০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মালয়েশিয়ায় থাইপুসাম উৎসবের রঙিন উচ্ছ্বাস, বাটু গুহায় লাখো ভক্তের সমাগম

কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে ঐতিহাসিক বাটু গুহা প্রাঙ্গণ রবিবার রঙ, শব্দ আর ভক্তির ঢেউয়ে ভরে ওঠে। থাইপুসাম উৎসব ঘিরে লাখো হিন্দু ভক্তের উপস্থিতিতে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নানা রঙের সাজ, ঢাকঢোলের তালে তালে ধর্মীয় জপ আর লোকগানের ধ্বনিতে আলোকিত হয়ে ওঠে এই ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান।

বহুসাংস্কৃতিক মালয়েশিয়ায় থাইপুসামের গুরুত্ব

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সেই বহুত্ববাদী সমাজে থাইপুসাম আলাদা মর্যাদায় পালিত হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনেই দেবী পার্বতী তাঁর পুত্র দেবতা মুরুগনকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ঐশ্বরিক বর্শা প্রদান করেছিলেন। সেই স্মরণে দুধের পাত্র নিবেদন থেকে শুরু করে নানা ত্যাগ ও ব্রতের মাধ্যমে ভক্তরা পালন করেন উৎসব।

বাটু গুহা ঘিরে শতাব্দীপ্রাচীন আয়োজন

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাইপুসামের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাটু গুহা। এখানে থাকা বিশাল দেবতা মুরুগনের মূর্তি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বলে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুরো উৎসবজুড়ে প্রায় পঁচিশ লক্ষ দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশিত। মন্দিরে পৌঁছাতে রঙিন সাজে সজ্জিত দুই শত বাহাত্তরটি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি।

Image

কাভাদি আর ত্যাগের দৃশ্য

অনেক ভক্ত খালি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন দুধের পাত্র বা ভারী কাভাদি বহন করে। ধাতব কাঠামোর এই কাভাদিতে তীক্ষ্ণ শলাকা শরীরে প্রবেশ করিয়ে বহন করেন কেউ কেউ, যা ওজনে একশ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকের তালে তালে শরীর দোলাতে দোলাতে এগিয়ে চলেন তাঁরা, চারপাশে ভেসে আসে ধর্মীয় স্লোগান আর ভক্তিগীতি। ত্যাগ আর ভক্তির এই দৃশ্য থাইপুসামকে করে তোলে আরও গভীর ও আবেগময়।

এশিয়াজুড়ে থাইপুসামের বিস্তার

শুধু মালয়েশিয়াই নয়, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় তামিল হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে থাইপুসাম পালিত হয়। তবে বাটু গুহার এই আয়োজন তার ব্যাপ্তি, রং আর মানুষের অংশগ্রহণের জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মালয়েশিয়ায় থাইপুসাম উৎসবের রঙিন উচ্ছ্বাস, বাটু গুহায় লাখো ভক্তের সমাগম

০৯:২৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে ঐতিহাসিক বাটু গুহা প্রাঙ্গণ রবিবার রঙ, শব্দ আর ভক্তির ঢেউয়ে ভরে ওঠে। থাইপুসাম উৎসব ঘিরে লাখো হিন্দু ভক্তের উপস্থিতিতে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নানা রঙের সাজ, ঢাকঢোলের তালে তালে ধর্মীয় জপ আর লোকগানের ধ্বনিতে আলোকিত হয়ে ওঠে এই ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান।

বহুসাংস্কৃতিক মালয়েশিয়ায় থাইপুসামের গুরুত্ব

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সেই বহুত্ববাদী সমাজে থাইপুসাম আলাদা মর্যাদায় পালিত হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনেই দেবী পার্বতী তাঁর পুত্র দেবতা মুরুগনকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ঐশ্বরিক বর্শা প্রদান করেছিলেন। সেই স্মরণে দুধের পাত্র নিবেদন থেকে শুরু করে নানা ত্যাগ ও ব্রতের মাধ্যমে ভক্তরা পালন করেন উৎসব।

বাটু গুহা ঘিরে শতাব্দীপ্রাচীন আয়োজন

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাইপুসামের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাটু গুহা। এখানে থাকা বিশাল দেবতা মুরুগনের মূর্তি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বলে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুরো উৎসবজুড়ে প্রায় পঁচিশ লক্ষ দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশিত। মন্দিরে পৌঁছাতে রঙিন সাজে সজ্জিত দুই শত বাহাত্তরটি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি।

Image

কাভাদি আর ত্যাগের দৃশ্য

অনেক ভক্ত খালি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন দুধের পাত্র বা ভারী কাভাদি বহন করে। ধাতব কাঠামোর এই কাভাদিতে তীক্ষ্ণ শলাকা শরীরে প্রবেশ করিয়ে বহন করেন কেউ কেউ, যা ওজনে একশ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকের তালে তালে শরীর দোলাতে দোলাতে এগিয়ে চলেন তাঁরা, চারপাশে ভেসে আসে ধর্মীয় স্লোগান আর ভক্তিগীতি। ত্যাগ আর ভক্তির এই দৃশ্য থাইপুসামকে করে তোলে আরও গভীর ও আবেগময়।

এশিয়াজুড়ে থাইপুসামের বিস্তার

শুধু মালয়েশিয়াই নয়, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় তামিল হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে থাইপুসাম পালিত হয়। তবে বাটু গুহার এই আয়োজন তার ব্যাপ্তি, রং আর মানুষের অংশগ্রহণের জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।