১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে চমক, দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

মালয়েশিয়ার অর্থনীতি চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালীভাবে এগিয়েছে। এ সময় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৬ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকের ৫ দশমিক ৪ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। অর্থনীতির এই গতি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, ভোক্তাদের ব্যয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ অর্থনীতির এই অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ভোক্তা ব্যয়ে জোরালো গতি

দ্বিতীয় প্রান্তিকে মালয়েশিয়ার বেসরকারি ভোগব্যয় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। রেস্তোরাঁ ও হোটেল, পরিবহন এবং খাদ্যপণ্যে মানুষের ব্যয় বৃদ্ধি এই প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করেছে। উৎসব, মাঝবর্ষের স্কুল ছুটি এবং পর্যটন কার্যক্রমও ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে সহায়তা করেছে।চাকরির বাজারে স্থিতিশীলতা এবং মানুষের আয় ধরে রাখার সক্ষমতাও অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে শক্তিশালী করেছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি বিনিয়োগে গতি

Malaysia Q2 GDP growth accelerates to 6.0% - Nikkei Asia

মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তথ্যকেন্দ্র, অর্ধপরিবাহী ও তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ ও রপ্তানি খাতেও পড়ছে।

বেসরকারি ও সরকারি—উভয় ধরনের বিনিয়োগই দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের অব্যাহত বিনিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ অর্থনীতির গতি বাড়িয়েছে।

রপ্তানিতেও শক্তিশালী অবস্থান

মালয়েশিয়ার বহির্মুখী বাণিজ্যও প্রবৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জুন মাসে দেশটির রপ্তানি এক বছরের আগের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা ২০২২ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে দেশটি ১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করে।

বিশেষ করে অর্ধপরিবাহী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা মালয়েশিয়ার রপ্তানি খাতকে সহায়তা করছে।

Malaysia's economy grows 6pct in Q2, beats advance estimate

প্রবৃদ্ধির সামনে ঝুঁকিও আছে

তবে অর্থনীতির এই শক্তিশালী গতি ধরে রাখা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। বৈশ্বিক বাণিজ্য, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, শুল্কনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সতর্ক করেছে যে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ও বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে।

তারপরও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মালয়েশিয়ার অর্থনীতির দৃঢ়তা সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ভোগ, প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও রপ্তানি—এই তিন শক্তির সমন্বয় দেশটির চলতি বছরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে চমক, দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

১১:৪৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ার অর্থনীতি চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালীভাবে এগিয়েছে। এ সময় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৬ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকের ৫ দশমিক ৪ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। অর্থনীতির এই গতি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, ভোক্তাদের ব্যয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ অর্থনীতির এই অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ভোক্তা ব্যয়ে জোরালো গতি

দ্বিতীয় প্রান্তিকে মালয়েশিয়ার বেসরকারি ভোগব্যয় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। রেস্তোরাঁ ও হোটেল, পরিবহন এবং খাদ্যপণ্যে মানুষের ব্যয় বৃদ্ধি এই প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করেছে। উৎসব, মাঝবর্ষের স্কুল ছুটি এবং পর্যটন কার্যক্রমও ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে সহায়তা করেছে।চাকরির বাজারে স্থিতিশীলতা এবং মানুষের আয় ধরে রাখার সক্ষমতাও অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে শক্তিশালী করেছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি বিনিয়োগে গতি

Malaysia Q2 GDP growth accelerates to 6.0% - Nikkei Asia

মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তথ্যকেন্দ্র, অর্ধপরিবাহী ও তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ ও রপ্তানি খাতেও পড়ছে।

বেসরকারি ও সরকারি—উভয় ধরনের বিনিয়োগই দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের অব্যাহত বিনিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ অর্থনীতির গতি বাড়িয়েছে।

রপ্তানিতেও শক্তিশালী অবস্থান

মালয়েশিয়ার বহির্মুখী বাণিজ্যও প্রবৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জুন মাসে দেশটির রপ্তানি এক বছরের আগের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা ২০২২ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে দেশটি ১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করে।

বিশেষ করে অর্ধপরিবাহী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা মালয়েশিয়ার রপ্তানি খাতকে সহায়তা করছে।

Malaysia's economy grows 6pct in Q2, beats advance estimate

প্রবৃদ্ধির সামনে ঝুঁকিও আছে

তবে অর্থনীতির এই শক্তিশালী গতি ধরে রাখা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। বৈশ্বিক বাণিজ্য, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, শুল্কনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সতর্ক করেছে যে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ও বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে।

তারপরও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মালয়েশিয়ার অর্থনীতির দৃঢ়তা সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ভোগ, প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও রপ্তানি—এই তিন শক্তির সমন্বয় দেশটির চলতি বছরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।