০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ডলার বাজারে চাপ, আমদানি এলসিতে ডলার ১২৩ টাকায়

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাব এবার বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার কারণে রেমিট্যান্স সংগ্রহ এবং আমদানি পরিশোধ—দুই ক্ষেত্রেই ডলারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে আমদানিকারকদের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা বাজারেও পড়তে পারে।

আমদানি এলসিতে ডলার ১২৩ টাকা

ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মঙ্গলবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে রেমিট্যান্স ডলার কিনেছে। এর সরাসরি প্রভাবে আমদানি ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ডলারের দাম উঠে গেছে প্রায় ১২৩ টাকায়।

মাত্র এক সপ্তাহ আগেও আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দাম ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রতি ডলারে প্রায় ৫০ পয়সা বেড়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Mideast crisis pushes dollar rate to Tk 123 for import LCs

আমদানিকারকদের উদ্বেগ বাড়ছে

একজন আমদানিকারক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে ব্যাংকগুলো এখন ডলারের দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় হঠাৎ করেই বেড়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।

ব্যবসায়ীদের মতে, ডলারের দাম বাড়তে থাকলে পণ্য আমদানির খরচ বাড়বে এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

রেমিট্যান্স বাজারেও চাপ

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি রেমিট্যান্স হাউসগুলোও এখন বেশি দামে ডলার চাইছে। আগে যেখানে প্রায় ১২২ টাকায় রেমিট্যান্স ডলার পাওয়া যেত, এখন তা প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বিনিময় হার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ৩ মার্চ ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায়।

আরও ১৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক | NTV Online

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি

একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত ডলারের দাম যাতে ১২৩ টাকার বেশি না বাড়ে সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনানুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আমদানির দায় বাড়তে থাকে এবং বাজারে ডলারের সরবরাহ কম থাকে, তাহলে দাম আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করতে হতে পারে।

বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে আরও ৬৭ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিয়ে আলোচনা

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ডলার সরবরাহ বাড়াতে এবং বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে ধীরে ধীরে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার দিকে এগোনো প্রয়োজন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সরবরাহও বৃদ্ধি পেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ডলার বাজারে চাপ, আমদানি এলসিতে ডলার ১২৩ টাকায়

০১:০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাব এবার বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার কারণে রেমিট্যান্স সংগ্রহ এবং আমদানি পরিশোধ—দুই ক্ষেত্রেই ডলারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে আমদানিকারকদের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা বাজারেও পড়তে পারে।

আমদানি এলসিতে ডলার ১২৩ টাকা

ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মঙ্গলবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে রেমিট্যান্স ডলার কিনেছে। এর সরাসরি প্রভাবে আমদানি ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ডলারের দাম উঠে গেছে প্রায় ১২৩ টাকায়।

মাত্র এক সপ্তাহ আগেও আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দাম ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রতি ডলারে প্রায় ৫০ পয়সা বেড়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Mideast crisis pushes dollar rate to Tk 123 for import LCs

আমদানিকারকদের উদ্বেগ বাড়ছে

একজন আমদানিকারক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে ব্যাংকগুলো এখন ডলারের দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় হঠাৎ করেই বেড়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।

ব্যবসায়ীদের মতে, ডলারের দাম বাড়তে থাকলে পণ্য আমদানির খরচ বাড়বে এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

রেমিট্যান্স বাজারেও চাপ

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি রেমিট্যান্স হাউসগুলোও এখন বেশি দামে ডলার চাইছে। আগে যেখানে প্রায় ১২২ টাকায় রেমিট্যান্স ডলার পাওয়া যেত, এখন তা প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বিনিময় হার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ৩ মার্চ ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায়।

আরও ১৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক | NTV Online

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি

একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত ডলারের দাম যাতে ১২৩ টাকার বেশি না বাড়ে সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনানুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আমদানির দায় বাড়তে থাকে এবং বাজারে ডলারের সরবরাহ কম থাকে, তাহলে দাম আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করতে হতে পারে।

বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে আরও ৬৭ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিয়ে আলোচনা

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ডলার সরবরাহ বাড়াতে এবং বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে ধীরে ধীরে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার দিকে এগোনো প্রয়োজন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সরবরাহও বৃদ্ধি পেতে পারে।