০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চে তেলের দাম, বৈশ্বিক বাজারে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ

গত এক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় সূচকই গত সপ্তাহের শেষ দিকে ৪ শতাংশের বেশি বাড়ার পর সোমবারও ঊর্ধ্বমুখী থাকে। ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ।

নতুন হামলা, নতুন অনিশ্চয়তা

সপ্তাহান্তে সংঘাত আরও তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলা চালায়, আর এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ করে। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের সামনে বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তেলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা জটিল হয়ে উঠতে পারে—এমন উদ্বেগও নতুন করে সামনে এসেছে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশ এখনও তুলনামূলকভাবে সহায়ক অবস্থায় রয়েছে।

Global Market | Oil Shockwave: Iran conflict triggers record surge in 2026  price forecasts - The Economic Times

মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির দ্বৈত ঝুঁকি

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক স্টিফেন ইনেসের মতে, বাজার বর্তমানে একই সঙ্গে দুটি বিপরীতমুখী বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে এবং শ্রমবাজারও তুলনামূলক শীতল হচ্ছে।

তার মতে, শুধুমাত্র জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে বিস্তৃত মূল্যস্ফীতির চক্র তৈরি করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে উচ্চ তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়, তাহলে তা ভোক্তাদের ব্যয় কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এশিয়ার বাজারে মিশ্র চিত্র

সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে একরকম চিত্র দেখা যায়নি। চীনের বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত ছিল। গত সপ্তাহের অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর বেইজিং অর্থনীতিকে আরও চাঙা করতে নতুন প্রণোদনা দিতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা চীনা শেয়ার কিনতে আগ্রহী হন।

হংকংয়ের বাজার ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে, আর সাংহাই সূচকও ১ দশমিক ৩২ শতাংশ অগ্রগতি দেখিয়েছে। এছাড়া তাইপে, ম্যানিলা ও সিঙ্গাপুরের বাজারেও সীমিত ঊর্ধ্বগতি ছিল।

অন্যদিকে সিউল, সিডনি ও ওয়েলিংটনের বাজার নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে। এর আগে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান সূচকই পতনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহ শেষ করে। প্রযুক্তি খাত থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও সোনার দাম প্রায় ০ দশমিক ৪০ শতাংশ কমেছে, তবে রূপার দাম বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম এক মাসের সর্বোচ্চে উঠেছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চে তেলের দাম, বৈশ্বিক বাজারে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

০৫:২১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ

গত এক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় সূচকই গত সপ্তাহের শেষ দিকে ৪ শতাংশের বেশি বাড়ার পর সোমবারও ঊর্ধ্বমুখী থাকে। ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ।

নতুন হামলা, নতুন অনিশ্চয়তা

সপ্তাহান্তে সংঘাত আরও তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলা চালায়, আর এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ করে। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের সামনে বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তেলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা জটিল হয়ে উঠতে পারে—এমন উদ্বেগও নতুন করে সামনে এসেছে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশ এখনও তুলনামূলকভাবে সহায়ক অবস্থায় রয়েছে।

Global Market | Oil Shockwave: Iran conflict triggers record surge in 2026  price forecasts - The Economic Times

মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির দ্বৈত ঝুঁকি

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক স্টিফেন ইনেসের মতে, বাজার বর্তমানে একই সঙ্গে দুটি বিপরীতমুখী বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে এবং শ্রমবাজারও তুলনামূলক শীতল হচ্ছে।

তার মতে, শুধুমাত্র জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে বিস্তৃত মূল্যস্ফীতির চক্র তৈরি করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে উচ্চ তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়, তাহলে তা ভোক্তাদের ব্যয় কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এশিয়ার বাজারে মিশ্র চিত্র

সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে একরকম চিত্র দেখা যায়নি। চীনের বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত ছিল। গত সপ্তাহের অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর বেইজিং অর্থনীতিকে আরও চাঙা করতে নতুন প্রণোদনা দিতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা চীনা শেয়ার কিনতে আগ্রহী হন।

হংকংয়ের বাজার ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে, আর সাংহাই সূচকও ১ দশমিক ৩২ শতাংশ অগ্রগতি দেখিয়েছে। এছাড়া তাইপে, ম্যানিলা ও সিঙ্গাপুরের বাজারেও সীমিত ঊর্ধ্বগতি ছিল।

অন্যদিকে সিউল, সিডনি ও ওয়েলিংটনের বাজার নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে। এর আগে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান সূচকই পতনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহ শেষ করে। প্রযুক্তি খাত থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও সোনার দাম প্রায় ০ দশমিক ৪০ শতাংশ কমেছে, তবে রূপার দাম বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম এক মাসের সর্বোচ্চে উঠেছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।