০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মলদোভায় শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ১৯ বছরের সাজা, প্রভাবশালী অলিগার্ক প্লাহোতনিউকের পতন

এক সময় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি ভ্লাদ প্লাহোতনিউক অবশেষে আইনের মুখোমুখি। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও তদন্তের পর তাকে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে গুনতে হবে কোটি কোটি ডলারের জরিমানা। ছোট দেশ মলদোভায় এটি এক ঐতিহাসিক রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দাপট
২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্লাহোতনিউক কার্যত মলদোভার রাজনীতি, প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত এবং বড় ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার প্রভাব এতটাই ছিল যে পুলিশ বাহিনী পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভয় দেখানো, চাপ প্রয়োগ ও ব্ল্যাকমেইল ছিল তার ক্ষমতা ধরে রাখার প্রধান উপায়।

২০১৯ সালে রাজনৈতিক চাপে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি। এরপর বহু বছর পালিয়ে বেড়ানোর সময় বিভিন্ন ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে একাধিক দেশে অবস্থান করেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পারেন।

এক বিলিয়ন ডলারের ব্যাংক কেলেঙ্কারি
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্লাহোতনিউকের নেতৃত্বে একটি সংগঠিত চক্র দেশের ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার করা হয়। সে সময় এটি ছিল দেশের মোট অর্থনীতির একটি বড় অংশ, যা জাতীয় অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে নাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া একই সময়ের আরেক ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে, মলদোভা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অবৈধ অর্থও পাচার করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়।

A Moldovan oligarch and ex-opposition leader gets a 19-year sentence in a  $1 billion bank fraud case

বিচারব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
এই রায়কে অনেকেই মলদোভার বিচারব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই রায়ের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মায়া সান্দু ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিচারব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেন। যদিও এই পথে এখনও অনেক বাধা রয়েছে, বিশেষ করে বিচারক ও প্রসিকিউটরদের সততা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

অন্য অলিগার্কদের পালানো
প্লাহোতনিউকের মতো আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। কেউ কেউ বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান। ফলে পুরো ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে আরও সময় লাগবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা
এই ব্যাংক কেলেঙ্কারি মলদোভার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। জনরোষের ফলে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে এবং নতুন নেতৃত্ব উঠে আসে। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে।

তবে প্লাহোতনিউক আপিল করবেন বলে জানা গেছে। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, তার আগের মতো প্রভাব এখন আর নেই, ফলে রায় বদলানোর সম্ভাবনা কম।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মলদোভায় শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ১৯ বছরের সাজা, প্রভাবশালী অলিগার্ক প্লাহোতনিউকের পতন

০৫:২৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

এক সময় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি ভ্লাদ প্লাহোতনিউক অবশেষে আইনের মুখোমুখি। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও তদন্তের পর তাকে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে গুনতে হবে কোটি কোটি ডলারের জরিমানা। ছোট দেশ মলদোভায় এটি এক ঐতিহাসিক রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দাপট
২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্লাহোতনিউক কার্যত মলদোভার রাজনীতি, প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত এবং বড় ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার প্রভাব এতটাই ছিল যে পুলিশ বাহিনী পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভয় দেখানো, চাপ প্রয়োগ ও ব্ল্যাকমেইল ছিল তার ক্ষমতা ধরে রাখার প্রধান উপায়।

২০১৯ সালে রাজনৈতিক চাপে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়েন তিনি। এরপর বহু বছর পালিয়ে বেড়ানোর সময় বিভিন্ন ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে একাধিক দেশে অবস্থান করেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পারেন।

এক বিলিয়ন ডলারের ব্যাংক কেলেঙ্কারি
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্লাহোতনিউকের নেতৃত্বে একটি সংগঠিত চক্র দেশের ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার করা হয়। সে সময় এটি ছিল দেশের মোট অর্থনীতির একটি বড় অংশ, যা জাতীয় অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে নাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া একই সময়ের আরেক ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে, মলদোভা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অবৈধ অর্থও পাচার করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়।

A Moldovan oligarch and ex-opposition leader gets a 19-year sentence in a  $1 billion bank fraud case

বিচারব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
এই রায়কে অনেকেই মলদোভার বিচারব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই রায়ের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মায়া সান্দু ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিচারব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেন। যদিও এই পথে এখনও অনেক বাধা রয়েছে, বিশেষ করে বিচারক ও প্রসিকিউটরদের সততা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

অন্য অলিগার্কদের পালানো
প্লাহোতনিউকের মতো আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। কেউ কেউ বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান। ফলে পুরো ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে আরও সময় লাগবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা
এই ব্যাংক কেলেঙ্কারি মলদোভার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। জনরোষের ফলে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে এবং নতুন নেতৃত্ব উঠে আসে। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে।

তবে প্লাহোতনিউক আপিল করবেন বলে জানা গেছে। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, তার আগের মতো প্রভাব এখন আর নেই, ফলে রায় বদলানোর সম্ভাবনা কম।