০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মানসিক যন্ত্রণার অবসান চান কানাডার নারী, ‘নিরাপদ মৃত্যু’ নিয়ে নতুন বিতর্ক

দীর্ঘ তিন দশক ধরে মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন কানাডার টরন্টোর বাসিন্দা ক্লেয়ার ব্রোসো। চিকিৎসা, থেরাপি, ওষুধ থেকে শুরু করে মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক শক—সব ধরনের চিকিৎসাই নিয়েছেন তিনি। কিন্তু কোনো কিছুতেই স্থায়ী উন্নতি হয়নি। এখন ৪৯ বছর বয়সী এই নারী চিকিৎসকদের সহায়তায় মৃত্যুর অনুমতি চাইছেন, যা কানাডাজুড়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে।

ক্লেয়ার জানিয়েছেন, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই তিনি ভয়, উদ্বেগ ও অসহ্য মানসিক চাপ অনুভব করেন। তার ভাষায়, তিনি আর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। কাজ করা, ঘর থেকে বের হওয়া কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলাও তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর হতাশা

ক্লেয়ার ব্রোসো ছোটবেলা থেকেই বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। গত ৩০ বছরে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে তিনি মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের অধীনে চিকিৎসা নিয়েছেন। আচরণগত থেরাপি, ওষুধ, বিশেষ মানসিক চিকিৎসা—সবকিছু চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি।

স্ট্রেস: অর্থ, লক্ষণ, চিকিৎসা এবং জটিলতা

বর্তমানে তিনি এমন একটি বিশেষ মনোরোগ চিকিৎসা কর্মসূচির অধীনে আছেন, যেখানে গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতায় ভোগা রোগীদের সহায়তা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে সাধারণত সেইসব মানুষকে রাখা হয়, যাদের জন্য আর কোনো কার্যকর চিকিৎসা বাকি নেই।

ক্লেয়ার মনে করেন, তার জীবনের সব সম্ভাবনাই শেষ হয়ে গেছে। তাই তিনি এখন ‘নিরাপদ মৃত্যু’ চান, যাতে তাকে ভয়ংকর বা সহিংস কোনো পথ বেছে নিতে না হয়।

কানাডায় বিতর্কিত আইন

কানাডায় চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর অনুমতি বা ‘মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডাইং’ আইনগতভাবে বৈধ। তবে বর্তমানে কেবল মানসিক অসুস্থতাকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখিয়ে এই সুবিধা নেওয়ার অনুমতি নেই।

কানাডার আদালতে হিজাব পড়তে পারবেন নারীরা

কানাডা সরকার আগে পরিকল্পনা করেছিল, গুরুতর ও চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া মানসিক রোগীদের জন্যও এই আইন সম্প্রসারণ করা হবে। কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রস্তুত নয়—এমন উদ্বেগের কারণে সেই সিদ্ধান্ত দুইবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিষয়টি আগামী বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

এখন দেশটির সরকার ভাবছে, আদৌ এই সম্প্রসারণ কার্যকর করা হবে কি না।

আদালতের দ্বারস্থ ক্লেয়ার

অপেক্ষা করার মতো সময় আর নেই বলে মনে করছেন ক্লেয়ার। তার দাবি, প্রতিদিন তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। তাই তিনি অন্টারিও আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, যেন তাকে বর্তমান আইনের বাইরে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়।

এই ঘটনা কানাডায় মানসিক স্বাস্থ্য, মানবাধিকার এবং চিকিৎসা নীতিশাস্ত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। কেউ বলছেন, অসহনীয় যন্ত্রণায় থাকা মানুষের নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। আবার অনেকে মনে করছেন, মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে এমন অনুমতি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

মানসিক রোগীদের জন্য সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্ন এখন কানাডার সমাজ ও রাজনীতিতে বড় বিতর্ক হয়ে উঠেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মানসিক যন্ত্রণার অবসান চান কানাডার নারী, ‘নিরাপদ মৃত্যু’ নিয়ে নতুন বিতর্ক

১২:২৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

দীর্ঘ তিন দশক ধরে মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন কানাডার টরন্টোর বাসিন্দা ক্লেয়ার ব্রোসো। চিকিৎসা, থেরাপি, ওষুধ থেকে শুরু করে মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক শক—সব ধরনের চিকিৎসাই নিয়েছেন তিনি। কিন্তু কোনো কিছুতেই স্থায়ী উন্নতি হয়নি। এখন ৪৯ বছর বয়সী এই নারী চিকিৎসকদের সহায়তায় মৃত্যুর অনুমতি চাইছেন, যা কানাডাজুড়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে।

ক্লেয়ার জানিয়েছেন, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই তিনি ভয়, উদ্বেগ ও অসহ্য মানসিক চাপ অনুভব করেন। তার ভাষায়, তিনি আর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। কাজ করা, ঘর থেকে বের হওয়া কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলাও তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর হতাশা

ক্লেয়ার ব্রোসো ছোটবেলা থেকেই বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। গত ৩০ বছরে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে তিনি মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের অধীনে চিকিৎসা নিয়েছেন। আচরণগত থেরাপি, ওষুধ, বিশেষ মানসিক চিকিৎসা—সবকিছু চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি।

স্ট্রেস: অর্থ, লক্ষণ, চিকিৎসা এবং জটিলতা

বর্তমানে তিনি এমন একটি বিশেষ মনোরোগ চিকিৎসা কর্মসূচির অধীনে আছেন, যেখানে গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতায় ভোগা রোগীদের সহায়তা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে সাধারণত সেইসব মানুষকে রাখা হয়, যাদের জন্য আর কোনো কার্যকর চিকিৎসা বাকি নেই।

ক্লেয়ার মনে করেন, তার জীবনের সব সম্ভাবনাই শেষ হয়ে গেছে। তাই তিনি এখন ‘নিরাপদ মৃত্যু’ চান, যাতে তাকে ভয়ংকর বা সহিংস কোনো পথ বেছে নিতে না হয়।

কানাডায় বিতর্কিত আইন

কানাডায় চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর অনুমতি বা ‘মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডাইং’ আইনগতভাবে বৈধ। তবে বর্তমানে কেবল মানসিক অসুস্থতাকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখিয়ে এই সুবিধা নেওয়ার অনুমতি নেই।

কানাডার আদালতে হিজাব পড়তে পারবেন নারীরা

কানাডা সরকার আগে পরিকল্পনা করেছিল, গুরুতর ও চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া মানসিক রোগীদের জন্যও এই আইন সম্প্রসারণ করা হবে। কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রস্তুত নয়—এমন উদ্বেগের কারণে সেই সিদ্ধান্ত দুইবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিষয়টি আগামী বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

এখন দেশটির সরকার ভাবছে, আদৌ এই সম্প্রসারণ কার্যকর করা হবে কি না।

আদালতের দ্বারস্থ ক্লেয়ার

অপেক্ষা করার মতো সময় আর নেই বলে মনে করছেন ক্লেয়ার। তার দাবি, প্রতিদিন তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। তাই তিনি অন্টারিও আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, যেন তাকে বর্তমান আইনের বাইরে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়।

এই ঘটনা কানাডায় মানসিক স্বাস্থ্য, মানবাধিকার এবং চিকিৎসা নীতিশাস্ত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। কেউ বলছেন, অসহনীয় যন্ত্রণায় থাকা মানুষের নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। আবার অনেকে মনে করছেন, মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে এমন অনুমতি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

মানসিক রোগীদের জন্য সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্ন এখন কানাডার সমাজ ও রাজনীতিতে বড় বিতর্ক হয়ে উঠেছে।