০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মস্কোতে ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর বার্তা

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববারের এই হামলায় মস্কো ও আশপাশের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ, আগুন এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ না করায় এই হামলা ছিল “সম্পূর্ণ ন্যায্য প্রতিক্রিয়া”।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে মস্কো অঞ্চলে কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার কারণে বিমান চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন তৈরি হয়।

মস্কোকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন হামলা

ইউক্রেনের এই হামলায় মস্কোর সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, যৌথ অভিযানে একটি সামরিক কারখানা, একটি তেল শোধনাগার এবং দুটি তেল পাম্পিং স্টেশনে আঘাত হানা হয়েছে।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী এবং আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকায় গুলির শব্দও শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া যতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, ততদিন ইউক্রেনও জবাব দিতে থাকবে। তার ভাষায়, যুদ্ধ এখন ধীরে ধীরে “নিজের ঘরে ফিরে যাচ্ছে”।

হতাহত ও বিমান চলাচলে প্রভাব

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। কিছু আবাসিক ভবন, নির্মাণাধীন স্থাপনা এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মস্কোর প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায়ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তার কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত করা হয়।

মস্কোর মেয়র দাবি করেছেন, শহর লক্ষ্য করে আসা শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এত বড় হামলা রাশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

Ukraine Launches Drone Attack Against Moscow Region

পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা

সম্প্রতি রাশিয়াও ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সেই হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। বিশেষ করে কিয়েভে একটি আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনায় শিশু নিহত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এর পর থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার হামলা বাড়াতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন এখন শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, রাশিয়ার গভীর ভেতরের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করছে।

বিশেষ করে তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ তৈরি করতে চাইছে কিয়েভ। যদিও জ্বালানি বাজারে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে রাশিয়া এখনও তেল থেকে বড় আয় করছে।

যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই কৌশল রাশিয়ার সাধারণ জনগণের কাছেও যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছে দিচ্ছে। এতদিন যুদ্ধ মূলত ইউক্রেনের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন রাশিয়ার ভেতরেও আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার উচিত অন্য দেশের জীবন ব্যাহত করার বদলে নিজেদের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিয়ে চিন্তা করা। তার দাবি, এই হামলাগুলো বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে ইউক্রেন এখনও প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মস্কোতে ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর বার্তা

০৫:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববারের এই হামলায় মস্কো ও আশপাশের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ, আগুন এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ না করায় এই হামলা ছিল “সম্পূর্ণ ন্যায্য প্রতিক্রিয়া”।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে মস্কো অঞ্চলে কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার কারণে বিমান চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন তৈরি হয়।

মস্কোকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন হামলা

ইউক্রেনের এই হামলায় মস্কোর সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, যৌথ অভিযানে একটি সামরিক কারখানা, একটি তেল শোধনাগার এবং দুটি তেল পাম্পিং স্টেশনে আঘাত হানা হয়েছে।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী এবং আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকায় গুলির শব্দও শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া যতদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, ততদিন ইউক্রেনও জবাব দিতে থাকবে। তার ভাষায়, যুদ্ধ এখন ধীরে ধীরে “নিজের ঘরে ফিরে যাচ্ছে”।

হতাহত ও বিমান চলাচলে প্রভাব

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। কিছু আবাসিক ভবন, নির্মাণাধীন স্থাপনা এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মস্কোর প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায়ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তার কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত করা হয়।

মস্কোর মেয়র দাবি করেছেন, শহর লক্ষ্য করে আসা শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এত বড় হামলা রাশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

Ukraine Launches Drone Attack Against Moscow Region

পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা

সম্প্রতি রাশিয়াও ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সেই হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। বিশেষ করে কিয়েভে একটি আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনায় শিশু নিহত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এর পর থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার হামলা বাড়াতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন এখন শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, রাশিয়ার গভীর ভেতরের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করছে।

বিশেষ করে তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ তৈরি করতে চাইছে কিয়েভ। যদিও জ্বালানি বাজারে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে রাশিয়া এখনও তেল থেকে বড় আয় করছে।

যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই কৌশল রাশিয়ার সাধারণ জনগণের কাছেও যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছে দিচ্ছে। এতদিন যুদ্ধ মূলত ইউক্রেনের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন রাশিয়ার ভেতরেও আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার উচিত অন্য দেশের জীবন ব্যাহত করার বদলে নিজেদের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিয়ে চিন্তা করা। তার দাবি, এই হামলাগুলো বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে ইউক্রেন এখনও প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।