০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় দেশে ফিরছেন শ্রমিকরা, রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কায় বাংলাদেশসহ এশিয়ায় নতুন সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরছেন। এর ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে।

যুদ্ধের প্রভাব: চাকরি হারিয়ে ফিরছেন শ্রমিকরা

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বহু প্রবাসী শ্রমিক হঠাৎ করেই কাজ হারাচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না।

একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, হঠাৎ চাকরি হারিয়ে পরিবার চালানোর সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি এখন হাজার হাজার পরিবারের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় সংকেত। বাংলাদেশে ২০২৫ সালে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের মোট অর্থনীতির একটি বড় অংশ।

যদি প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে এই প্রবাহও দ্রুত কমে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামান্য অর্থনৈতিক সংকোচনও রেমিট্যান্সে বড় পতন ঘটাতে পারে।

জ্বালানি সংকটের সঙ্গে দ্বিগুণ চাপ

এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।

ফলে একদিকে রেমিট্যান্স কমছে, অন্যদিকে জ্বালানি খরচ বাড়ছে—এই দ্বৈত চাপে বাংলাদেশসহ অনেক দেশই অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।

বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা

এই পরিস্থিতিতে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা চলছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখন সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে এসব দেশে কাজের সুযোগ তৈরি করা সহজ নয়। ভাষা, দক্ষতা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জুলাই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে | শিরোনাম | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

নতুন পথ তৈরির প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সময় শ্রমবাজার বৈচিত্র্য আনার। কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়িয়ে নতুন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

একই সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা নতুন বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের শঙ্কা

রেমিট্যান্স শুধু অর্থনীতিকেই নয়, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রবাহ কমে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাই এই সংকট শুধু সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় দেশে ফিরছেন শ্রমিকরা, রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কায় বাংলাদেশসহ এশিয়ায় নতুন সংকট

১০:৫৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরছেন। এর ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে।

যুদ্ধের প্রভাব: চাকরি হারিয়ে ফিরছেন শ্রমিকরা

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বহু প্রবাসী শ্রমিক হঠাৎ করেই কাজ হারাচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না।

একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, হঠাৎ চাকরি হারিয়ে পরিবার চালানোর সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি এখন হাজার হাজার পরিবারের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় সংকেত। বাংলাদেশে ২০২৫ সালে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের মোট অর্থনীতির একটি বড় অংশ।

যদি প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে এই প্রবাহও দ্রুত কমে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামান্য অর্থনৈতিক সংকোচনও রেমিট্যান্সে বড় পতন ঘটাতে পারে।

জ্বালানি সংকটের সঙ্গে দ্বিগুণ চাপ

এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।

ফলে একদিকে রেমিট্যান্স কমছে, অন্যদিকে জ্বালানি খরচ বাড়ছে—এই দ্বৈত চাপে বাংলাদেশসহ অনেক দেশই অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।

বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা

এই পরিস্থিতিতে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা চলছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখন সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে এসব দেশে কাজের সুযোগ তৈরি করা সহজ নয়। ভাষা, দক্ষতা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জুলাই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে | শিরোনাম | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

নতুন পথ তৈরির প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সময় শ্রমবাজার বৈচিত্র্য আনার। কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়িয়ে নতুন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

একই সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা নতুন বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের শঙ্কা

রেমিট্যান্স শুধু অর্থনীতিকেই নয়, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রবাহ কমে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাই এই সংকট শুধু সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।