১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে এশিয়ায় মার্কিন তেলের চাহিদা বাড়ছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব তীব্র

এশিয়ার জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায়, এশিয়ার শোধনাগারগুলো এখন দ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজছে—আর সেই জায়গায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল।

এশিয়ার বাজারে মার্কিন তেলের উত্থান

সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্রমেই মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জাপান প্রথম দিকেই মে মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনা শুরু করে। পরে দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের কোম্পানিগুলোও এই ক্রয়ে যোগ দেয়।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অন্তত ৬ কোটি ব্যারেল তেল কেনা হয়েছে। এই পরিমাণ গত এপ্রিল মাসের সমান এবং গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটের প্রভাব

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সংকটের আশঙ্কা

ইরানে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি এখন সপ্তম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এর ফলে এশিয়ায় তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং শোধনাগার শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবুও উভয় পক্ষের অবরোধ কার্যকর থাকায় তেল পরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ

এই জ্বালানি সংকট শুধু শিল্পেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে শুরু করেছে। অনেক দেশ জ্বালানির চাহিদা কমাতে উদ্যোগ নিচ্ছে, কিছু এয়ারলাইন ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে, আর শিল্প খাতেও সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

Very large crude carrier | ship | Britannica

তেল পরিবহনে বড় জাহাজের ভূমিকা

এশিয়ায় পাঠানো মার্কিন তেলের বড় অংশ পরিবহন করা হচ্ছে ভিএলসিসি (ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার) নামে পরিচিত বিশাল জাহাজে, যেগুলো একেকটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করতে পারে।

এছাড়া ছোট আকারের আফ্রাম্যাক্স ট্যাংকারও ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলো পানামা খাল দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে এবং দ্রুত পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছাতে সহায়তা করে।

মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন এশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎসে পরিণত হয়েছে—যা ভবিষ্যতের জ্বালানি বাজারেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে এশিয়ায় মার্কিন তেলের চাহিদা বাড়ছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব তীব্র

০৫:০০:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

এশিয়ার জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায়, এশিয়ার শোধনাগারগুলো এখন দ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজছে—আর সেই জায়গায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল।

এশিয়ার বাজারে মার্কিন তেলের উত্থান

সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্রমেই মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জাপান প্রথম দিকেই মে মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনা শুরু করে। পরে দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের কোম্পানিগুলোও এই ক্রয়ে যোগ দেয়।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অন্তত ৬ কোটি ব্যারেল তেল কেনা হয়েছে। এই পরিমাণ গত এপ্রিল মাসের সমান এবং গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটের প্রভাব

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সংকটের আশঙ্কা

ইরানে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি এখন সপ্তম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এর ফলে এশিয়ায় তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং শোধনাগার শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবুও উভয় পক্ষের অবরোধ কার্যকর থাকায় তেল পরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ

এই জ্বালানি সংকট শুধু শিল্পেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে শুরু করেছে। অনেক দেশ জ্বালানির চাহিদা কমাতে উদ্যোগ নিচ্ছে, কিছু এয়ারলাইন ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে, আর শিল্প খাতেও সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

Very large crude carrier | ship | Britannica

তেল পরিবহনে বড় জাহাজের ভূমিকা

এশিয়ায় পাঠানো মার্কিন তেলের বড় অংশ পরিবহন করা হচ্ছে ভিএলসিসি (ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার) নামে পরিচিত বিশাল জাহাজে, যেগুলো একেকটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করতে পারে।

এছাড়া ছোট আকারের আফ্রাম্যাক্স ট্যাংকারও ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলো পানামা খাল দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে এবং দ্রুত পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছাতে সহায়তা করে।

মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন এশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎসে পরিণত হয়েছে—যা ভবিষ্যতের জ্বালানি বাজারেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।