০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমাল ফিলিপাইন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং গত বছরের আলোচিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প–সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে ফিলিপাইন সরকার।

দেশটির অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকেরা চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের ৫ থেকে ৬ শতাংশের পরিবর্তে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন। প্রথম প্রান্তিকে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রথম প্রান্তিকের হতাশাজনক ফল

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ফিলিপাইনের অর্থনীতি মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এটি বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ব্যয় বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং অবকাঠামো প্রকল্পে নানা জটিলতার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত গতি পায়নি।

সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, পরিকল্পিত ব্যয় যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারত। অর্থাৎ ব্যয় কম হওয়ার প্রভাবই প্রবৃদ্ধিকে প্রায় এক শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে দিয়েছে।

যদিও প্রথম প্রান্তিকে সরকারি ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে, তবু তা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় অনেক ধীর ছিল। ফলে অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত গতি ফিরে আসেনি।

জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ফিলিপাইনের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটি আমদানি করা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশটির অর্থনীতিতে।

উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে মূল্যস্ফীতি সরকারের নির্ধারিত ২ থেকে ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে। এপ্রিল মাসে তা বেড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়। মে মাসে সামান্য কমে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও তা এখনও কাঙ্ক্ষিত সীমার অনেক ওপরে রয়েছে।

সুদের হার আরও বাড়তে পারে

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি নীতিগত সুদের হার আরও ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বৃদ্ধি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সামনে আরও বড় ধরনের সুদহার বৃদ্ধি করা হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বিনিয়োগ, ভোগব্যয় এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি

ফিলিপাইনের অর্থনীতি এখন একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক দুই ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। একদিকে প্রশাসনিক জটিলতা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা, অন্যদিকে যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ব্যয়ের গতি বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে আগামী মাসগুলোতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির চাপে ফিলিপাইন ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়েছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্বল অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমাল ফিলিপাইন

০৫:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং গত বছরের আলোচিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প–সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে ফিলিপাইন সরকার।

দেশটির অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকেরা চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের ৫ থেকে ৬ শতাংশের পরিবর্তে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন। প্রথম প্রান্তিকে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রথম প্রান্তিকের হতাশাজনক ফল

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ফিলিপাইনের অর্থনীতি মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এটি বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ব্যয় বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং অবকাঠামো প্রকল্পে নানা জটিলতার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত গতি পায়নি।

সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, পরিকল্পিত ব্যয় যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারত। অর্থাৎ ব্যয় কম হওয়ার প্রভাবই প্রবৃদ্ধিকে প্রায় এক শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে দিয়েছে।

যদিও প্রথম প্রান্তিকে সরকারি ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে, তবু তা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় অনেক ধীর ছিল। ফলে অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত গতি ফিরে আসেনি।

জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ফিলিপাইনের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটি আমদানি করা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশটির অর্থনীতিতে।

উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে মূল্যস্ফীতি সরকারের নির্ধারিত ২ থেকে ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে। এপ্রিল মাসে তা বেড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়। মে মাসে সামান্য কমে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও তা এখনও কাঙ্ক্ষিত সীমার অনেক ওপরে রয়েছে।

সুদের হার আরও বাড়তে পারে

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি নীতিগত সুদের হার আরও ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বৃদ্ধি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সামনে আরও বড় ধরনের সুদহার বৃদ্ধি করা হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বিনিয়োগ, ভোগব্যয় এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি

ফিলিপাইনের অর্থনীতি এখন একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক দুই ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। একদিকে প্রশাসনিক জটিলতা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা, অন্যদিকে যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ব্যয়ের গতি বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে আগামী মাসগুলোতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির চাপে ফিলিপাইন ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়েছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্বল অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।