমধ্যসাগরে মৃত ব্যক্তিদের ১২ জন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, লাশ ফেলা হয় সাগরে |  প্রথম আলো

প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো

পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিটি অভিবাসী নিরাপদে গ্রিসে পৌঁছানোর আশায় স্থানীয় দালালদের প্রায় ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও অযোগ্য নৌকায় তুলে দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।


শোকের ছায়া ও দাবি

এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

একই সঙ্গে, সম্ভব হলে মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


কেন বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন

স্থানীয়দের মতে, বেকারত্ব এবং উন্নত জীবনের আশাই তরুণদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে বিদেশে যেতে বাধ্য করছে। এ পরিস্থিতি ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।