০৫:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে রেমিট্যান্স ঝুঁকি, চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল এই দেশের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

রেমিট্যান্সে ধীরগতির শঙ্কা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সেখানে শ্রমবাজারে চাহিদা কমে যেতে পারে। এর ফলে প্রবাসী কর্মীদের আয় কমে যাবে এবং সরাসরি রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ বিপুলসংখ্যক শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত।

বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি কেন বেশি
বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পায়, যার প্রায় অর্ধেকই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান ও কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা এই আয়ের মূল উৎস। ফলে ওই অঞ্চলের কোনো অস্থিরতা সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান
সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে নতুন কর্মী পাঠানো এবং পুরনো কর্মীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং প্রবাসী কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ২০২৬-২৭ সময়ে উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার কারণে মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশের বেশি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার উৎস নয়, এটি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে লাখো পরিবার তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটায়, যা স্থানীয় বাজারে চাহিদা তৈরি করে। ফলে রেমিট্যান্স কমে গেলে অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয়ও কমে যেতে পারে।

জ্বালানির দামের চাপ
বাংলাদেশ আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দামের বৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এতে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা
তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক মনে করছে, যদি সংকটটি দীর্ঘস্থায়ী না হয়, তাহলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল হলে ২০২৭ সালের দিকে মূল্যস্ফীতিও কমে আসতে পারে।

সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে রেমিট্যান্স ঝুঁকি, চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি

০৮:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল এই দেশের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

রেমিট্যান্সে ধীরগতির শঙ্কা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সেখানে শ্রমবাজারে চাহিদা কমে যেতে পারে। এর ফলে প্রবাসী কর্মীদের আয় কমে যাবে এবং সরাসরি রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ বিপুলসংখ্যক শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত।

বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি কেন বেশি
বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পায়, যার প্রায় অর্ধেকই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান ও কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা এই আয়ের মূল উৎস। ফলে ওই অঞ্চলের কোনো অস্থিরতা সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান
সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে নতুন কর্মী পাঠানো এবং পুরনো কর্মীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং প্রবাসী কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ২০২৬-২৭ সময়ে উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার কারণে মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশের বেশি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার উৎস নয়, এটি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে লাখো পরিবার তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটায়, যা স্থানীয় বাজারে চাহিদা তৈরি করে। ফলে রেমিট্যান্স কমে গেলে অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয়ও কমে যেতে পারে।

জ্বালানির দামের চাপ
বাংলাদেশ আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দামের বৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এতে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা
তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক মনে করছে, যদি সংকটটি দীর্ঘস্থায়ী না হয়, তাহলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল হলে ২০২৭ সালের দিকে মূল্যস্ফীতিও কমে আসতে পারে।

সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।