রাজধানীর ডেমরায় মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কামারভোগ এলাকার ৪ নম্বর গেট মসজিদের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রনি নামে এক যুবককে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত দেলোয়ার ও অভিযুক্ত রনি পরস্পরের পরিচিত। দুজনই মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দেলোয়ারের কাছে রনির ১৫০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দেলোয়ারকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মারা যান।
পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাইফুর রহমান মির্জা জানান, দেলোয়ার ও রনি আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। পাওনা ১৫০ টাকা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশের ভাষ্য, মাদক কেনার সময় বাকি রাখা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত হতে পারে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।

মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ
দেলোয়ার ডেমরার কামারভোগ এলাকায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। তাঁর মেয়ে লামিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে রনি নামে এক যুবক মোবাইল ফোনে কল করে দেলোয়ারকে বাসা থেকে ডেকে নেন। এরপর তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে দেলোয়ারকে কেন ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।
গণপিটুনিতে আহত অভিযুক্ত
দেলোয়ারকে হত্যার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা রনিকে ধরে গণপিটুনি দেন। এতে তিনি আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষে রনির সঙ্গে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার বক্তব্য এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ হত্যার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















