১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মালয়েশিয়ার উকায় পেরদানায় ‘বাঘের গর্জন’ রহস্য—বন্যপ্রাণি বিভাগ বলছে শূকর ও কুকুরের পদচিহ্ন

বাঘের উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ, জোরদার নজরদারি

মালয়েশিয়ার উকায় পেরদানা এলাকায় কথিত বাঘের গর্জন নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনার পর বন্যপ্রাণি ও জাতীয় উদ্যান বিভাগ (Perhilitan) টানা অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে সেখানে বাঘ ঘোরাফেরা করছে। অনুসন্ধানের পঞ্চম দিনে গত রবিবার আরও দুটি নতুন ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো হয়, ফলে এখন মোট পাঁচটি সক্রিয় ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চলছে।

বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক আবদুল কাদির আবু হাশিম জানান, এই ক্যামেরাগুলো পাংসাপুরি শ্রী বৈদুরি অ্যাপার্টমেন্টের আশপাশ এবং নিকটবর্তী বনাঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় বন্যপ্রাণির গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যায়।


স্থানীয়দের অভিযোগে আতঙ্ক, বাঘের মতো গর্জনের শব্দ

গত সপ্তাহে শ্রী বৈদুরি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, তারা তাদের বাড়ির পেছনের বনাঞ্চল থেকে বাঘের মতো গর্জনের শব্দ শুনেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে Perhilitan দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং হুলু লাংগাত জেলা অফিস ও মালয়ান টাইগার কনজারভেশন ইউনিট সেলাঙ্গর থেকে বিশেষ টিম পাঠিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।


প্রাথমিকভাবে তিনটি ক্যামেরা ট্র্যাপ বসিয়ে বন্যপ্রাণির উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু হয়।


তদন্তে বাঘ নয়, মিলল শূকর ও কুকুরের চিহ্ন

Perhilitan কর্তৃপক্ষের তদন্তে এখন পর্যন্ত বাঘের কোনো উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। দাতুক আবদুল কাদির জানান, ৯ অক্টোবর থেকে মাঠে কাজ করছে টহলদল। তারা গাছের দাগ, পায়ের ছাপ এবং ড্রোনের ফুটেজ পরীক্ষা করেছে, কিন্তু কোনো জায়গায় বাঘের অস্তিত্বের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “যে পদচিহ্ন ও আঁচড় পাওয়া গেছে, তা বন্য শূকর ও পথকুকুরের বলে মনে হচ্ছে। গাছে আঁচড় থাকলেও বাঘের মলমূত্র বা পায়ের ছাপের মতো প্রমাণ মেলেনি।”


এলাকা বাঘের মূল বিচরণক্ষেত্র নয়

বন্যপ্রাণি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উকায় পেরদানা মালয়ান বাঘের প্রধান আবাসভূমির মধ্যে পড়ে না। তবে এই অঞ্চল পার্শ্ববর্তী বন করিডরগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত, বিশেষ করে হুলু লাংগাত ও আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সঙ্গে, যা বন্যপ্রাণির চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে বলে বিভাগ জানিয়েছে।


ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ চলবে পুরো মাসজুড়ে

Perhilitan জানায়, এই মাসজুড়ে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে আরও নতুন যন্ত্রপাতি বসানো হবে। দাতুক আবদুল কাদির স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “কেউ যেন অযথা বনাঞ্চলে প্রবেশ না করেন। কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা প্রাণীর গতিবিধি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বিভাগকে জানাতে হবে।”


উকায় পেরদানায় এই ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নগরায়নের মধ্যে সংঘাতের বিষয়টি। যদিও ‘বাঘের গর্জন’-এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু আতঙ্ক প্রশমনে এবং বাস্তবতা যাচাইয়ে Perhilitan টানা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।


#মালয়েশিয়া,# বন্যপ্রাণি, #বাঘ অনুসন্ধান, #Perhilitan, #উকায় পেরদানা, #শ্রী বৈদুরি, #ক্যামেরা ট্র্যাপ, #বন্য শূকর, #কুকুর, #সংরক্ষণ

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মালয়েশিয়ার উকায় পেরদানায় ‘বাঘের গর্জন’ রহস্য—বন্যপ্রাণি বিভাগ বলছে শূকর ও কুকুরের পদচিহ্ন

১২:৪০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

বাঘের উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ, জোরদার নজরদারি

মালয়েশিয়ার উকায় পেরদানা এলাকায় কথিত বাঘের গর্জন নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনার পর বন্যপ্রাণি ও জাতীয় উদ্যান বিভাগ (Perhilitan) টানা অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে সেখানে বাঘ ঘোরাফেরা করছে। অনুসন্ধানের পঞ্চম দিনে গত রবিবার আরও দুটি নতুন ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো হয়, ফলে এখন মোট পাঁচটি সক্রিয় ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চলছে।

বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক আবদুল কাদির আবু হাশিম জানান, এই ক্যামেরাগুলো পাংসাপুরি শ্রী বৈদুরি অ্যাপার্টমেন্টের আশপাশ এবং নিকটবর্তী বনাঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় বন্যপ্রাণির গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যায়।


স্থানীয়দের অভিযোগে আতঙ্ক, বাঘের মতো গর্জনের শব্দ

গত সপ্তাহে শ্রী বৈদুরি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, তারা তাদের বাড়ির পেছনের বনাঞ্চল থেকে বাঘের মতো গর্জনের শব্দ শুনেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে Perhilitan দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং হুলু লাংগাত জেলা অফিস ও মালয়ান টাইগার কনজারভেশন ইউনিট সেলাঙ্গর থেকে বিশেষ টিম পাঠিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।


প্রাথমিকভাবে তিনটি ক্যামেরা ট্র্যাপ বসিয়ে বন্যপ্রাণির উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু হয়।


তদন্তে বাঘ নয়, মিলল শূকর ও কুকুরের চিহ্ন

Perhilitan কর্তৃপক্ষের তদন্তে এখন পর্যন্ত বাঘের কোনো উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। দাতুক আবদুল কাদির জানান, ৯ অক্টোবর থেকে মাঠে কাজ করছে টহলদল। তারা গাছের দাগ, পায়ের ছাপ এবং ড্রোনের ফুটেজ পরীক্ষা করেছে, কিন্তু কোনো জায়গায় বাঘের অস্তিত্বের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “যে পদচিহ্ন ও আঁচড় পাওয়া গেছে, তা বন্য শূকর ও পথকুকুরের বলে মনে হচ্ছে। গাছে আঁচড় থাকলেও বাঘের মলমূত্র বা পায়ের ছাপের মতো প্রমাণ মেলেনি।”


এলাকা বাঘের মূল বিচরণক্ষেত্র নয়

বন্যপ্রাণি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উকায় পেরদানা মালয়ান বাঘের প্রধান আবাসভূমির মধ্যে পড়ে না। তবে এই অঞ্চল পার্শ্ববর্তী বন করিডরগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত, বিশেষ করে হুলু লাংগাত ও আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সঙ্গে, যা বন্যপ্রাণির চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে বলে বিভাগ জানিয়েছে।


ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ চলবে পুরো মাসজুড়ে

Perhilitan জানায়, এই মাসজুড়ে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে আরও নতুন যন্ত্রপাতি বসানো হবে। দাতুক আবদুল কাদির স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “কেউ যেন অযথা বনাঞ্চলে প্রবেশ না করেন। কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা প্রাণীর গতিবিধি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বিভাগকে জানাতে হবে।”


উকায় পেরদানায় এই ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নগরায়নের মধ্যে সংঘাতের বিষয়টি। যদিও ‘বাঘের গর্জন’-এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু আতঙ্ক প্রশমনে এবং বাস্তবতা যাচাইয়ে Perhilitan টানা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।


#মালয়েশিয়া,# বন্যপ্রাণি, #বাঘ অনুসন্ধান, #Perhilitan, #উকায় পেরদানা, #শ্রী বৈদুরি, #ক্যামেরা ট্র্যাপ, #বন্য শূকর, #কুকুর, #সংরক্ষণ