১২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’ পাকিস্তানে বিদ্যুতের দাম বাড়ল ইউনিটে ২.৫৮ রুপি, গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ ৪৫.৬৭ বিলিয়ন রুপি পরমাণু ‘লিজ’ ছড়িয়ে পড়ছে, বদলে যেতে পারে বৈশ্বিক নিরাপত্তার চিত্র ট্রাম্প কাতারের উপহারের বিলাসবহুল বিমানে যাচ্ছেন আয়ারল্যান্ড মালয়েশিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা, ৮ বাংলাদেশিসহ আটক ১৬ মনমোহন সিংয়ের স্মৃতিসৌধ নির্মাণে অনুমোদন, রাজঘাটের ঐতিহ্য রাখার নির্দেশ দিল্লি-এনসিআরে ফের ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, হলুদ সতর্কতা জারি কারওয়ান বাজারে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু রিকশাচালককে ইট দিয়ে হত্যা, পাওনা ১৫০ টাকা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ এলএনজি আমদানিতে অনিশ্চয়তা, কমছে দেশীয় গ্যাস: দুই বছরেও কাটবে কি সংকট?

মধ্য এশিয়ায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, ইসলামী অর্থায়নে নতুন দিগন্তের পূর্বাভাস

মধ্য এশিয়ায় ইসলামী অর্থায়ন খাত আগামী এক দশকে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ইউরেশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ইডিবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ইনস্টিটিউট (আইএসডিবিআই) এবং লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি)-এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঠিক নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে ২০৩৩ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে ইসলামী ব্যাংকিং সম্পদের পরিমাণ ৬.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ১৯তম গ্লোবাল ফোরাম অন ইসলামিক ফাইন্যান্সে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে মধ্য এশিয়ায় ইসলামী অর্থায়নের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং খাতটির বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে সম্ভাবনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তান—এই পাঁচ দেশ নিয়ে গঠিত মধ্য এশিয়া বর্তমানে দ্রুত অর্থনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

অঞ্চলটির জনসংখ্যা এখন প্রায় ৮ কোটি, যা ২০০০ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ২ শতাংশ। ২০২৪ সালে পাঁচ দেশের সম্মিলিত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দাঁড়িয়েছে ৫১৯ বিলিয়ন ডলারে। গত দুই দশকে নামমাত্র জিডিপি গড়ে বছরে ৬.৪ শতাংশ হারে বেড়েছে। একই সময়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ নয় গুণ এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ১৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও ইসলামী অর্থায়ন সীমিত

অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও মধ্য এশিয়ায় ইসলামী অর্থায়নের উপস্থিতি এখনও খুব সীমিত। বর্তমানে অঞ্চলটিতে রয়েছে মাত্র ১৮টি ইসলামী ব্যাংক, ১৪টি অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সীমিত সংখ্যক ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো।

২০২৩ সালে মধ্য এশিয়ার মোট ইসলামী অর্থায়ন সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬৯৯ মিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক ইসলামী অর্থায়ন বাজারের মাত্র ০.০১ শতাংশ। অথচ অঞ্চলটির প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম।

Islamic Finance set to surge in Central Asia, poised to hit $6.3bn by 2033

ব্যাংকিং ও সুকুক বাজারে দ্রুত সম্প্রসারণের পূর্বাভাস

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছরগুলোতে ইসলামী ব্যাংকিং ও সুকুক বাজার হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকিং সম্পদ ২০২৮ সালের মধ্যে ২.৫ বিলিয়ন ডলারে এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

একই সময়ে সুকুক বাজারের আকার ২০২৮ সালে ২.০৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০৩৩ সালে ৫.৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি, পরিবহন ও লজিস্টিকস, শিল্প, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক অবকাঠামো খাতে এ বাজারের বিস্তারের সুযোগ সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান নেতৃত্বে থাকতে পারে

প্রতিবেদনটি বলছে, শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অনুকূল জনমিতিক প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতার কারণে কাজাখস্তান ইসলামী অর্থায়নের সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিতে পারে। উজবেকিস্তানও এ ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিকাশে প্রয়োজন সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ

ইসলামী অর্থায়নের বিস্তার ত্বরান্বিত করতে প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্তপারের শরিয়াহসম্মত লেনদেন সহজ করতে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সমন্বয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের বাইরে নতুন আর্থিক পণ্য উদ্ভাবন এবং ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী অর্থায়ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।

ইডিবি, আইএসডিবিআই এবং এলএসইজি বলেছে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তারা মধ্য এশিয়ার আর্থিক খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী সমাধান এবং কৌশলগত বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করবে।

মধ্য এশিয়ায় ইসলামী অর্থায়নের বাজার ২০৩৩ সালের মধ্যে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে যৌথ প্রতিবেদনের পূর্বাভাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’

মধ্য এশিয়ায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, ইসলামী অর্থায়নে নতুন দিগন্তের পূর্বাভাস

০৫:২৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মধ্য এশিয়ায় ইসলামী অর্থায়ন খাত আগামী এক দশকে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ইউরেশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ইডিবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ইনস্টিটিউট (আইএসডিবিআই) এবং লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি)-এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঠিক নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে ২০৩৩ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে ইসলামী ব্যাংকিং সম্পদের পরিমাণ ৬.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ১৯তম গ্লোবাল ফোরাম অন ইসলামিক ফাইন্যান্সে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে মধ্য এশিয়ায় ইসলামী অর্থায়নের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং খাতটির বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে সম্ভাবনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তান—এই পাঁচ দেশ নিয়ে গঠিত মধ্য এশিয়া বর্তমানে দ্রুত অর্থনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

অঞ্চলটির জনসংখ্যা এখন প্রায় ৮ কোটি, যা ২০০০ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ২ শতাংশ। ২০২৪ সালে পাঁচ দেশের সম্মিলিত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দাঁড়িয়েছে ৫১৯ বিলিয়ন ডলারে। গত দুই দশকে নামমাত্র জিডিপি গড়ে বছরে ৬.৪ শতাংশ হারে বেড়েছে। একই সময়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ নয় গুণ এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ১৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও ইসলামী অর্থায়ন সীমিত

অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও মধ্য এশিয়ায় ইসলামী অর্থায়নের উপস্থিতি এখনও খুব সীমিত। বর্তমানে অঞ্চলটিতে রয়েছে মাত্র ১৮টি ইসলামী ব্যাংক, ১৪টি অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সীমিত সংখ্যক ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো।

২০২৩ সালে মধ্য এশিয়ার মোট ইসলামী অর্থায়ন সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬৯৯ মিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক ইসলামী অর্থায়ন বাজারের মাত্র ০.০১ শতাংশ। অথচ অঞ্চলটির প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম।

Islamic Finance set to surge in Central Asia, poised to hit $6.3bn by 2033

ব্যাংকিং ও সুকুক বাজারে দ্রুত সম্প্রসারণের পূর্বাভাস

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছরগুলোতে ইসলামী ব্যাংকিং ও সুকুক বাজার হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকিং সম্পদ ২০২৮ সালের মধ্যে ২.৫ বিলিয়ন ডলারে এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

একই সময়ে সুকুক বাজারের আকার ২০২৮ সালে ২.০৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০৩৩ সালে ৫.৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি, পরিবহন ও লজিস্টিকস, শিল্প, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক অবকাঠামো খাতে এ বাজারের বিস্তারের সুযোগ সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান নেতৃত্বে থাকতে পারে

প্রতিবেদনটি বলছে, শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অনুকূল জনমিতিক প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতার কারণে কাজাখস্তান ইসলামী অর্থায়নের সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিতে পারে। উজবেকিস্তানও এ ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিকাশে প্রয়োজন সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ

ইসলামী অর্থায়নের বিস্তার ত্বরান্বিত করতে প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্তপারের শরিয়াহসম্মত লেনদেন সহজ করতে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সমন্বয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের বাইরে নতুন আর্থিক পণ্য উদ্ভাবন এবং ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী অর্থায়ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।

ইডিবি, আইএসডিবিআই এবং এলএসইজি বলেছে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তারা মধ্য এশিয়ার আর্থিক খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী সমাধান এবং কৌশলগত বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করবে।

মধ্য এশিয়ায় ইসলামী অর্থায়নের বাজার ২০৩৩ সালের মধ্যে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে যৌথ প্রতিবেদনের পূর্বাভাস।