ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে দিল্লি আরবান আর্টস কমিশন (ডিইউএসি)। রাজঘাটের রাষ্ট্রীয় স্মৃতি স্থলে নির্মিতব্য এই স্মৃতিসৌধের নকশা, নির্মাণসামগ্রী, রং ও ল্যান্ডস্কেপ বিদ্যমান স্মৃতিসৌধগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার শর্ত দিয়েছে কমিশন।
২৫ আগস্টের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করেছে ডিইউএসি। স্মৃতিসৌধের স্থাপত্য, ল্যান্ডস্কেপ, নির্মাণসামগ্রী, দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং আশপাশের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে এতে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবটি কেন্দ্রীয় গণপূর্ত বিভাগ (সিপিডব্লিউডি) জমা দেয়। স্থপতির সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার পর কমিশনের উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়।
রাজঘাটের সঙ্গে মিল রেখে নকশা

রাষ্ট্রীয় স্মৃতি স্থলে বিদ্যমান সমাধিগুলোর সঙ্গে নতুন স্মৃতিসৌধের সামগ্রিক পরিবেশের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ডিইউএসি। ইউনিয়ন আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অনুমোদনেও আশপাশের পরিবেশ, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিদ্যমান স্মৃতিসৌধগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার শর্ত রয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, নতুন স্মৃতিসৌধের স্থাপত্য, ল্যান্ডস্কেপ, নির্মাণসামগ্রী, রঙের ব্যবহার, পেভিং, পার্শ্ববর্তী অংশের নকশা এবং অন্যান্য বাহ্যিক উপাদান রাষ্ট্রীয় স্মৃতি স্থলের বিদ্যমান স্থাপত্য ও দৃশ্যগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করতে হবে।
ডিইউএসি বলেছে, রাজঘাট এলাকায় সংযত স্মৃতিসৌধ নকশা এবং খোলামেলা সবুজ পরিবেশের একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই মনমোহন সিংয়ের স্মৃতিসৌধের আলাদা পরিচয় থাকলেও বৃহত্তর এলাকার সঙ্গে এর দৃশ্যগত সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে।
সাদা মার্বেল ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা
প্রস্তাবিত স্মৃতিসৌধে সাদা মার্বেল বা সাদা গ্রানাইট ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছে কমিশন। বিদ্যমান সমাধিগুলোর সঙ্গে উপকরণ ও রঙের সামঞ্জস্য যাচাই করে তা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ল্যান্ডস্কেপ পরিকল্পনাকেও অনুমোদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা হয়েছে। ঘাসের মাঠ, গাছপালা, ফুলের বাগান, পাকা অংশ ও পার্শ্ববর্তী সবুজায়ন বিদ্যমান পরিবেশের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে।

প্রস্তাবিত স্থানে থাকা একটি গাছও সংরক্ষণ করতে হবে। নকশায় গাছটিকে এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে এর স্বাস্থ্য, শিকড়ের বিস্তার ও ভবিষ্যৎ বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে বসার ব্যবস্থা
সীমানা, রেলিং, চলাচলের পথ, নির্দেশক ফলক, স্মারক ফলকসহ বিভিন্ন উপাদানের নকশাতেও সমন্বয় রাখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এসবের উপকরণ, অনুপাত ও নকশা রাষ্ট্রীয় স্মৃতি স্থলের সামগ্রিক চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
স্মৃতিসৌধে প্রবেশের আগে জুতা খোলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পথের দুই পাশে দর্শনার্থীদের বসার বেঞ্চ এবং বৃষ্টির সময় জুতা সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত গাছ, উদ্ভিদের প্রজাতি, পেভিং, ভূমির উচ্চতা এবং চলাচলের পথ দেখিয়ে একটি সমন্বিত ল্যান্ডস্কেপ পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। স্থাপত্য ও ল্যান্ডস্কেপের সব নকশা এবং ত্রিমাত্রিক দৃশ্যায়নেও উপকরণ, রং, ভূমির উচ্চতা, পেভিং ও সবুজায়নের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
স্মৃতিসৌধের বাহ্যিক চেহারায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিবর্তন আনার আগে তা ডিইউএসি’র কাছে উপস্থাপন করতে হবে। তবে এই অনুমোদন মূলত স্থাপত্য, নগর নকশা ও নান্দনিক বিষয়ক। প্রকল্প বাস্তবায়নে ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের শর্তসহ সব আইনগত ও বিধিবদ্ধ প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















