০৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, তীব্র ক্ষোভে উত্তাল শহর

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রয়োগকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত নারী রেনে নিকোল গুড, বয়স সাঁইত্রিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরার সময় খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ ও রক্তাক্ত এক দৃশ্য।

ঘটনার বিবরণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিনিয়াপোলিসের দক্ষিণ অংশে অভিবাসন বিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা এক কর্মকর্তা গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই আরেকজন কর্মকর্তা পরপর তিনটি গুলি ছোড়েন একটি হোন্ডা এসইউভির ভেতরে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনে ধাক্কা দেয়। পথচারীদের চিৎকার ও ক্ষোভের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় গুডকে গাড়ির ভেতরে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সরকারি বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরপরই ফেডারেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিহত নারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁর আচরণকে গার্হস্থ্য সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই বক্তব্য ভিত্তিহীন। তিনি অভিবাসন বাহিনীকে শহর ছাড়ার আহ্বান জানান। মিনেসোটার গভর্নরও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়াকে প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ, দ্রুত ও ন্যায্য তদন্তের অঙ্গীকার করেন।

রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ
গুলির ঘটনার পর হাজারো মানুষ তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিবাসন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ফেডারেল ভবনের সামনেও নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঠে নামানো হচ্ছে, যার ফলেই এমন প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তাঁরা তিনটি গুলির শব্দ শুনেছেন এবং পরে আহত অবস্থায় দেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার দৃশ্য দেখেছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গাড়ির ভেতর থেকে বের হওয়া আরেক যাত্রী রক্তে ভেজা অবস্থায় ছিলেন। একজন চিকিৎসক নিজেকে পরিচয় দিয়ে আহত নারীর কাছে যেতে চাইলে কর্মকর্তারা তাঁকে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক বক্তব্য
রেনে নিকোল গুড ছিলেন একজন মা ও কবি। তিনি চলচ্চিত্র ভালোবাসতেন এবং সৃজনশীল লেখালেখি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর মা জানান, তাঁর মেয়ে সম্ভবত ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং কোনোভাবেই কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

নীতিগত প্রেক্ষাপট
বর্তমান প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন রোধ ও অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বহিষ্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে অভিবাসন বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে প্রশিক্ষণের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, তীব্র ক্ষোভে উত্তাল শহর

১২:৩০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রয়োগকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত নারী রেনে নিকোল গুড, বয়স সাঁইত্রিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরার সময় খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ ও রক্তাক্ত এক দৃশ্য।

ঘটনার বিবরণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিনিয়াপোলিসের দক্ষিণ অংশে অভিবাসন বিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা এক কর্মকর্তা গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই আরেকজন কর্মকর্তা পরপর তিনটি গুলি ছোড়েন একটি হোন্ডা এসইউভির ভেতরে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনে ধাক্কা দেয়। পথচারীদের চিৎকার ও ক্ষোভের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় গুডকে গাড়ির ভেতরে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সরকারি বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরপরই ফেডারেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিহত নারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁর আচরণকে গার্হস্থ্য সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই বক্তব্য ভিত্তিহীন। তিনি অভিবাসন বাহিনীকে শহর ছাড়ার আহ্বান জানান। মিনেসোটার গভর্নরও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়াকে প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ, দ্রুত ও ন্যায্য তদন্তের অঙ্গীকার করেন।

রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ
গুলির ঘটনার পর হাজারো মানুষ তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিবাসন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ফেডারেল ভবনের সামনেও নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঠে নামানো হচ্ছে, যার ফলেই এমন প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তাঁরা তিনটি গুলির শব্দ শুনেছেন এবং পরে আহত অবস্থায় দেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার দৃশ্য দেখেছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গাড়ির ভেতর থেকে বের হওয়া আরেক যাত্রী রক্তে ভেজা অবস্থায় ছিলেন। একজন চিকিৎসক নিজেকে পরিচয় দিয়ে আহত নারীর কাছে যেতে চাইলে কর্মকর্তারা তাঁকে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক বক্তব্য
রেনে নিকোল গুড ছিলেন একজন মা ও কবি। তিনি চলচ্চিত্র ভালোবাসতেন এবং সৃজনশীল লেখালেখি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর মা জানান, তাঁর মেয়ে সম্ভবত ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং কোনোভাবেই কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

নীতিগত প্রেক্ষাপট
বর্তমান প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন রোধ ও অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বহিষ্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে অভিবাসন বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে প্রশিক্ষণের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে।