০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মস্তিষ্কের সংকেতেই চলবে প্রযুক্তি, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নতুন আশার নাম ‘সিঙ্ক্রন’

মানুষের চিন্তাকে সরাসরি প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার স্বপ্ন এখন আর কল্পনা নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে কাজ করছে সিঙ্ক্রন নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যারা তৈরি করেছে এমন এক ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস, যা অস্ত্রোপচার ছাড়াই মস্তিষ্কের ভেতরে বসানো সম্ভব। এর মাধ্যমে পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষও শুধু চিন্তার মাধ্যমে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন।

প্রযুক্তির এই উদ্ভাবনের নাম ‘স্টেন্ট্রোড’। এটি একটি ক্ষুদ্র যন্ত্র, যা রক্তনালীর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছানো হয়, ফলে খোলা মাথার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। এই সহজ পদ্ধতি চিকিৎসকদের কাছে প্রযুক্তিটিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি
স্টেন্ট্রোড মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংকেত শনাক্ত করে এবং সেগুলোকে ডিজিটাল কমান্ডে রূপান্তর করে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা অন্যান্য ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এতে করে যাদের হাত-পা নড়াচড়া করার ক্ষমতা নেই, তাদের জন্য এটি হয়ে উঠছে এক নতুন সম্ভাবনার দরজা।

4 Things You Can Do to Help Boost Your Brain Power

সম্প্রতি এক রোগীর অভিজ্ঞতা
গত আগস্টে এই প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ দেখা যায়। এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী শুধু নিজের চিন্তার সাহায্যে একটি ট্যাবলেট ব্যবহার করতে সক্ষম হন। তিনি ওয়েব ব্রাউজিং করেছেন, এমনকি বার্তাও লিখেছেন—সবকিছুই করেছেন হাত নাড়ানো ছাড়াই। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রযুক্তিটি বাস্তবে কার্যকর এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত হতে পারে।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রযুক্তি হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জীবনযাত্রা অনেকটাই বদলে যাবে। শুধু যোগাযোগ নয়, তারা স্বাভাবিক জীবনের অনেক কাজই করতে পারবেন নিজের ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে।

অনুমোদনের পথে সিঙ্ক্রন
বর্তমানে সিঙ্ক্রন বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তির অনুমোদনের জন্য কাজ করছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন পেলে এটি দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে। এতে করে প্রযুক্তিটি আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতের দিকচিন্তা
ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে যারা গুরুতর স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে স্বাধীন জীবনের নতুন পথ। যদিও এখনো গবেষণা ও উন্নয়ন চলমান, তবুও এর সম্ভাবনা ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মস্তিষ্কের সংকেতেই চলবে প্রযুক্তি, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নতুন আশার নাম ‘সিঙ্ক্রন’

০৮:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মানুষের চিন্তাকে সরাসরি প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার স্বপ্ন এখন আর কল্পনা নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে কাজ করছে সিঙ্ক্রন নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যারা তৈরি করেছে এমন এক ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস, যা অস্ত্রোপচার ছাড়াই মস্তিষ্কের ভেতরে বসানো সম্ভব। এর মাধ্যমে পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষও শুধু চিন্তার মাধ্যমে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন।

প্রযুক্তির এই উদ্ভাবনের নাম ‘স্টেন্ট্রোড’। এটি একটি ক্ষুদ্র যন্ত্র, যা রক্তনালীর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছানো হয়, ফলে খোলা মাথার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। এই সহজ পদ্ধতি চিকিৎসকদের কাছে প্রযুক্তিটিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি
স্টেন্ট্রোড মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংকেত শনাক্ত করে এবং সেগুলোকে ডিজিটাল কমান্ডে রূপান্তর করে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা অন্যান্য ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এতে করে যাদের হাত-পা নড়াচড়া করার ক্ষমতা নেই, তাদের জন্য এটি হয়ে উঠছে এক নতুন সম্ভাবনার দরজা।

4 Things You Can Do to Help Boost Your Brain Power

সম্প্রতি এক রোগীর অভিজ্ঞতা
গত আগস্টে এই প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ দেখা যায়। এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী শুধু নিজের চিন্তার সাহায্যে একটি ট্যাবলেট ব্যবহার করতে সক্ষম হন। তিনি ওয়েব ব্রাউজিং করেছেন, এমনকি বার্তাও লিখেছেন—সবকিছুই করেছেন হাত নাড়ানো ছাড়াই। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রযুক্তিটি বাস্তবে কার্যকর এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত হতে পারে।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রযুক্তি হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জীবনযাত্রা অনেকটাই বদলে যাবে। শুধু যোগাযোগ নয়, তারা স্বাভাবিক জীবনের অনেক কাজই করতে পারবেন নিজের ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে।

অনুমোদনের পথে সিঙ্ক্রন
বর্তমানে সিঙ্ক্রন বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তির অনুমোদনের জন্য কাজ করছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন পেলে এটি দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে। এতে করে প্রযুক্তিটি আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতের দিকচিন্তা
ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে যারা গুরুতর স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে স্বাধীন জীবনের নতুন পথ। যদিও এখনো গবেষণা ও উন্নয়ন চলমান, তবুও এর সম্ভাবনা ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।