০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মস্কোর তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, বিমান চলাচলে বিঘ্ন

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলায় মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাজধানী ও আশপাশের কয়েকটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মস্কো অয়েল রিফাইনারি, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র এবং রাজধানী অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। হামলার পর শোধনাগার এলাকায় আগুন ও ঘন ধোঁয়া দেখা যায়। চলতি সপ্তাহে একই স্থাপনায় এর আগেও হামলা হয়েছিল।

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই হামলা

এই হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আলোচনা ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পথ তৈরি করতে পারে।

জেলেনস্কি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন সমর্থনের আশ্বাসও পেয়েছে ইউক্রেন। পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা অব্যাহত থাকায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

শত শত ড্রোন প্রতিহতের দাবি

রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৫৫৫টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজধানীকে ঘিরে থাকা চারটি বিমানবন্দরে সাময়িক উড়োজাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ফলে কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।

Ukraine hits Moscow oil refinery, disrupts commercial flights

বসতবাড়ি ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি

মস্কো অঞ্চলে ড্রোন ও ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যক্তিগত বাড়ি, একটি শপিং সেন্টার, একটি ফিটনেস কেন্দ্র এবং একটি শিল্পকারখানার অংশ ক্ষতির মুখে পড়ে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত একজন নারী আহত হয়েছেন। ঝুকোভস্কি শহরের একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানার পর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

যুদ্ধের নতুন কৌশল

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করছে। কিয়েভের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ পরিচালনার জন্য মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করা এবং সংঘাতের প্রভাব রাশিয়ার অভ্যন্তরে আরও দৃশ্যমান করে তোলা।

জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনীয় শহরগুলোর ওপর রুশ হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তার মতে, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চাপ বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে ইউক্রেন এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরে অনেক দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। এর মাধ্যমে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও বিঘ্ন সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন।

মেটা বর্ণনা: মস্কোর বৃহৎ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, বিমান চলাচলে বিঘ্ন ও নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগে রাশিয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মস্কোর তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, বিমান চলাচলে বিঘ্ন

০৫:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলায় মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাজধানী ও আশপাশের কয়েকটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মস্কো অয়েল রিফাইনারি, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র এবং রাজধানী অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। হামলার পর শোধনাগার এলাকায় আগুন ও ঘন ধোঁয়া দেখা যায়। চলতি সপ্তাহে একই স্থাপনায় এর আগেও হামলা হয়েছিল।

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই হামলা

এই হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আলোচনা ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পথ তৈরি করতে পারে।

জেলেনস্কি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন সমর্থনের আশ্বাসও পেয়েছে ইউক্রেন। পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা অব্যাহত থাকায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

শত শত ড্রোন প্রতিহতের দাবি

রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৫৫৫টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজধানীকে ঘিরে থাকা চারটি বিমানবন্দরে সাময়িক উড়োজাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ফলে কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।

Ukraine hits Moscow oil refinery, disrupts commercial flights

বসতবাড়ি ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি

মস্কো অঞ্চলে ড্রোন ও ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যক্তিগত বাড়ি, একটি শপিং সেন্টার, একটি ফিটনেস কেন্দ্র এবং একটি শিল্পকারখানার অংশ ক্ষতির মুখে পড়ে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত একজন নারী আহত হয়েছেন। ঝুকোভস্কি শহরের একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানার পর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

যুদ্ধের নতুন কৌশল

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করছে। কিয়েভের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ পরিচালনার জন্য মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করা এবং সংঘাতের প্রভাব রাশিয়ার অভ্যন্তরে আরও দৃশ্যমান করে তোলা।

জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনীয় শহরগুলোর ওপর রুশ হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তার মতে, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চাপ বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে ইউক্রেন এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরে অনেক দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। এর মাধ্যমে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও বিঘ্ন সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন।

মেটা বর্ণনা: মস্কোর বৃহৎ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, বিমান চলাচলে বিঘ্ন ও নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগে রাশিয়া।