১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৬:৩৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪
  • 133

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

এই সংগ্রামের মধ্যে জনসাধারণের অংশগ্রহণ খুব আন্তরিক হওয়ার জন্য ১৮৪৭ সালে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই (কাসট ওয়ার নামে বিখ্যাত) শুরু হয়েছিল।এবং স্পেনের গ্রামগুলিকে আক্রমণ করে প্রায় ৯০ ভাগ অধিকৃত জমি উদ্ধার করেছিল।এবং ইউকাতান অঞ্চলটিও এই উদ্ধার এলাকার মধ্যে পড়ে।তবে কাম্পেচে এবং ‘মেরিদা’ অঞ্চল দুটি পুনরুদ্ধার করা তখন সম্ভব হয়নি।

মায়ারা এই স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভ করার পর নিজেদের দক্ষতায় কাজ চাষবাস শুরু করে। বিশেষত মাঠে শস্য ফলানোর কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ কার্যত ১৮৪৮ সালে শেষ হয় এবং মায়াদের চান সানতাক্রুজ (Chun Santacruz)-এ বিতাড়িত করা হয়।এখানেও মায়ারা অনেকদিন লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু নানারকম রোগ এবং অস্ত্রের অভাবের জন্য তারা ১৯০৪ সালে বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর মায়াদের রাজনৈতিক প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রীয় হয়ে যায়।

কিন্তু উপদ্বীপের দক্ষিণ এবং পূর্বদিক কার্যত খালি পড়েছিল এবং এই এলাকায় মায়ারা নিজেদের মনোমত তথা স্বাধীনভাবে বাঁচতে সফল হয়েছিল। মায়া এবং স্পেনীয় আক্রমণ ১৯৬০ সালে পালটে যায়।কেননা এই সময়েই উপসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।ফাদার আলোনসো গনজালেস-এর তৎকালীন সমুদ্রযাত্রা তাকে বিখ্যাত করে দিয়েছিল।এই সময়ে তিনি একটি মন্দির-এর সন্ধান পান।সেখানে মন্দিরটির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মত। এখান থেকে আলোনসো কয়েকটি পবিত্র দেবতার মূর্তি এবং সোনার গয়না নিয়ে আসেন। এরপর ১৫১৮ সালে জুয়ান দে গ্রিজালভা কোজুমেল পদার্পণ করেন এবং স্পেনের আধিপত্য গড়ে তোলেন।

স্পেনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবার পরেও মায়াদের সঙ্গে স্পেন একনায়ক-এর লড়াই থামেনি। ১৫২১ সালের পর ফ্রানসিসকো দে মনতেযোর ১৫২১ সালে মেক্সিকো জয়-এর পর ইউকাতানবাসীর প্রবল বাধা স্পেনীয় একনায়ক ও শাসকবর্গকে বিপন্ন করে তুলেছিল।ইউকাতানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্প্যানিশদের কার্যত সরে যেতে হচ্ছিল কিন্তু সাম্রাজ্য হারাতে হয়নি। ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রানসিসকো কাম্পেচেতে প্রথম স্প্যানিশ কর্তৃত্ব গড়ে তোলেন এবং তখন থেকেই স্পেনের রাজতন্ত্র এই মায়া অঞ্চল সম্পর্কে উৎসাহী হয়ে ওঠে।

১৫৩৪ সাল নাগাদ ফাদার জাকোবো দে তেসতেরা সহ আরো চারজন কম্যান্ডারকে কাম্পেচের কাছে স্প্যানিশ ঘাঁটিতে পাঠানো হয়।এরপর ১৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে আরো পাঁচজন কমিশনার কাম্পেচেতে আসেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার পান। যুদ্ধ চলা সত্ত্বেও তারা প্রায় দু’বছর এই অঞ্চলে থাকেন। ১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে আরো অনেক মিশনারী এবং প্রশাসককে স্পেন থকে পাঠানো হয়।এই নতুন প্রশাসক পাঠাবার পেছনে নেতৃত্ব দিয়েছিল ফাদার লুইস দে ভিল্লালপান্দো (Luis De Villalpando)।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩২)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩২)

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৩)

০৬:৩৩:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

এই সংগ্রামের মধ্যে জনসাধারণের অংশগ্রহণ খুব আন্তরিক হওয়ার জন্য ১৮৪৭ সালে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই (কাসট ওয়ার নামে বিখ্যাত) শুরু হয়েছিল।এবং স্পেনের গ্রামগুলিকে আক্রমণ করে প্রায় ৯০ ভাগ অধিকৃত জমি উদ্ধার করেছিল।এবং ইউকাতান অঞ্চলটিও এই উদ্ধার এলাকার মধ্যে পড়ে।তবে কাম্পেচে এবং ‘মেরিদা’ অঞ্চল দুটি পুনরুদ্ধার করা তখন সম্ভব হয়নি।

মায়ারা এই স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভ করার পর নিজেদের দক্ষতায় কাজ চাষবাস শুরু করে। বিশেষত মাঠে শস্য ফলানোর কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ কার্যত ১৮৪৮ সালে শেষ হয় এবং মায়াদের চান সানতাক্রুজ (Chun Santacruz)-এ বিতাড়িত করা হয়।এখানেও মায়ারা অনেকদিন লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু নানারকম রোগ এবং অস্ত্রের অভাবের জন্য তারা ১৯০৪ সালে বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর মায়াদের রাজনৈতিক প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রীয় হয়ে যায়।

কিন্তু উপদ্বীপের দক্ষিণ এবং পূর্বদিক কার্যত খালি পড়েছিল এবং এই এলাকায় মায়ারা নিজেদের মনোমত তথা স্বাধীনভাবে বাঁচতে সফল হয়েছিল। মায়া এবং স্পেনীয় আক্রমণ ১৯৬০ সালে পালটে যায়।কেননা এই সময়েই উপসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।ফাদার আলোনসো গনজালেস-এর তৎকালীন সমুদ্রযাত্রা তাকে বিখ্যাত করে দিয়েছিল।এই সময়ে তিনি একটি মন্দির-এর সন্ধান পান।সেখানে মন্দিরটির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মত। এখান থেকে আলোনসো কয়েকটি পবিত্র দেবতার মূর্তি এবং সোনার গয়না নিয়ে আসেন। এরপর ১৫১৮ সালে জুয়ান দে গ্রিজালভা কোজুমেল পদার্পণ করেন এবং স্পেনের আধিপত্য গড়ে তোলেন।

স্পেনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবার পরেও মায়াদের সঙ্গে স্পেন একনায়ক-এর লড়াই থামেনি। ১৫২১ সালের পর ফ্রানসিসকো দে মনতেযোর ১৫২১ সালে মেক্সিকো জয়-এর পর ইউকাতানবাসীর প্রবল বাধা স্পেনীয় একনায়ক ও শাসকবর্গকে বিপন্ন করে তুলেছিল।ইউকাতানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্প্যানিশদের কার্যত সরে যেতে হচ্ছিল কিন্তু সাম্রাজ্য হারাতে হয়নি। ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রানসিসকো কাম্পেচেতে প্রথম স্প্যানিশ কর্তৃত্ব গড়ে তোলেন এবং তখন থেকেই স্পেনের রাজতন্ত্র এই মায়া অঞ্চল সম্পর্কে উৎসাহী হয়ে ওঠে।

১৫৩৪ সাল নাগাদ ফাদার জাকোবো দে তেসতেরা সহ আরো চারজন কম্যান্ডারকে কাম্পেচের কাছে স্প্যানিশ ঘাঁটিতে পাঠানো হয়।এরপর ১৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে আরো পাঁচজন কমিশনার কাম্পেচেতে আসেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার পান। যুদ্ধ চলা সত্ত্বেও তারা প্রায় দু’বছর এই অঞ্চলে থাকেন। ১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে আরো অনেক মিশনারী এবং প্রশাসককে স্পেন থকে পাঠানো হয়।এই নতুন প্রশাসক পাঠাবার পেছনে নেতৃত্ব দিয়েছিল ফাদার লুইস দে ভিল্লালপান্দো (Luis De Villalpando)।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩২)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩২)