০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তিতে চীনের চিকিৎসাখাতে দুরন্ত অগ্রগতি

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
  • 334

চিন্তা করলেই যদি হাত-পা চলে, কিংবা মস্তিষ্কের সংকেতেই যদি বোঝা যায় অসুস্থতার গোড়াটা কোথায়—তবে চিকিৎসার কাজটা অনেক সহজ হয়ে আসবে। চীনে সেই কল্পনাই বাস্তব হচ্ছে ‘ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস’ বা বিসিআই প্রযুক্তির মাধ্যমে। চিকিৎসা থেকে প্রযুক্তি ও ভোক্তা খাত—সবখানেই বাড়ছে এই প্রযুক্তির ব্যবহার। বাজারে এর প্রবৃদ্ধিও বিস্ময়কর। ২০২৪ সালে এই বিসিআই প্রযুক্তির বাজার ছিল ৩২০ কোটি ইউয়ান। ২০২৭ সালের মধ্যে এ বাজার ৫৫০ কোটি ইউয়ান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চায়না সেন্টার ফর ইনফরমেশন ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট-এর গবেষণা কর্মকর্তা হুয়াং ওয়েনহোং জানালেন, ‘বিসিআই প্রযুক্তিতে নানা উদ্ভাবনী অর্জন ঘটছে। চিকিৎসা ছাড়াও শিল্প, শিক্ষা ও ভোক্তা খাতে এর ব্যবহার বাড়ছে। এই বিস্তৃত ব্যবহারই বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করবে।’

তবে এই প্রযুক্তির মূল চ্যালেঞ্জ হল মানুষের মস্তিষ্ক থেকে আসা জটিল বৈদ্যুতিক সংকেতগুলোকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে কার্যকর নির্দেশনায় রূপান্তর করা।
শানতোং প্রদেশের চিনানে একটি গবেষণাগারে দেখা গেল, পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক রোগী শুধু চিন্তা করেই চালাতে পারছেন এক্সোস্কেলেটন—যা দিয়ে তিনি হাঁটছেন, পা তুলছেন।

চংখ্য অ্যাডভান্সড টেকনোলজি কোম্পানির প্রকৌশলী ওয়াং শংচ্য জানালেন, ‘আমরা ইইজি ক্যাপ ও ইলেকট্রোড ব্যবহার করে মস্তিষ্কের বেশ সূক্ষ্ম সিগন্যাল বের করি, তারপর তা আমাদের নিজস্ব তৈরি অ্যাম্প্লিফায়ারে পাঠাই। সফটওয়্যারে সেই সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারি রোগী কী ভাবছেন, এরপর সেই অনুযায়ী চিকিৎসায় সহায়তা করি।’

ছেংতু শহরের একটি মেডিকেল গবেষণাগারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বিসিআই উন্নয়নের কাজ চলছে। উদ্দেশ্য—বিসিআই যেন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসে।

গবেষকরা জানালেন, তারা এআই ব্যবহার করে বিসিআই প্রযুক্তিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান। এ সেবাটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে এটাই তাদের লক্ষ্য।

সম্প্রতি ছেংতুর ওয়েস্ট চায়না হাসপাতালে সার্জনরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক রোগীর ব্রেইন টিউমার অপসারণ করেছেন। বিসিআইর সাহায্যে নিউরন সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে সুস্থ কোষ আর টিউমার কোষ আলাদা করতে পারি, এতে অনেক বেশি নিখুঁতভাবে টিউমার অপসারণ করা যায়।

মানবমস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটারের সরাসরি সংযোগ—এ যেন এক নতুন ভবিষ্যৎ। আর সেই ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দিচ্ছে চীনের চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন জানালা।

সিএমজি বাংলা

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তিতে চীনের চিকিৎসাখাতে দুরন্ত অগ্রগতি

১০:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫

চিন্তা করলেই যদি হাত-পা চলে, কিংবা মস্তিষ্কের সংকেতেই যদি বোঝা যায় অসুস্থতার গোড়াটা কোথায়—তবে চিকিৎসার কাজটা অনেক সহজ হয়ে আসবে। চীনে সেই কল্পনাই বাস্তব হচ্ছে ‘ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস’ বা বিসিআই প্রযুক্তির মাধ্যমে। চিকিৎসা থেকে প্রযুক্তি ও ভোক্তা খাত—সবখানেই বাড়ছে এই প্রযুক্তির ব্যবহার। বাজারে এর প্রবৃদ্ধিও বিস্ময়কর। ২০২৪ সালে এই বিসিআই প্রযুক্তির বাজার ছিল ৩২০ কোটি ইউয়ান। ২০২৭ সালের মধ্যে এ বাজার ৫৫০ কোটি ইউয়ান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চায়না সেন্টার ফর ইনফরমেশন ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট-এর গবেষণা কর্মকর্তা হুয়াং ওয়েনহোং জানালেন, ‘বিসিআই প্রযুক্তিতে নানা উদ্ভাবনী অর্জন ঘটছে। চিকিৎসা ছাড়াও শিল্প, শিক্ষা ও ভোক্তা খাতে এর ব্যবহার বাড়ছে। এই বিস্তৃত ব্যবহারই বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করবে।’

তবে এই প্রযুক্তির মূল চ্যালেঞ্জ হল মানুষের মস্তিষ্ক থেকে আসা জটিল বৈদ্যুতিক সংকেতগুলোকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে কার্যকর নির্দেশনায় রূপান্তর করা।
শানতোং প্রদেশের চিনানে একটি গবেষণাগারে দেখা গেল, পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক রোগী শুধু চিন্তা করেই চালাতে পারছেন এক্সোস্কেলেটন—যা দিয়ে তিনি হাঁটছেন, পা তুলছেন।

চংখ্য অ্যাডভান্সড টেকনোলজি কোম্পানির প্রকৌশলী ওয়াং শংচ্য জানালেন, ‘আমরা ইইজি ক্যাপ ও ইলেকট্রোড ব্যবহার করে মস্তিষ্কের বেশ সূক্ষ্ম সিগন্যাল বের করি, তারপর তা আমাদের নিজস্ব তৈরি অ্যাম্প্লিফায়ারে পাঠাই। সফটওয়্যারে সেই সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারি রোগী কী ভাবছেন, এরপর সেই অনুযায়ী চিকিৎসায় সহায়তা করি।’

ছেংতু শহরের একটি মেডিকেল গবেষণাগারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বিসিআই উন্নয়নের কাজ চলছে। উদ্দেশ্য—বিসিআই যেন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসে।

গবেষকরা জানালেন, তারা এআই ব্যবহার করে বিসিআই প্রযুক্তিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান। এ সেবাটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে এটাই তাদের লক্ষ্য।

সম্প্রতি ছেংতুর ওয়েস্ট চায়না হাসপাতালে সার্জনরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক রোগীর ব্রেইন টিউমার অপসারণ করেছেন। বিসিআইর সাহায্যে নিউরন সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে সুস্থ কোষ আর টিউমার কোষ আলাদা করতে পারি, এতে অনেক বেশি নিখুঁতভাবে টিউমার অপসারণ করা যায়।

মানবমস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটারের সরাসরি সংযোগ—এ যেন এক নতুন ভবিষ্যৎ। আর সেই ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দিচ্ছে চীনের চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন জানালা।

সিএমজি বাংলা